সজিনা পাতার উপকারিতা ও গুণাবলি – JanaJoruri

সজিনা পাতার গুণাবলি: সজিনা গাছের পাতাকে বলা হয় অলৌকিক পাতা। এটি পৃথিবীর সবচেয়ে পুষ্টিকর হার্ব। তাই সজিনা পাতাকে বলা হয় পুষ্টিগুণে ভরপুর সুপার ফুড এবং সজিনা গাছকে বলা হয় মিরাক্কেল ট্রি। আমরা অনেকেই সজনে সজবি হিসেবে খাই। কিন্তু আমরা অনেকেই জানি না যে সজনের সাথে সাথে সজনে পাতাও খাওয়া যায়। সজনে গাছের পাতা এবং ফল উভয়ের মধ্যেই বিপুল পরিমাণে পুষ্টি উপাদা্ন রয়েছে।

তাই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং জীবন ধারনের জন্য পুষ্টি উপাদান দুটোই পাওয়া যায়। এই জন্য অনেকেই বলে থাকেন সজিনা গাছ যাদের বাড়ীতে আছে তাদের বাড়ীতে ভিটামিনের ফ্যাক্টরি আছে

প্রতি গ্রাম সজনে পাতায়ঃ-

*একটি কমলার চেয়ে সাত গুণ বেশি ভিটামিন c রয়েছে।
*দুধের চেয়ে চার গুণ বেশি ক্যালসিয়াম ও দুই গুণ বেশি প্রোটিন রয়েছে।
*গাজরের চেয়ে চার গুণ বেশি ভিটামিন a এবং কলার চেয়ে তিন গুণ বেশি পটাশিয়াম বিদ্যমান।ফলে এটি অন্ধত্ব, রক্তস্বল্পতা সহ বিভিন্ন ভিটামিন ঘাটতি জনিত রোগের বিরুদ্ধে বিশেষ হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে।

সজিনা পাতার গুণাবলি: 

  • এতে প্রচুর পরিমাণে জিঙ্ক থাকে এবং পালংশাকের চেয়ে তিন গুণ বেশি আয়রণ বিদ্যমান, যা এ্যানেমিয়া দূরীকরণে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।
  • সজনে শরীরে কোলেস্টেরল এর মাত্রা নিয়ন্ত্রনেও অন্যতম অবদান রাখে।
  • মানুষের শরীরের প্রায় ২০% প্রোটিন যার গাঠনিক একক হলো এমাইনো এসিড। শরীরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মেটাবোলিজম এবং অন্যান্য শারীরবৃত্ত্বীয় কার্যাবলী পরিপূর্ণরূপে সম্পাদনে এমাইনো এসিড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। মানুষের শরীরের যে ৯ টি এমাইনো এসিড খাদ্যের মাধ্যমে সরবরাহ করতে হয়, তার সবগুলোই এই সাজনার মধ্যে বিদ্যমান।
  • এটি শরীরে সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রনের মাধ্যমে ডায়াবেটিসের মত কঠিন রোগের বিরুদ্ধে কাজ করে থাকে।
  • নিয়মিত দৈনিক সেবন শরীরের ডিফেন্স মেকানিজমকে আরো শক্তিশালী করে এবং ‘ইমিউনিটি স্টিমুল্যান্ট’ হওয়ার দরুন এটি ‘এইডস’ আক্রান্ত রোগীর ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
  • এটি শরীরের হজম ক্ষমতা বৃদ্ধি করে পুষ্টিবর্ধক হিসেবে কাজ করে।
  • শরীরের ওজন কমাতেও ব্যায়ামের পাশাপাশি এটি বেশ কার্যকরী ভুমিকা পালন করে থাকে।
  • এটি মায়ের বুকের দুধ বৃদ্ধিতে সহায়তা করে কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই। পাতা থেকে তৈরি এক টেবিল চামচ পাউডারে ১৪% প্রোটিন, ৪০% ক্যালসিয়াম, ২৩% আয়রণ বিদ্যমান, যা ১ থেকে তিন বছরের শিশুর সুষ্ঠু বিকাশে সাহায্য করে। গর্ভাবস্থায় এবং বুকের দুধ খাওয়ানোকালীন সময়ে ৬ টেবিল চামচ পাউডার একজন মায়ের প্রতিদিনের আয়রণ এবং ক্যালসিয়ামের চাহিদা পূরণ করে থাকে।
  • এটির এন্টি-ব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান। এটি যকৃত ও কিডনী সুস্থ্য রাখতে এবং রূপের সৌন্দর্য বর্ধক হিসেবেও কাজ করে থাকে।
  • সাজনাতে প্রায় ৯০টিরও বেশি এবং ৪৬ রকমের এন্টি-অক্সিডেন্ট বিদ্যমান।
  •  এতে ৩৬ টির মত এন্টি-ইনফ্ল্যামমেটরি বৈশিষ্ট্য আছে। এছাড়াও এটি অকাল বার্ধক্যজনিত সমস্যা দূর করে এবং ক্যান্সারের বিরুদ্ধে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

তাছাড়া সজিনাতে প্রতি ১০০ গ্রামে খাদ্যপোযোগী পুষ্টি উপাদান সমুহঃ-

জ্বলীয় অংশ = ৮৩.৩ গ্রাম
খনিজ        = ১.৯ গ্রাম
আঁশ          = ৪.৮ গ্রাম
খাদ্যশক্তি    = ৬০ কিলোক্যালোরি
প্রোটিন       = ৩.২ গ্রাম
চর্বি           = ০.১ গ্রাম
শর্করা        = ১১.৪ গ্রাম
ক্যলশিয়াম  = ২১.০ মিলিগ্রাম
লোহা        = ৫.৩ মিলিগ্রাম
ক্যারোটিন  = ৭৫০ মাইক্রোগ্রাম
ভিটামিন বি ১ = ০.০৪ মিলিগ্রাম
ভিটামিন সি = ৪৫.০ মিলিগ্রাম

আরো কিছু সজিনা পাতার গুণাবলি:

মুখে রুচি বাড়াতে সজিনা পাতা:

সজনে ডাঁটার মতো এর পাতাতেও রয়েছে যথেষ্ট পরিমাণ পুষ্টিগুণ।  এতে মুখের রুচি বাড়ে।

সজিনা পাতা শ্বাসকষ্ট ও হেচকি কমায়:

সজনে পাতার রস খেলে শ্বাসকষ্ট সারে ও হেঁচকি ওঠা বন্ধ হয়। তাছাড়া পাতাকে অনেকক্ষণ সিদ্ধ করে তা থেকে যেই ঘন রস পাওয়া যায়  তার সাথে আদার রস মিশিয়ে খেলে পেটের গ্যাস দূর হয়ে যায়।

সজিনা পাতা উচ্চ রক্তচাপ কমায়:

সজনে পাতার টাটকা রস দু’বেলা খাবাবের ঠিক আগে ২-৩ চা চামচ করে খেলে উচ্চ রক্ত চাপ কমে যায়।

সজিনা পাতা ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে:

সজনা পাতা আমাদের দেহ থেকে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া দূর করে শরীরকে রোগ মুক্ত রাখতে সাহায্য করে।

এই সজনে পাতা আমরা নানাভাবে খেতে পারি। সজনে পাতা ভর্তা করে, ভেঁজে, তরকারি বানিয়ে বা খিচুরী রান্নার সময় সজনে পাতা দিয়ে দেওয়া যেতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *