মুক্তিযোদ্ধা খোকার কবর যেন দেশের মাটিতে হয় : খন্দকার মোশারফ

ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকার লাশ দেশে আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড.খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

সোমবার (৪ নভেম্বর) রাতে সাদেক হোসেন খোকার পরিবারের প্রতি শোক জানাতে এসে তিনি একথা কথা বলেন। এসময় তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্রহীনতার মধ্যে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে দেশ ত্যাগ করেন সাদেক হোসেন খোকা। আশা করি, মুক্তিযোদ্ধা খোকার লাশ দেশে আসবে। এই ব্যাপারে সরকারের সহযোগিতা প্রয়োজন। একজন মুক্তিযোদ্ধার কবর যেন দেশের মাটিতে হয়, এই ব্যাপারে সরকার যথাযথ সহযোগিতা করবে। মৃত খোকা যেন রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার না হন।’

ড.খন্দকার মোশাররফ হোসেন আরও জানান, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও জাতীয়তাবাদী পরিবার পক্ষ থেকে আমি এখানে শোক জানাতে এসেছি। তিনি জানান, সাদেক হোসেন খোকার ইচ্ছা ছিল দেশে ফেরার। কিন্তু সরকারের প্রতিহিংসার কারণে তিনি দেশে আসতে পারেননি। জীবন বাজি রেখে তিনি দেশের জন্য মুক্তিযুদ্ধ করেছিলেন। কিন্তু জীবিত অবস্থায় সেই দেশে ফিরতে পারেননি তিনি। একজন মুক্তিযোদ্ধার জন্য এর চাইতে দুঃখের আর কী হতে পারে!’

সাদেক হোসেন খোকা জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে

ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকা জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে।

নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের মেমোরিয়াল স্লোন ক্যাটারিং ক্যানসার সেন্টারে চিকিৎসাধীন খোকার শারীরিক অবস্থা পরিবর্তনের আশা ছেড়ে দিয়েছেন চিকিৎসকেরা। তাঁরা খোকার সব চিকিৎসা বন্ধ করে দিয়েছেন। খোকার জীবনের শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী অন্তিম সময়ে তাঁকে দেশে নেওয়াও পরিবারের পক্ষে সম্ভব হয়নি। পাসপোর্ট না থাকায় দেশে ফিরতে পারেননি তিনি। পরবর্তী সময়ে কী হবে, এ নিয়ে স্বজনেরা বিভ্রান্তিতে আছেন।

ক্যানসার চিকিৎসার জন্য ২০১৪ সালের ১৪ মে সপরিবারে নিউইয়র্ক আসেন খোকা। তারপর থেকে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিউইয়র্ক সিটির কুইন্সে থাকছেন তিনি।
ভিজিট ভিসার নিয়ম অনুযায়ী, ছয় মাস পর পর যাওয়া-আসা করে আমেরিকার ভিসা বৈধ রাখার নিয়ম। ২০১৭ সালে খোকা ও তাঁর স্ত্রী ইসমত হোসেনের পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। তাঁরা নিউইয়র্ক কনস্যুলেটে নতুন পাসপোর্টের জন্য আবেদন করেন। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নতুন পাসপোর্ট পাওয়ার ব্যাপারে কনস্যুলেট থেকে কোনো সদুত্তর দেওয়া হয়নি।

হাসপাতালে খোকার পাশে আগে থেকেই আছেন তাঁর স্ত্রী ইসমত হোসেন, মেয়ে সারিকা সাদেক, ছেলে ইশফাক হোসেন। বাবার সংকটাপন্ন অবস্থার খবর পেয়ে ঢাকা থেকে তাঁর বড় ছেলে ইশরাক হোসেনও নিউইয়র্কে ছুটে এসেছেন।

বাবার সবশেষ শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে ইশরাক হোসেন জানান, পুরো ফুসফুসে ক্যানসার ছড়িয়ে পড়েছে। অক্সিজেন দিয়ে তাঁর বাবাকে বাঁচিয়ে রাখা হয়েছে। লোকজন এলে কাউকে কখনো কখনো তিনি চিনতে পারছেন বলে মনে হচ্ছে। গত কয়েক দিন থেকে তাঁর চোখ দিয়ে অনবরত পানি ঝরছে।

ইশরাক হোসেন বলেন, ‘বড় হতাশা আর বিভ্রান্তির মধ্যে আছি। আব্বু-আম্মু দুজনেরই পাসপোর্ট নেই। কী করব, তাও বুঝে উঠতে পারছি না।’
প্রায় তিন সপ্তাহ আগে খোকার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ২৮ অক্টোবর তাঁর স্বাস্থ্যের আরও অবনতি ঘটলে তাঁকে আইসিইউতে নেওয়া হয়।

সাদেক হোসেন খোকার বড় ছেলে বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক কমিটির সদস্য প্রকৌশলী ইশরাক হোসেন জানান, গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় গত ১৮ অক্টোবর তাঁর বাবাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

খোকার অবস্থার অবনতির খবরে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির অনেকেই হাসপাতালে গিয়ে তাঁর খোঁজ-খবর রাখছেন।

বিএনপি ও পরিবারের পক্ষ থেকে খোকার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছে।

খোকার সুস্থতা কামনায় যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির উদ্যোগে দোয়ার আয়োজন করা হয়েছে।

Sharing is caring!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *