সকালে হাঁটার উপকারিতা

সকালে হাঁটার উপকারিতা জানলে আপনিও হাঁটবেন। প্রতিদিন সকালে মাত্র ২০-৩০ মিনিট হাঁটা সারা দিন ভালো কাটাতে সাহায্য করে এবং স্বাস্থ্য ভালো রাখে।

সকালে হাঁটার নিয়ম:

হাঁটতে যাওয়ার আগে লক্ষ্য রাখুন আপনার পোশাকটি যথেষ্ট আরামদায়ক এবং হাঁটার উপযোগী কিনা। ঢিলে ঢালা পোশাক পরে নিন।

হাঁটার জন্য আরামদায়ক জুতো। সঙ্গে খাবার পানি রাখুন। প্রতি ১৫ মিনিট পর পর পানি খান অল্প করে। তাহলে সকালের হাঁটার অভ্যাসটা উপভোগ্য হয়ে উঠবে।

সকালে হাঁটার স্বাস্থ্য উপকারিতা:

দীর্ঘজীবী:

প্রতিদিন সকালের মর্নিং ওয়ার্কের সময় বিশুদ্ধ বাতাস ও সুন্দর পরিবেশ আপনার হৃৎপিণ্ড ও মনের কর্মক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে। হাঁটার সময় হৃৎপিণ্ড শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে বিশুদ্ধ রক্ত সঞ্চালন করে। ফলে প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সুস্থ ও সচল থাকে এবং মানুষ দীর্ঘজীবী হয়।

স্মৃতিশক্তি:

সকালে প্রতিদিন কিছুক্ষণ করে হাঁটলে ফুসফুসে তাজা বাতাস প্রবেশ করার সুযোগ পায়। এই বাতাস থেকে অক্সিজেন সংগ্রহ করে হৃৎপিণ্ড রক্তকে বিশুদ্ধ করে এবং অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্ত মস্তিষ্কে সরবরাহ করে। ফলে মস্তিষ্ক সচল থাকে এবং স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি পায়।

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ (সকালের হাঁটার উপকারিতা):

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে সকালে নিয়মিত হাঁটলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে। নিয়মিত সকালে হাঁটলে রক্তের লোহিত কণিকাগুলো থেকে চর্বি ঝরে যায়। এছাড়াও হাঁটার সময় রক্তের ইনসুলিন ও গ্লুকোজ ক্ষয় হয়। ফলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রিত থাকে।

ত্বক:

প্রতিদিন সকালে হাঁটলে প্রচুর পরিমাণে ঘাম হয়। ফলে ত্বকের লোমকূপ গুলো খুলে যায় এবং শরীরের দূষিত পদার্থগুলো ঘামের মাধ্যমে বের হয়ে যায়। ফলে ত্বক উজ্জ্বল ও লাবন্যময় দেখায়।

মেদ কমায়:

নিয়মিত সকালে হাঁটলে মেদ ভুড়ির হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। হাঁটলে প্রচুর ক্যালরি ক্ষয় হয়। ফলে নিয়মিত কম ক্যালরির খাবার খাওয়ার পাশাপাশি প্রতিদিন সকালে অন্তত ৩০ মিনিট করে হাঁটলে মেদ কমে এবং দেহের আকৃতি সুন্দর হয়।

দৃষ্টি শক্তি( সকালের হাঁটার উপকারিতা):

প্রতিদিন কম্পিউটারের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে আমাদের চোখের বারোটা বেজে যাচ্ছে। চোখকে কিছুটা আরাম দিতে এবং চোখের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে প্রতিদিন সকালে হাঁটার বিকল্প নেই। গবেষণায় দেখা গেছে যে সকালে খালি পায়ে ঘাসের উপর হাঁটলে দৃষ্টিশক্তি ভালো থাকে।

আরো পড়ুন: কর্পূরের উপকারিতা

মানসিক চাপ (সকালের হাঁটার উপকারিতা) :

প্রতিদিন হাঁটতে বেড়িয়ে সকালের সুন্দর স্নিগ্ধতা উপভোগ করতে কার না ভালো লাগে বলুন! প্রতিদিন সকালের সুন্দর পরিবেশ ও কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি আপনার মন ভালো করে দিতে পারে নিমিষেই। প্রতিদিন সকালে কিছুক্ষণ হেটে আসলে সারাদিন কাজের উৎসাহ বাড়ে এবং মানসিক চাপ কমে যায়।


রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা:

প্রতিদিন সকালে হাঁটলে শরীরের প্রতিটি কোষে বিশুদ্ধ রক্ত এবং অক্সিজেন পৌঁছে যায়। ফলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে এবং সহজেই অসুখে পরার প্রবণতা কমে।

সকালে হাঁটার উপকারিতা:

হাঁটার উপকারিতা বলে শেষ করা যাবে না।স্বাস্থ্য গবেষণায় দেখা গেছে-
১.হাঁটা রক্তচাপ কমায়
২.হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়
৩.অতিরিক্ত মেদ কমায়
৪.রক্তের সুগার কমায়
৫.ওজন কমায় ও নিয়ন্ত্রণ করে
৬.ব্লাড প্রেসার, কোলেস্টেরল, আন্থ্রাইটিস, ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রন করে
৭.হার্টের সমস্যা,স্ট্রোক হবার ঝুঁকি কমায়
৮.হাঁড় শক্ত করে
৯.রক্ত চলাচল বৃদ্ধি করে

আরো পড়ুন: আখরোটের উপকারিতা

১০.ফলে হার্ট ভালো থাকে, শরীরের সামগ্রিক শক্তি বা ফিটনেস বাড়ে
১১.ক্যান্সার হবার সম্ভাবনা কমায়
১২.মাসেলের শক্তি বাড়ায়
১৩.হেলদি বিএম আই ধরে রাখে বা অর্জন করা যায়
১৪.হেলদি ওয়েস্ট টু হিপ রেসিও ধরে রাখে বা অর্জন করা যায়,
১৫.মেটাবলিজম বাড়ায়
১৬.শরীরের সমস্ত অঙ্গ প্রত্যঙ্গ ভালো থাকে
১৭.তারুণ্য ধরে রাখে
১৮.আয়ু বাড়ায়
১৯.ব্রেইনের কার্যকারিতা বাড়ায়
২০.ভালো ঘুম হয়
২১.স্মরণ শক্তি বাড়ায়
২২.মন প্রফুল্ল রাখে, মানসিক অবসাদ দূর করে ও মন ভালো করে
২৩.মানসিক শক্তি বৃদ্ধি করে ও আত্মবিশ্বাস বাড়ায়
২৪.ভাল কলেষ্টেরল এইচডিএল বাড়ায় আর মন্দ কলেষ্টেরল এলডিএল কমায়
২৫.রক্ত নালীর দেয়ালে চর্বি জমতে দেয়না
২৬.হাঁটলে টাইপ-২ ডায়াবেটিস হওয়ার সম্ভাবনা কমে
২৭.ডায়াবেটিস হয়ে থাকলে তা নিয়ন্ত্রণে রাখে
২৮.হাঁটার ফলে পেশীর শক্তি বাড়ে
২৯.হাঁটা হৃদযন্ত্র ও ফুসফুসের কর্মক্ষমতা বাড়ায়
৩০.শরীরের ওজন ঠিক থাকে আর শরীর থাকে ফিট

সচরাচর জিজ্ঞাস্য প্রশ্ন উত্তর:

শুধু কি ডায়াবেটিস, ব্লাড প্রেসার, হৃদরোগ হলেই হাঁটব?

ডাক্তার সাহেব বলেন যে ওষুধ খাওয়ার পাশাপাশি আপনাকে হাঁটতে হবে, তখন আমরা হাঁটি। পারলে দৌড়ানোর চেষ্টা করি।কিন্তু অসুখ হলেই হাঁটব এটা ঠিক নয়।সব সুস্থ মানুষের সুস্থতাকে ধরে রাখার জন্য হাঁটা আবশ্যক।
সকালে হাঁটার স্বাস্থ্য উপকারিতা চলুন সবাই হাঁটি

কতক্ষন এবং কতদিন হাঁটবেন?

হাঁটার উপকার পেতে অবশ্যই নিয়মিত এবং সপ্তাহে অন্তত চার বা পাঁচ দিন হাঁটতে হবে, তবে সপ্তাহে সাত দিন হাঁটতে পারলে তা হবে সোনায় সোহাগা। হাঁটতে হবে ৩০/৪০ থেকে ৬০ মিনিট ধরে।

কখন হাঁটবেন ?

  • হাঁটা হাঁটির সর্বোত্তম সময় হচ্ছে ভোর বেলা, যারা নামাজ পড়েন তাদের জন্য ফজরের নামাজের পর।
  • আপনার সুবিধামত সময়ে হাঁটতে পারেন। তবে শরীরের কথা চিন্তা করলে বিকালে হাঁটা সবচেয়ে ভালো।  তবে
  • আপনি যখনি সময় পান সুবিধা মত সময়ে হেটে নিবেন। চেষ্টা করবেন প্রতিদিন একই সময়ে হাঁটতে।

কোথায় হাঁটবেন ?

চেষ্টা করুন সুন্দর, দূষণ মুক্ত পরিবেশে হাঁটতে।

হাঁটার সময় অন্যান্য কাজ:

আপনি ইচ্ছে করলে হাঁটার সময়টুকুতে পরিকল্পিত ভাবে অন্যান্য কাজও সেরে নিতে পারেন। যারা লেখালেখি করেন তারা হাঁটতে হাঁটতে মনে মনে বিভিন্ন টপিক্স নিয়ে চিন্তা করতে পারেন। মোবাইলে রেকর্ডিং করে কুরআন, লেকচার শুনতে শুনতে হাঁটতে পারেন। যে কাজটি করা সম্পূর্ণ নিষেধ তা হলো টেনশন। সর্বাবস্থায় টেনশন মুক্ত থাকতে হবে।

আরো পড়ুন: পাথরকুচি পাতার উপকারিতা

খালি পায়ে হাটা:

খালি পায়ে হাটা ও দৌড়ানো অনেক ক্ষেত্রেই জুতা পরে হাটার চেয়ে বেশি উপকারী।না।

শেষ কথা:

অনেক অসুস্থ মানুষও এই হাঁটাকে ব্যায়াম হিসেবে নিতে পারেন। শুরু হোক ধীরে ধীরে। প্রথম দিন ১০-১৫ মিনিট। এরপর গতি বাড়ান, সময় বাড়ান। ২০-৩০ মিনিট। এরপর শীতল হন ১০ মিনিট। পাঁচ-১০ মিনিট ধীরে হেঁটে শীতল হন। ব্যয়বহুল জিম থেকে নিখরচায় হাঁটা অনেক ভালো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *