মাশরুম এর উপকারিতা

মাশরুম এর উপকারিতা: মাশরুমকে আমরা সবাই চিনি ছত্রাক জাতীয় উদ্ভিদ হিসেবে। একই সঙ্গে এটি অত্যন্ত স্বাস্থ্যকর খাবারও বটে। এতে আছে প্রোটিন, ভিটামিন, মিনারেল, অ্যামাইনো এসিড, অ্যান্টিবায়োটিক ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। চলনু জেনে নেয়া যাক মাশরুমের সাস্থ্যকর দিকগুলো-

মাশরুমের পুষ্টিগুণ:

মাশরুম এমন একটি খাদ্য যাহা পুষ্টিগুনে ভরপুর। আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে মাশরুমের তুলনা হয়না। এটিতে সকল ভিটামিন,কার্বোহাইড্রেট,মিনারেল,ফ্যাট সহ আরো অনেক উপাদান বিদমান।

প্রতি ১০০ গ্রাম মাশরুমে আছে-

বেটেইন 9.4 মিলিগ্রাম

কোলিন 17.3 মিলিগ্রাম

ফোলেট 17.00 এমসিজি

ফলিক অ্যাসিড 0.00 এমসিজি

নায়াসিন 3.607 মিলিগ্রাম 23%

পেন্টোথেনিক অ্যাসিড 1.497 মিলিগ্রাম 30%

রিবোফ্লাভিন 0.402 মিলিগ্রাম 31%

থায়ামিন 0.081 মিলিগ্রাম 7%

ভিটামিন বি 12 0.04 এমসিজি 2%

ভিটামিন বি 12, 0.00 এমসিজি যুক্ত হয়েছে

ভিটামিন বি 6 0.104 মিলিগ্রাম 8%

ভিটামিন সি 2.1 মিলিগ্রাম 2%

ভিটামিন ডি 0.20 এমসিজি 1%

ভিটামিন ডি 2 0.20 এমসিজি

ভিটামিন ডি 3 0.00 এমসিজি

ভিটামিন ই 0.01 মিলিগ্রাম 0%

ভিটামিন ই, 0.00 মিলিগ্রাম যুক্ত হয়েছে

টোকোফেরল, আলফা 0.01 মিলিগ্রাম

টোকোফেরল, বিটা 0.01 মিলিগ্রাম

টোকোফেরল, ডেল্টা 0.01 মিলিগ্রাম

টোকোফেরল, গামা 0.01 মিলিগ্রাম

টোকোট্রিয়েনল, আলফা 0.05 মিলিগ্রাম

কার্বোহাইড্রেট 3.26 গ্রাম 1%

ফাইবার 1.0 গ্রাম 4%

সুগার 1.98 গ্রাম

ফ্রুক্টোজ 0.17 গ্রাম

গ্যালাকটোজ 0.00 গ্রাম

গ্লুকোজ (ডেক্সট্রোজ) 1.48 গ্রাম

মোট ফ্যাট 0.3g 0%

স্যাচুরেটেড ফ্যাট 0.1g 0%

সোডিয়াম 5 এমজি 0%

মোট কার্বোহাইড্রেট ৩.৩ জি ১%

ডায়েটারি ফাইবার 1 জি 4%

চিনি 2 জি

প্রোটিন 3.1g 6%

ক্যালসিয়াম 3.00mg 0%

আয়রন 0.50mg 3%

পটাসিয়াম 318mg 7%

মাশরুম এর উপকারিতা:

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি:

প্রাকৃতিকভাবে মাশরুমে সবচেয়ে বেশি ভিটামিন ও মিনারেল এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বিদ্যমান থাকায় এটি মানবদেহের রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। মাশরুমে মানুষের শরীরের জন্য অত্যাবশ্যকীয় অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট পলিফেনল ও সেলেনিয়াম নামের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা মারাত্মক কিছু রোগ, যেমন- স্ট্রোক, স্নায়ুতন্ত্রের রোগ এবং ক্যান্সার থেকে শরীরকে রক্ষা করে।

আরো পড়ুন: অর্জুন গাছের উপকারিতা

কোলেস্টেরল ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ:

মাশরুমে কোলেস্টরেল কমানোর অন্যতম উপাদান ইরিটাডেনিন, লোভাষ্টটিন, এনটাডেনিন, কিটিন এবং ভিটামিন বি, সি ও ডি থাকায় নিয়মিত মাশরুম খেলে উচ্চ রক্তচাপ কমে যায়। এতে উচ্চমাত্রার আঁশ এবং প্রচুর পরিমাণে পটাসিয়াম থাকে। এছাড়া এতে সোডিয়ামের পরিমাণও খুবই কম থাকে যার ফলে এটি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ সহ হৃদপিণ্ডের অন্যান্য কাজেও সহায়তা করে থাকে।

হজমে সাহায্য ও ওজন নিয়ন্ত্রণ:

মাশরুমে থাকা প্রচুর ফাইবার বা আঁশ দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সহায়তা করে। এছাড়া এটি রক্তের চিনির পরিমাণও নিয়ন্ত্রণ করতে ভুমিকা রাখে। ফলে দেহের ওজন কমাতে বিশেষ ভুমিকা রাখতে পারে এই মাশরুম। এতে থাকা ফাইবার ও এনজাইম হজমেও সহায়তা করে। এটি অন্ত্রে উপকারি ব্যাকটেরিয়ার কাজ বৃদ্ধি এবং কোলন এর পুষ্টি উপাদান শোষণকেও বাড়তে সাহায্য করে। তাই অধিক ফ্যাট সমৃদ্ধ লাল মাংসের না খেয়ে মাশরুম খেয়ে ওজন কমানোর সুযোগ গ্রহণ করা যেতে পারে।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ:

প্রোটিন, ফাইবার, ভিটামিন এবং মিনারেলে পরিপূর্ণ মাশরুম ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য খুবই উপকার বয়ে আনতে পারে। নিয়মিত মাশরুম খেলে রক্তে চিনির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে থাকে। এছাড়া মাশরুমে বিদ্যমান এনজাইম ও প্রাকৃতিক ইনসুলিন থাকায় এটি খেলে দেহের অতিরিক্ত চিনি ভেঙ্গে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ভুমিকা রাখে।

আরো পড়ুন: ত্বকের যত্নে  মুলতানি মাটি

অ্যানিমিয়া বা রক্তশূন্যতা দূর:

রক্তে আয়রনের পরিমাণ খুব কমে গেলে রক্তশূন্যতা দেখা দেয় এবং যার ফলে মানসিক অবসাদ, মাথার যন্ত্রণা এবং হজমের সমস্যা দেখা দেয়। মাশরুমে প্রচুর পরিমাণে আয়রন থাকায় অ্যানিমিয়ার রোগীদের জন্য এটি আশীর্বাদ স্বরূপ। তাই নিয়মিত মাশরুম খাদ্য তালিকায় রাখলে অ্যানিমিয়া বা রক্তশূন্যতা হওয়ার ঝুঁকি অনেক কমে যায়।

হাড়ের শক্তি বাড়ায়:

সব্জিতে ভিটামিন ডি না পাওয়া গেলেও মাশরুমে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ডি থাকে যা ক্যালসিয়াম ও ফসফরাসের শোষণ বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। এতে প্রচুর পরিমাণে ক্যালশিয়াম থাকায় আমাদের হাড়ের শক্তি বাড়াতেও এটি সাহায্য করে। তাই গাঁটের ব্যথা কমানো ও হাড়ের বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ করতে মাশরুমের তুলনা নেই।

ত্বক সুস্থ রাখা:

মাশরুমে ভিটামিনের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে নিয়াসিন ও রিবোফ্লাবিন থাকায় তা ত্বকের জন্য বেশ উপকারী। তাছাড়া এর মধ্যে প্রায় ৮০-৯০ ভাগ পানি থাকে বলে ত্বককে নরম ও কোমল রাখতে বিশেষ ভুমিকা রাখে।

 ক্যান্সার প্রতিরোধ করে:

মাশরুমের ফাইটোকেমিক্যাল টিউমারের বৃদ্ধিতে বাঁধার সৃষ্টি করে। বিভিন্ন রকম ক্যানসার যেমন স্তন এবং প্রস্টেট ক্যানসার প্রতিরোধে মাশরুমের তুলনা নেই।

সম্পূরক খাদ্য হলেও অন্যান্য খাবারের সাথে রান্না করলে এর স্বাদ বহুগুণে বেড়ে যায়। অনেক আগে থেকে ব্যবহার করে আসা মাশরুমের গুনাবলী বলে শেষ করার মতো নয়। তাই আসুন বেশী বেশী করে মাশরুম খাই এবং আমাদের শরীরকে করে তুলি রোগ প্রতিরোধ্য।

Photo Credit: pixabay.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *