শিমের উপকারিতা ও অপকারিতা

আসসালামু আলাইকুম, শিম একটি শীতকালীন সবজি।শীমের রয়েছে অনেক উপকারিতা এবং পুষ্টিগুণ। আজকে আমরা জানবো,শিমের উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে।

চলুন জেনে নিই,শিমের উপকারিতা ও অপকারিতা:

শিমের পুষ্টিগুণঃ

প্রতি ১০০ গ্রাম শিমে
১। ৮৬.১ গ্রাম জলীয় অংশ আছে
২। খনিজ উপাদান রয়েছে ০.৯ গ্রাম
৩। আঁশ ১.৮ গ্রাম
৪।৪৮ কিলো ক্যালোরি।
৫। ৩.৮ গ্রাম প্রোটিন
৬। ৬.৭ গ্রাম শর্করা
৭। ২১০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম
৮। ১.৭ মিলিগ্রাম লৌহ পাওয়া যায়।

শিমের উপকারিতাঃ

১।শিমে ক্যালরির পরিমাণ কম থাকে। কিন্তু এতে আছে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন, ফাইবার, ভিটামিন সি, জিংক ও মিনারেল। এগুলো শরীরের জন্য অত্যাবশ্যকীয়।

২।শিমের মধ্যে থাকা খনিজ চুল পড়া রোধে সহায়তা করে এবং চুলের স্বাস্থ্য সুরক্ষায়ও উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে।

৩।শিম পরিপাকের জন্য খুব ভালো। শিমে প্রচুর পরিমাণ ডায়েটারি ফাইবার থাকে তাই কোষ্ঠকাঠিন্যে আক্রান্ত রোগীদের জন্য শিম খুবই উপকারী।

আরো পড়ুন: লাউয়ের উপকারিতা ও অপকারিতা

৪।এ ছাড়া দেহ ঠান্ডা রাখতেও শিম খাওয়া যায়।
শিম রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়। এছাড়া শিম কোলন ক্যানসার প্রতিরোধেও কার্যকর।

৫।নিয়মিত শিম খেলে ত্বক ভালো থাকে এবং ত্বকের রোগবালাইও দূরে থাকে।

৬।গর্ভবতী মহিলা ও শিশুর অপুষ্টি দূর করতে শিম বেশ উপকারী।

৭।শিমে সিলিকনজাতীয় উপাদান থাকে যা হাড় সুগঠিত করে।

৮।শিমের মধ্যে থাকা ফাইবার বা আঁশ কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। তাই নিয়মিত শিম খেলে হৃদরোগের ঝুঁকি অনেকটাই কমে আসে।

৯।তাছাড়া শিমের বিচিতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং অ্যান্টি ইনফ্ল্যামেটরি উভয় উপাদানই রয়েছে যা হৃদরোগ নিয়ন্ত্রণ করে।

১০।শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতেও সাহায্য করে শিম।

১১।ক্লোরোফাইল ক্যান্সারের প্রতিকার হিসাবে কাজ করে থাকে। শিমের মধ্যে প্রচুর পরিমানে ক্লোরোফাইল রয়েছে। কোলন ক্যান্সার প্রতিকার করে থাকে এই সবজি।

১২।শিমের ফুল রক্ত আমাশয় দূর করতে সাহায্য করে।

১৩।শিমের দানায় ভিটামিন বি সিক্স ভালো পরিমাণে থাকায় তা স্নায়ুতন্ত্র সুস্থ রাখে ফলে স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি পায়।

১৪।শিম মাইগ্রেনের ব্যথা কমাতে ও এলার্জির সমস্যার প্রতিকারক হিসেবে বেশ কার্যকর।

আরো পড়ুন: কলমি শাকের উপকারিতা

শিমের অপকারিতা:

শিমে আছে সামান্য পরিমাণে ক্ষতিকর সায়ানোজেনিক গ্লুকোসাইড। শুকনো শিমে এ উপাদানের পরিমাণ অপেক্ষাকৃত বেশি।

অনেকেই শিমের বিচি আলাদাভাবে রান্না করে খেতে পছন্দ করেন। সেক্ষেত্রে শিমের শুকনো বিচি রান্না করার সময় অবশ্যই একবার পানি পরিবর্তন করে নেয়া উচিত।

এছাড়াও পুষ্টিসমৃদ্ধ হলেও বেশি পরিমাণে শিম  খাওয়া কখনোই উচিত নয়।  কেননা, অধিক পরিমাণে শিম খেলে অনেক সময় বমি বমি ভাব হতে পারে।

তবে সামান্য এ ক্ষতির কারণে শিম খাওয়া ছেড়ে দেবেন না। কারণ, পরিমান মতো খেলে সব সবজিতেই পাওয়া যায় কম বেশি স্বাস্থ্য উপকারিতা।

আরো পড়ুন: লাল শাকের উপকারিতা

আশা করি, শিমের উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে জেনে উপকৃত হবেন।

Image by LoggaWiggler from Pixabay 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *