লাউয়ের উপকারিতা ও অপকারিতা

আসসালামু আলাইকুম। আজকে আমরা জানবো, লাউয়ের উপকারিতা ও অপকারিতা নিয়ে।

লাউ কি আমরা সবাই কম বেশি জানি।তাও বলে রাখি,লাউ হচ্ছে এক প্রকার সবজি।আর এই লাউয়ের রয়েছে অনেক উপকারিতা এবং পুষ্টিগুণ।

লাউয়ের ইংরেজি নাম Bottle gourd.এটি সাধারণত শীতকালীন সবজি।সারা বছর পাওয়া যায়। লাউ সুস্বাদু, পুষ্টিকর ও ভেষজ গুন সম্পন্ন সবজি।

লাউয়ের পুষ্টিগুণ:

১।প্রতি ১০০ গ্রাম লাউয়ে রয়েছে জলীয় অংশ ৯৬.১০ গ্রাম,
২।আঁশ ০.৬ গ্রাম,
৩।খাদ্যশক্তি ১২ কিলোক্যালরি
৪।প্রোটিন ০.২ গ্রাম
৫।চর্বি ০.১ গ্রাম
৭।শর্করা ২.৫ গ্রাম।
৮। খনিজ উপাদানের মধ্যে ক্যালসিয়াম ২০.০ মিলিগ্রাম,
৯।আয়রন ০.৭ মিলিগ্রাম

এইছাড়াও রয়েছে সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, জিংক, ফসফরাস ও সেলেনিয়াম রয়েছে। এ ছাড়া ভিটামিন এ, বি-কমপ্লেক্স সি ছাড়াও এতে ফলিক এসিড, ওমেগা-৬ ফ্যাটি এসিড আছে।

লাউয়ের উপকারিতা ও অপকারিতা:

লাউয়ের উপকারিতাঃ

১।লাউয়ে প্রচুর পানি থাকে, যা দেহের পানির পরিমাণ ঠিক রাখতে সাহায্য করে। ডায়রিয়াজনিত পানিশূন্যতা দূর করতে সাহায্য করে।

২।জ্বরের সময় লাউয়ের কচি শাক ভেজে খেলে মুখে রুচি হয়।

৩।লাউ খেলে ত্বকের আর্দ্রতা ঠিক থাকে।

৪।যারা প্রসাবের সংক্রমণজনিত সমস্যায় ভুগছেন তাদের জন্য লাউ একটি ভালো সবজি।

৫।লাউ খেলে কিডনির কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

৬।উচ্চ রক্তচাপবিশিষ্ট রোগীদের জন্য এটি আদর্শ সবজি লাউ।

৭।লাউ কোষ্ঠকাঠিন্য, পাইলস, পেট ফাঁপা প্রতিরোধে সহায়ক।

আরো পড়ুন: কলমি শাকের উপকারিতা

৮।লাউয়ে রয়েছে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস, যা দেহের ঘামজনিত লবণের ঘাটতি দূর করে। দাঁত ও হাড়কে মজবুত করে।

৯।ক্যালরির পরিমাণ কম থাকায় ডায়াবেটিস রোগীদের জন্যও লাউ যথেষ্ট উপকারী।

১০।শরীরের ক্ষতিকারক কোলেস্টেরল দূর করতে সাহায্য করে লাউ।

১১।লাউয়ে রয়েছে ভিটামিন বি, ফাইবার ও মিনারেল যা হজমের গণ্ডগোল দূর করে। লিভার সুস্থ রাখতেও লাউয়ের ভূমিকা অপরিসীম।

১২।লাউয়ের রসের সঙ্গে আদা ও গোলমরিচের গুঁড়া মিশিয়ে পান করুন। এটি শ্বাসপ্রশ্বাসের সমস্যা দূর করবে।

১৩।প্রতিদিন সকালে খালি পেটে লাউয়ের রস পান করলে মেদ জমবে না পেটে।

১৪।লাউয়ে প্রচুর ফাইবার আছে,যা খিদে কমায়,তাই ওজন কমে।

১৫।নিউরো ট্রান্সমিটার মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বাড়ায়।ফলে স্ট্রেস,ডিপ্রেশন সহ মেন্টাল ডিজঅর্ডারে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা কমে।

১৬।ভিটামিন বিপাকে সহায়তা করে।

১৭।অদ্রবণীয় ফাইবার অর্শ্ব,পেট ফাঁপা,পাইলসের সমস্যা দূর করে।

১৮।ডায়াবেটিস রোগীদের ডায়েটে লাউ রাখলে হার্টের স্বাস্থ্য ভালো হয় ও রক্তে সুগার লেভেল স্বাভাবিক থাকে।কারণ লাউ ভিটামিন সি এর ভালো উৎস এবং এ্যান্টি অক্সিডিন্ট সমৃদ্ধ ।

১৯।২৫০ গ্রাম লাউ খেলে ২৫ এমজি ভিটামিন – সি পাই,যা সারা দিনের চাহিদার প্রায় অর্ধেক।

২০।লাউয়ের প্রাকৃতিক প্রোটিন ও ভিটামিন সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে,ব্রণের প্রতিরোধ করে,ধরুন মাত্রাতিরিক্ত ঘাম দূর করে,আয়ু বৃদ্ধি করে।

২১।শীতের শুরুতে এর রস খেলে মেয়েদের ইউরিনারিট্রাক্ট ইনফেকশনের সম্ভাবনা কম থাকে।

২২।প্রতিদিন লাউয়ের রসের সাথে লেবুর রস খেলে রোগ – প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে।ফলে সংক্রমণের ঝুঁকি কমে যায়।

আরো পড়ুন: লাল শাকের উপকারিতা

২৩।জন্ডিস রোগীদের জন্য উপকারী।মূত্র নালির সংক্রমণ,কিডনি ফেইলিউর এর বিরুদ্ধে কাজ করে।

২৪।গরম কালে আমাদের পাচন তন্ত্র দুর্বল থাকে,তখন লাউ উপকারী। লাউ গা গলানো ও বমি ভাব দূরর করে।পাচন তন্ত্র ও তন্ত্র ঠিক রাখে।

২৫।লাউ যকৃত ভালো রাখে ও যকৃতের ফোলা রোধ করে।

২৬।ভিটামিন সি রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা ঠিক রাখে,মস্তিষ্ক সচল রাখে,শরীরে কোলাজেন ( যা একটি প্রোটিন,শরীরের টিসুকে শক্তিশালী করে ) উৎপন্ন করে।

২৭।লাউয়ের দস্তা, ভিটামিন সি ত্বকের অকাল বার্ধক্য ও কুচকে যাওয়া রোধ করে,স্নায়ু ভালো রাখে,সর্দি,কাশি,জ্বর রোধ করে।

২৮।লাউ শাকে প্রচুর আয়রন রয়েছে। রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ এবং লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা বাড়িয়ে রক্ত তৈরিতে সাহায্য করে।

সবকিছুর উপকারের সাথে কিছু ক্ষতিকর দিক থাকে,তেমনি লাউয়েরও রয়েছে কিছু অপকারিতা।

লাউয়ের অপকারিতাঃ

১।যদি লাউয়ের রস তেঁতো হয় তাহলে তা পান করলে শরীরের পক্ষে খুব টক্সিক বা বিষাক্ত প্রতিক্রিয়া হতে পারে এবং মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। বিভিন্ন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া যেমন ডায়রিয়া বা আন্ত্রিক, বমিভাব, অস্বাচ্ছন্দ্য, বা অন্য কোনও ধরনের অস্বাচ্ছন্দ্য দেখা দিতে পারে। সুতরাং, খাওয়ার আগে রসের স্বাদ চেখে নেওয়া জরুরি।

২।লাউয়ের তিক্ত রস পান করলে বিভিন্ন রকম সমস্যা যেমন ডুয়োডেনাইটিস (ডুওডেনামে প্রদাহ), গ্যাস্ট্রিক ইরোশন (পাকস্থলীর মিউকোসা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া), গ্যাস্ট্রিক আলসার, এবং ইসোফ্যাসগাইটিস (খাদ্যনালীর প্রদাহ) দেখা দিতে পারে। তেঁতো লাউয়ের রস খেলে আপার গ্যাস্ট্রোইনটেস্টিনাল এলাকায় রক্তপাত পর্যন্ত হতে পারে।

৩।অতিরিক্ত লাউয়ের রস পান করলে হাইপোগ্লাইসেমিয়া (রক্তে কম শর্করা) হতে পারে।

৪।কিছু মানুষের ক্ষেত্রে লাউয়ের রস খেলে অ্যালার্জির উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

আরো পড়ুন: করলার উপকারিতা ও অপকারিতা

ও হ্যাঁ লাউকে আবার আমরা সবজি হিসেবে,শাক হিসেবে খেতে পারি।আবার সিদ্ধ করে দুধে দিয়ে নাস্তার মতও খেতে পারি।।

আশা করি সবাই লাউয়ের পুষ্টিগুণ,উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে বুঝতে পেরেছেন এবং উপকৃত হয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *