ব্যাকটেরিয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা

ব্যাকটেরিয়া কি:

ব্যাকটেরিয়া হলো এক প্রকারের আদি নিউক্লিয়াসযুক্ত, অসবুজ, এককোষী অণুজীব, যার নিউক্লিয়াসটি সুগঠিত নয়।(ব্যাকটেরিয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা) অণুবীক্ষণযন্ত্র ছাড়া এদের দেখা যায় না। এদের আয়তন ০.২μ থেকে ৫μ পর্যন্ত হয়ে থাকে। জীবজগতের এগুলােই সরলতম ও ক্ষুদ্রতম জীব বলে পরিচিত।

ব্যাকটেরিয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা:

ব্যাকটেরিয়ার অপকারিতা:

ব্যাকটেরিয়া হতে বিভিন্ন রোগের অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ প্রস্তুত করা হয়।

ব্যাকটেরিয়া হতে কলেরা, টাইফয়েড, যক্ষ্মা, ডি.পি.টি ইত্যাদি রোগের প্রতিষেধক টিকা তৈরি করা হয়।

উদ্ভিদ ও প্রাণীর মৃতদেহ, বর্জ্য পদার্থ ইত্যাদি পচনের মাধ্যমে জৈব পদার্থকে দ্রুত রূপান্তরিত করে পয়ঃনিষ্কাশনে ব্যাকটেরিয়া ব্যবহার করা হয়।

চামড়া হতে লোম ছড়ানো ও পাট পচিয়ে আঁশ ছাড়ানোর কাজেও ব্যাকটেরিয়া ভূমিকা পালন করে।

দুধ হতে মাখন, দই, পনির প্রভৃতি প্রস্তুতে ব্যাকটেরিয়ার কার্যকারিতা প্রয়োজন।

মাটির উর্বরতা বৃদ্ধিতে ব্যাকটেরিয়ার অবদান অনেক। মাটির জৈব পদার্থ সঞ্চয়ে ব্যাকটেরিয়ার প্রত্যক্ষ ভূমিকা রয়েছে। ব্যাকটেরিয়া মাটির উপাদান হিসেবেও কাজ করে।

সমুদ্রের তেল অপসারণে, পতঙ্গনাশক হিসেবেও ব্যাকটেরিয়ার ব্যবহার উল্লেখযোগ্য।

ধান ও গমের উৎপাদন বাড়াতেও ব্যাকটেরিয়া প্রয়োগে সুফল পাওয়া গেছে। এছাড়াও জিন প্রকৌশলেও ব্যাকটেরিয়ার গুরুত্ব অপরিসীম(1)।

আরো পড়ুন: কালমেঘ পাতার উপকারিতা

ব্যাকটেরিয়ার অপকারিতা:

ব্যাকটেরিয়া মানুষের দেহে যক্ষ্মা, নিউমোনিয়া, কলেরা, টাইফয়েড, ডায়রিয়া, ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ইত্যাদি মারাত্মক রোগ সৃষ্টি করে।

গরু, মহিষ, ভেড়ার এনথ্রাক্স, মুরগির কলেরা রোগ ব্যাকটেরিয়া সৃষ্টি করে।

উদ্ভিদ ও ফসলের অনেক রোগ সৃষ্টি করে। যেমন : গমের টুংরো রোগ, ধানের ব্লাইট ইত্যাদি।

খাদ্যদ্রব্য ও শাকসবজি পচনে ব্যাকটেরিয়া ভূমিকা পালন করে।

আবার কিছু ব্যাকটেরিয়া আছে যারা পানি দূষণ করে(2)।

আরো পড়ুন: কমলার খোসার উপকারিতা

ব্যাকটেরিয়ার অর্থনৈতিক গুরুত্ব:

উদ্দীপকের দ্বিতীয় অণুজীব টির নাম ব্যাকটেরিয়া। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে এ জীবটির অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

চিকিৎসা ক্ষেত্রে : 

চিকিৎসা ক্ষেত্রে ব্যাকটেরিয়া ব্যবহার করা হয়ে থাকে। অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ  তৈরিতে ব্যাকটেরিয়াকে কাজে লাগানো হয়, যেমন: সাবটিলিন, পলিমিক্সিন, টেরামাইসিন ইত্যাদি ব্যাকটেরিয়া থেকে ওষুধ তৈরী করা হয় এবং সেই ওষুধ রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হয়।

কৃষি ক্ষেত্রে : 

পাট থেকে আশ ছাড়াতে ব্যাকটেরিয়া সাহায্য করে। দই তৈরি করতে ও ব্যাকটেরিয়া সাহায্য করে। কৃষি ক্ষেত্রে অগ্রগতি সাধনে ব্যাকটেরিয়ার ভূমিকা অনেক। তাছাড়া আবর্জনা পঁচাতে সাহায্য ব্যাকটেরিয়া করে।

মানব জীবনে :

মানবদেহে  ভিটামিন (ভিটামিন-বি, ভিটামিন-কে), ফলিক অ্যাসিড, বায়োটিন তৈরিতে ব্যাকটেরিয়া সহায়তা করে। তাছাড়া মৃত জীব দেহ পঁচাতে সাহায্য করে।

গবেষণায় ব্যাকটেরিয়া :

ব্যাকটেরিয়া জীন প্রকৌশলের মূল ভিত্তি। কিছু কিছু ক্ষেত্রে জীবের কাঙ্খিত বৈশিষ্ট্য পাওয়ার জন্য জীনগত পরিবর্তনের কাজে ব্যাকটেরিয়াকে ব্যাবহার করা হয়(3)। (ব্যাকটেরিয়ার অর্থনৈতিক গুরুত্ব)

আরো পড়ুন: কৈ মাছের জন্য দ্রবীভূত অক্সিজেন প্রয়োজন কেন

সচরাচর জিজ্ঞাস্য প্রশ্ন উত্তর:


Q. ব্যাকটেরিয়া এবং ভাইরাসের মধ্যে পার্থক্য কী?

A. ভাইরাস:এরা অকোষীয় / ব্যাকটেরিয়া:এরা কোষীয়

Q. ব্যাকটেরিয়া কীভাবে বংশবিস্তার করে?

A. ব্যাক্টেরিয়া মূলত Binary Fission বা দ্বিবিভাজন পদ্ধতিতে বংশবিস্তার করে।

Q. ব্যাকটেরিয়া কত প্রকার?

A. আকৃতি অনুসারে ব্যাকটেরিয়া চার প্রকার৷

Q. ব্যাকটেরিয়াকে আদিকোষী বলা হয় কেন?

A. ব্যাকটেরিয়ার কোষে কোনো সুগঠিত নিউক্লিয়াস থাকে না বলে একে আদি কোষী জীব বলা হয়।

আরো পড়ুন: মুগ ডালের উপকারিতা

এই ছিলো ব্যাকটেরিয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা ভালো লাগলে ,অবশ্যই লাইক কমেন্ট শেয়ার করবেন।

Photo Credit: Pixabay

সূত্র : অনলাইন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *