সকালে উঠে খালি পেটে কোন খাবার বেশি স্বাস্থ্যকর? – জানা জরুরি

শরীর ভালো রাখতে এবং সুস্থ থাকতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল খাবার। খাবার ঠিকঠাক না পেলে শরীর পুষ্ট হবে না। ফলে সেখান থেকে হতে পারে আরও নানা বিপত্তি। দৈনন্দিন জীবনে আমরা সবাই ব্যস্ত। সারাদিন ছুটে চলেছি। ফলে ঠিক সময়ে খাওয়ার কথা আমাদের মনে থাকে না। খিদে পেলে যা খুশি তাই খেয়ে নিই। সেখান থেকেই গ্যাস-অম্বল, হজম না হওয়ার মতো নানাবিধ সমস্যা দেখা যায়। রাতের খাবারের আর ব্রেকফাস্টের মধ্যে দীর্ঘ একটা সময়ের বিরতি থাকে। আর এই সময়ে ঠিকঠাক খাবার খাওয়া খুব জরুরি। কারণ খালি পেটে সঠিক খাবারই আমাদের সারাদিনের হজম ক্রিয়া ঠিক রাখে। বলা যায় শরীর সুস্থ রাখার এটাই হল চাবিকাঠি।

দেখে নিন, সকালে উঠে খালি পেটে কোন খাবার বেশি স্বাস্থ্যকর?

তাজা ফল– আমাদের অনেকের মধ্যেই এই ভুল ধারণা আছে যে ফল কখনই খালি পেটে খেতে নেই। খেলেই অ্যাসিড হয়। আর তাই দুপুরে খাওয়ার পর ফল খাওয়া উচিত। কিন্তু এই ভাবনা একেবারেই ভুল। ফলের মধ্যে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন, ফাইবার, জল থাকে। মোট কথা ফল পুষ্টিতে পূর্ণ। আর তাই সকালে খালি পেটে একটা আপেল কিংবা ন্যাশপাতি, কলা, শসা, পেঁপে যাই খাওয়া হোক না কেন তা শরীরের ডিটক্সিফিকেশনে সাহায্য করে। সেই সঙ্গে শক্তি উৎপন্ন করে। যার ফলে ওজনও কমে আর সারাদিন কাজের পরও ক্লান্তি আসে না।

আরো পড়ুনঃ মটরশুঁটির উপকারিতা ও পুষ্টিগুণ

ভেজানো আমন্ড- আমন্ডের মধ্যে প্রচুর পরিমানে ম্যাগনেসিয়াম, ভিটামিন ই, প্রোটিন, ফাইবার, ওমেগা-৩, ওমেগা-৬ ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে। আর তাই যদি আমন্ড ঠিকভাবে না খাওয়া হয় তাহললে তার পুষ্টিগুণ থেকে বঞ্ছিত থাকবেন। সবসময় আমন্ড আগের রাতে ভিজিয়ে তবেই খাবেন। আর সকালে খালি পেটে আমন্ড খেলে তার অনেক উপকার।

ডিম- ডিমের পুষ্টিমূল্য অনেক। আর তাই যেভাবে খুশি ডিম খেতেই পারেন। খালি পেটে একটা ডিম সেদ্ধ খেতে পারলে উপকারই হবে। এমনকী সারাদিন খুব বোশি খিদে পাবে তা নয়। স্টাডি বলছে, যখন আপনি সকালে উঠে একটা ডিম সেদ্ধ খাবেন তখন কিন্তু সারাদিনের মোট খাবারের থেকে একটা ভালো পরিমাণ ক্যালোরি যায় আপনার শরীরে। আর যার ফলে সারাদিন তেমন ক্যালোরির চাহিদা থাকে না। এতে ফ্যাটও ঝরে তাড়াতাড়ি।

গরম জল এবং মধু-সকালে উঠেই খালি পেটে লেবু আর মধুর জল অনেকেই খান। কিন্তু শুধু যদি মধু দিয়ে খান তারও উপকার অনেক। মধুর মধ্যে শরীরের প্রয়োজনীয় খনিজ, ভিটামিন, উৎসেচক থাকে। যা শরীরকে ভেতর থেকে পরিষ্কার রাখে। আর খালি পেটে খেলে মেটাবলিজম রেট বাড়ে। শরীর থেকে টক্সিন বের হয়। এবং যাবতীয় শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া ঠিক থাকে।

আরো পড়ুনঃ শিশুদের উচ্চতা বৃদ্ধির জন্য সাহায্য করে এই খাবারগুলো

ওটমিল পরিজ- ব্রেকফাস্টে ওটস অনেকেই খান। কেউ দুধ দিয়ে কেউ আবার টক দই দিয়ে। কিন্তু যদি পরিজ বানিয়ে নিতে পারেন তাহলে তা শরীরের জন্য ভালো। গরম জলে ওটস আর পাকা কলা দিয়েই বানাতে পারেন পরিজ। এরফলে শরীরে হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিডের মাত্রা থাকবে নিয়ন্ত্রণে। কমবে কোলেস্টেরল। পরিজ বানাতে আগে শুকনো কড়াইতে ওটস নেড়ে নিন। এবার ওর মধ্যে দুকাপ জল দিন। এবার কিছুটা ঘন হলে হাফ কাপ দুধ দিন। এবার দু চামচ চিনি বা মধু দিন। বেশ ঘন হয়ে এলে নামিয়ে ফেলুন। ঠান্ডা হলে উপরে আমন্ড, কাজু ছড়িয়ে খান। ইচ্ছে হলে কলা, আপেল দিতে পারেন।

পেঁপে ও তরমুজ- এই দুই ফলের মধ্যে ফ্যাটের লেশমাত্র নেই। কিন্তু পুষ্টিতে ভরপুর। সেইসঙ্গে ওজনও কমায় খুব তাড়াতাড়ি। আর তাই সকালে উঠে একবাটি পেঁপে কিংবা তরমুজ খেলে শরীর সারাদিন থাকবে তরতাজা। এমনকী প্রয়োজনীয় সুগারেরও চাহিদা পূরণ হবে। ফলে সারাদিন মিষ্টি কম খাওয়া হবে এবং মিষ্টি খাওয়ার প্রবল ইচ্ছেটাও থাকবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *