মেয়েদের ওজন কমানোর ডায়েট চার্ট – মেয়েদের দ্রুত ওজন কমানোর উপায়

মেয়েদের ওজন কমানোর ডায়েট চার্ট: মেয়েদের ওজন কামানোর উপায়গুলোর মধ্যে নির্দিষ্ট পরিমাণে ঘুম, পরিমিত খাওয়া, সবসময় হাসি খুশি থাকা, শরীরের যত্ন নেয়া এবং কিছু ব্যায়াম করা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত মুটিয়ে যাওয়া মেয়েদের সমস্যার শেষ নেই। শারীরিক, মানসিক, পারিবারিক এমনি বন্ধুদের মধ্যেও সে হাসির পাত্র এবং বৈষম্যের শিকার। আর আমাদের দেশে এটা আরো ভয়াবহরূপে দেখা যায়। বিশেষকরে বিয়ের সময়, এমনকি চাকরির সময়ও মুটিয়ে যাওয়া মেয়েদের নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়।

মেয়েদের ওজন কমানোর ডায়েট চার্ট:

সকালের নাস্তা :


খাবারের নাম          পরিমাণ           ক্যালোরির পরিমাণ


সিদ্ধ ডিম                    ১                         ৮০


ডিম পোচ                     ১                         ৮০


ডিম ভাজি                     ১                        ১১০


ডিমের ওমলেট               ১                        ১২০


এক স্লাইস পাউরুটি          ১                        ৪৫


এক স্লাইস পাউরুটি + বাটার  ১                     ৯০


রুটি বা চাপাতি                 ১                       ৬০


পরোটা                            ১                     ১৫০


সবজি                          ১ কাপ                  ১৫০


আরো পড়ুন: উজ্জল ত্বক ধরে রাখতে আলুর চারটি ফেসপ্যাক!

লাঞ্চডিনার:


খাবারের নাম          পরিমাণ           ক্যালোরির পরিমাণ


সাদাভাত                ১ কাপ                     ১২০


ফ্রাইড রাইচ            ১ কাপ                      ১৫০


বিরিয়ানী                 ১ কাপ                      ২০০


চাপাতি                    ১                            ৬০


পুরি                        ১                           ৭৫


পরোটা                     ১                             ১৫০


নানরুটি                    ১                               ১৫০


ডাল                         ১ কাপ                     ১৫০


দই                            ১ কাপ                    ১০০


সবজির তরকারী            ১ কাপ                    ১৫০


মাংস                         ১ কাপ                    ১৭৫


সালাদ                       ১ কাপ                      ১০০


কাটলেট                     ১                             ৭৫


আচার                       ১ টে.চা.                    ৩০


ক্লিয়ার স্যুপ                ১ কাপ                       ৭৫


ঘন স্যুপ                   ১ কাপ                        ৭৫


ফল                          ১ টা                        ১৫০


 

এখন কি পরিমাণ ক্যালোরি খাবেন তা মনে প্রশ্ন জাগতেই পারে। উপরের তালিকা অনুসারে প্রতিদিন ৫০০ ক্যালোরি কিংবা তার কম খাওয়ার চেস্টা করবেন। এবং শারিরিক ভাবে নিজেকে একটিভ রাখার।

ওজন কমানোর উপায়:

অ্যাভোকাডো:

অর্ধেকটা অ্যাভোকাডোতে রয়েছে ১০ গ্রাম মনোস্যাচুরেটেড ফ্যাট। মনোস্যাচুরেটেড ফ্যাট ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণ করে এবং পেটে মেদ জমতে বাঁধা প্রদান করে। কলামবাস-এর ওহাইও স্টেট ইউনিভার্সিটির এক গবেষণায় দেখেছে যে, যারা তাদের সালাদে অ্যাভোকাডো রাখেন তারা ১৫ গুণ বেশি ক্যারটিনয়েড শোষণ করার ক্ষমতা রাখে।

 কলা:

একটি কলাতে ৪২২ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম রয়েছে, যা আপনার শরীরে সোডিয়ামের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ রাখতে সাহায্য করে।

কাঠবাদাম:

কাঠাবাদাম আপনার পেটকে দীর্ঘক্ষণ ভরিয়ে রাখে। শুধু তাই নয়, এটি একটি উচ্চ প্রোটিনযুক্ত খাবার যা আপনার পেটের মেদ কমাতে সাহায্য করবে। এছাড়া এতে রয়েছে ওমেগা ৩ যা আপনাকে অ্যানার্জি দেওয়ার সাথে সাথে মেটাবলিজম বৃদ্ধি করে থাকে। যেকোনো স্মুদিতে এক মুঠো কাঠাবাদাম দিয়ে দিন স্মুদি সুস্বাদু হওয়ার পাশাপাশি আরো বেশি পুষ্টিকর হবে।

আরও পড়ুন: মাত্র একদিনে ব্রণ সারানোর উপায়

টকদই:

পেটের মেদ কমাতে বেশ কার্যকর একটি খাবার হলো টকদই। এতে রয়েছে কিছু ভালো ব্যাকটেরিয়া যা আপনার হজমশক্তি বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। বৃটিশ জার্নাল অফ নিউট্রিশন-এর মতে, যারা নিয়মিত টকদই গ্রহণ করেন তারা দ্বিগুণ বেশি দ্রুত ওজন কমাতে পারে যারা টকদই গ্রহণ করেন না তাদের চেয়ে। প্রতিদিনের সালাদ কিংবা স্মুদিতে টকদই রাখুন।

ওটমিল:

ওটসে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার রয়েছে যা হজম করার ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। এটি আপনার পেটকে দীর্ঘক্ষণ ভরিয়ে রাখবে। এরসাথে এটি আপনাকে অনেক বেশি অ্যানার্জি দিবে। সকালের নাস্তায় কাঠবাদাম দিয়ে এক কাপ ওটমিল রাখতে পারেন। ওটমিল কেনার সময় নন- ফ্লেভার ওটমিল কিনবেন, ফ্লেভারড ওটমিলে চিনি এবং কেমিক্যাল রয়েছে যা আপনার স্বাস্থ্যেরর জন্য ক্ষতিকর।

তরমুজ:

তরমুজের সময় চলছে।। বাজার ছেয়ে গেছে তরমুজ দিয়ে। এই তরমুজও আপনার ওজন কমাতে সাহায্য করবে। ইউনিভার্সিটি অফ কেনটাকি-এর এক গবেষণায় দেখা গেছে যে, প্রতিদিন তরমুজের জুস শরীরের মেদ কমানোর পাশাপাশি কোলেস্টেরল মাত্রাও নিয়ন্ত্রণে রাখে।

ডার্ক চকলেট:

চকলেট খেতে পছন্দ করেন? মোটা হওয়ার ভয়ে চকলেট খেতে পারছেন না? এবার এই চকলেট আপনার মেদ কমাবে। মিল্ক চকলেট খাওয়ার পরিবর্তে ডার্ক চকলেট খাওয়া শুরু করুন। ডার্ক চকলেটে ৬০%-এর চেয়ে বেশি কোকো থাকে। এটি আপনার ইনফ্লামেশন কমাবে এবং মিষ্টি খাবার খাওয়ার প্রবণতা হ্রাস করবে।

শসা:

আপনি যদি স্ন্যাকস হিসেবে চিপস, কেক কিংবা মিষ্টি কোনো খাবার খেয়ে থাকেন, তবে সেটি আজই বন্ধ করুন। এটি আপনার পেটের মেদকে বৃদ্ধি করতে সাহায্য করছে। এর পরিবর্তে সাথে শসা রাখুন। এটি আপনার ক্ষুধা মেটানোর পাশাপাশি দীর্ঘসময় পেট ভরিয়ে রাখবে।

 গ্রিন টি:

প্রতিদিন দুই কাপ গ্রিন টি পান করুন, এটি আপনার মেটাবলিজম বৃদ্ধি করবে এবং ক্যালরি বার্ন করতে সাহায্য করবে, মেডিসিন অ্যান্ড সাইন্স ইন স্পোর্টস অ্যান্ড এক্সারসাইজ-এর গবেষণা থেকে এমন তথ্যই পাওয়া গেছে। গ্রিন টিতে রয়েছে ইসিজিসি নামক উপাদান যা পেটের মেদ কমাতে সাহায্য করে।

পেঁপে:

চির পরিচিত পেঁপে ফলটিও আপনার পেটের মেদ কমাতে সাহায্য করবে। এতে রয়েছে প্রোটোলাইটিক এনজাইম যা হজমশক্তি বৃদ্ধি করে। এছাড়া পেঁপেতে রয়েছে ভিটামিন এ, ভিটামিন সি এবং প্রচুর পরিমাণ ফাইবার। যা মেদ কমিয়ে আপনাকে দিবে পারফেক্ট ফিগার।

এই তো জেনে নিলেন পেটের মেদ কমাবে এমন ১০টি মজাদার খাবারের কথা। আশা করছি একটু হলেও আপনাদের জন্য হেল্পফুল হবে। ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন এবন ফিট থাকুন।

আরও পড়ুন: শ্যাম্পুর সাথে চিনি ব্যবহারের উপকারিতা

সূত্রঃ shajgoj

লেখাটি পছন্দ হইলে শেয়ার করতে ভুলবেন না।
নিয়মিত সুন্দর সুন্দর টিপস পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ এ অ্যাক্টিভ থাকুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *