৩২শ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে ‘পেঁয়াজ সিন্ডিকেট’

লাগামহীন দর বৃদ্ধিতে অস্থির দেশের পেঁয়াজের বাজার। গত চার মাস ধরে অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে পেঁয়াজের মূল্য। এ সময়ের মধ্যে অনেকবার পেঁয়াজের দাম ওঠানামা করেছে।

সিন্ডিকেটের থাবায় পেঁয়াজের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে ৪০০ গুণ। এই অস্থিতিশীল বাজারে ভোক্তার ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৩২শ কোটি টাকা। এমন তথ্যই জানিয়েছে ভোক্তা অধিকার সংস্থা- কনসাস কনজুমার্স সোসাইটি (সিসিএস)। রবিবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানায় সংস্থাটি।

গত এক মাসে ভোক্তাদের কাছ থেকে দিনে ৫০০ কোটি টাকা করে হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে জানিয়ে লিখিত বক্তব্যে কনজুমার্স সোসাইটি জানায়, খুচরা বাজারে এখন পেঁয়াজের দর প্রতি কেজি ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা ছাড়িয়ে গেছে। এটি দেশের ইতিহাসে পেঁয়াজের সর্বোচ্চ দাম। অনেক জায়গায় ‘হালি’ দরে বেচা হচ্ছে পেঁয়াজ।

প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় পণ্যটি মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে। মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র মানুষের পক্ষে পেঁয়াজ এখন দুর্লভ। সিসিএস জানায়, গত কয়েকদিন ধরে অকল্পনীয়হারে পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে।

জুলাইয়ের ২ তারিখ থেকে হঠাৎ পেঁয়াজের দাম বাড়ানো হয়। তখন সরবরাহ ও আমদানি স্বাভাবিক থাকলেও এক দিনেই কেজি প্রতি ৩০ টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ৪৫ টাকা করা হয়। সেই থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত চার মাসে (১২২ দিন) মোট ২৪ বার পেঁয়াজের মূল্য ওঠানামা করেছে। সংস্থাটি আরও জানায়, পেঁয়াজের মূল্য ওঠানামার পেছনে শক্তিশালী একটি সিন্ডিকেট কাজ করছে। বাণিজ্যমন্ত্রী নিজেও স্বীকার করেছেন- পেঁয়াজের মূল্য নিয়ে সিন্ডিকেট কলকাঠি নাড়ছে।

চট্টগ্রামে সিন্ডিকেটের ১৩ সদস্যকে চিহ্নিত করা হলেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। যা ভোক্তাকে হতাশ, ব্যথিত ও ক্ষুব্ধ করে। দেশি পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধির কোনো যৌক্তিকতা নেই। দেশে বছরে ২৪ লাখ মেট্রিক টন পেঁয়াজের চাহিদা রয়েছে। এর মধ্যে ১৬ লাখ মেট্রিক টনের চাহিদা দেশি পেঁয়াজে পূরণ হয়। তাই সরবরাহ কম কিংবা আমদানি খরচ বাড়ার অজুহাত দিয়ে ভোক্তার সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছে।

এর মাধ্যমে শত কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে। গত ২ জুলাই থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত সিন্ডিকেট করে পেঁয়াজের দাম বাড়ানোয় গত চার মাসে ভোক্তার ক্ষতি হয়েছে তিন হাজার একশত ঊনআশি কোটি ছত্রিশ লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকা। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সিসিএস এর নির্বাহী পরিচালক পলাশ মাহমুদ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিসিএসের গবেষণা দলের সমন্বয়ক জয়ন্ত কৃষ্ণ জয় ও শরিফুল ইসলাম।

Sharing is caring!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *