রসুন চাষ পদ্ধতি – জানা জরুরি

রসুন চাষ পদ্ধতি: রসুন পৃথিবীর অনেক প্রাচীন একটি ফসল। আমাদের দেশে মসলা হিসেবে রসুনের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। রসুন মসলা ধরনের ফসল। তবে রসুনকে শুধু মসলাই বলা যাবে না। কারণ রসুনে অনেক ঔষধী গুণ রয়েছে। রসুন হেকিমি শাস্ত্রেও ঔষধ হিসাবে ব্যবহার হয়ে আসছে।

রসুনের উপকারিতা:

১. রসুন উচ্চরক্তচাপ নিয়ন্ত্রন করতে সাহায্য করে।

২. রক্তে কোলেস্টেরল স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হলে কাঁচা রসুন চিবিয়ে খেলে উপকার পাওয়া যায়।

৩. সর্দি কাশিতেও রসুন উপকারী।

৪. শিশু কিংবা বড়দের দাঁতে ব্যথা হলে এক কোষ রসুন চিবালে দাঁতে ব্যথা উপশম হয়।

৫. রসুন ক্যান্সার প্রতিরোধ করে।

৬. রসুনে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমানে আমিষ, ক্যালসিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, ভিটামিন বি৬ এবং ভিটামিন সি।

৭. রসুন হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে।

৮. নিয়মিত রসুন খেলে ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাসজনিত রোগের ঝুঁকি কমে যায়।

রসুন চাষ পদ্ধতি:

জলবায়ু ও মাটি:


  •  রসুন উষ্ণ ও আর্দ্র জলবায়ুতে ভাল জন্মে।  পলি দোআঁশ মাটি অর্থাৎ জৈব পদার্থ সমৃদ্ধ ও সহজেই গুড়া হয় এমন মাটি রসুন চাষের উপযোগী।
  •  রসুনের গাছের পরিপক্কতার সময় আবহাওয়া অবশ্যই শুষ্ক থাকা দরকার। এ জন্য আমাদের দেশে কেবলমাত্রে রবি মৌসুমেই রসুনের চাষ করা উত্তম।
  • তবে খেয়াল রাখবেন শক্ত এঁটেল মাটি রসুন চাষের অনুপযুক্ত।

রসুনের জাত:


১। রসুনের আধুনিক কোন জাত নেই। আমাদের দেশে রসুনের জাতরে মধ্যে ইটালী, আমনী ও আউসী প্রধান।

আরো পড়ুন: লাল শাক চাষ পদ্ধতি

২। সম্প্রতি আমাদের দেশে রসুনের বেশ কিছু জাত উদ্ভাবিত হয়েছে। তারমধ্যে রয়েছে বাউ রসুন-১, বাউ রসুন-২, বারি রসুন-১, ও বারি রসুন-২  ইত্যাদি।

রসুনের রোপণ সময়:


মধ্য অক্টোবর থেকে শেষ অক্টোবরের মধ্যে রোপণ করা উত্তম।

রসুনের বীজ হার:


হেক্টর প্রতি ৫০০-৬০০ কেজি কোয়া বা বীজ রসুনের দরকার হয়। রসুনের কোয়ার আকার যত বড় হবে ফলনও তত বেশি হবে।

রসুনের রোপন পদ্ধতি:


১। জমি ভালভাবে চাষ ও মই দিয়ে মাটি একেবারে ঝুরঝুরে করে নিতে হবে। বীজ বপনের আগে জমিতে মই দিয়ে সমান করে নিতে হবে।

২। কোয়াগুলো হাতের দু´ আঙ্গুলে ধরে ১৫ সে. মি. দুরত্বে সারি করে প্রতি সারিতে ১০ সে.মি. দুরে দুরে ৩-৪ সে.মি. মাটির গভীরে রোপন করতে হবে।

৩। মাঝারী থেকে বড় সাইজের কোয়া রোপনের জন্য ব্যবহার করতে হবে। সমস্ত জমি প্রায় ৭ সে.মি. পুরু খড় দিয়ে ঢেকে দিতে হবে।

রসুনের সার প্রয়োগ:


১। সারের মাত্রা মাটির উর্বরতা ভেদে সামান্য কমবেশি হতে পারে। তবে বিঘা প্রতি আদর্শ মাত্রা হতে পারে- ইউরিয়া ১৩-১৫ কেজি, এমওপি ২১-২২ কেজি, টিএসপি ১১-১২ কেজি, জিপসাম ২২-২৩ কেজি, জিংক অক্সাইড ১/২-১ কেজি এবং বরিক এসিড সর্বোচ্চ দেড় কেজি দেয়া যেতে পারে।

আরো পড়ুন: গম চাষ পদ্ধতি

২। বিঘাপ্রতি ৮ থেকে ৯ কেজি ইউরিয়া এবং অন্যান্য সারের সবটুকু জমি তৈরির শেষ চাষের সময় ছিটিয়ে প্রয়োগ করতে হবে।

৩। বাকি ইউরিয়া দুই কিস্তিতে চারা গজানোর ২৫ ও ৫০ দিন পর শুধু সারি রসুনের মাঝামাঝি জায়গায় ছিটিয়ে উপরি প্রয়োগ করে মাটিতে মিশিয়ে দিতে হবে।

রসুনের সেচ ও পানি নিষ্কাশন:


বাড়ন্ত সময়ে রসুনের  ৮ দিন পরে সেচ দিতে হয়।

যখন রসুন পরিণত বয়স হবে তখন ১০ থেকে ১৫ দিন পর সেচ দিতে হবে।

রসুনের পরিচর্যা:

রোপনের এক মাস পরে খড়ের ঢাকনার ভিতর দিয়ে উঠিয়ে আগাছাগুলো সাবধানে তুলে ফেলতে হবে। উপরি সার প্রয়োগের পর পর হালকা সেচ দিতে হবে। অতিরিক্ত পানি যাতে দাড়িয়ে থাকতে না পারে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে ও প্রয়োজনে জমির পানি বের করার জন্য নালা রাখতে হবে।

রসুনের পোকামাকড় ও রোগবালাই:


রসুনে পোকা মাকড় ও রোগ বালাই এর আক্রমণ খুবই কম হয়। রসুনে মাঝে মধ্যে থ্রিপস পোকার আক্রমণ দেখা যায় প্রতিকারের জন্য কীটনাশক ব্যবহার করতে হবে। রোগের মধ্যে প্রধানত গোড়া পঁচা রোগ, পারপেল ব্লচ ও স্মাট রোগ হয়। এসব রোগ প্রতিকারের জন্য কীটনাশক ব্যবহার করতে হবে। এসকল পোকামাকড় ও রোগ দমনের জন্য প্রয়োজনে স্থানীয় কৃষিকর্মকর্তার সাথে পরামর্শ করতে হবে।

রসুন সংগ্রহ:


  • রসুন গাছের পাতা হলুদ থেকে বাদামী রং ধারণ করে ভেঙ্গে পড়লে উত্তোলন করার জন্য উপযোগী হয়।
  • রসুনের আকার বড় হলে সংগ্রহ করা উচিত।
  • মাঠ থেকে তোলার পর ২-৩ দিন অল্প রোদে শুকিয়ে রসুন সংরক্ষণ করা যায়।
  • রসুন চাষ করে প্রতি হেক্টরে ৪-৬ মে.টন ফলন পাওয়া যায়।

আরো পড়ুন: পেঁপে চাষ করার পদ্ধতি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *