বেগুন চাষ পদ্ধতি – Janajoruri

বেগুনের চাষ পদ্ধতি আমাদের অনেকেরই জানা নেই। আমাদের দেশের প্রায় সব অঞ্চলেই বেগুন চাষ হয়ে থাকে। সঠিক নিয়মে বেগুনের চাষ না করায় অনেকেই আবার লোকসান করে থাকেন। বেগুন একটি সুস্বাদু ও পুষ্টিকর সবজি। আমাদের দেশে প্রায় সারা বছরই বেগুনের চাষ করা হয়ে থাকে। বেগুন চাষ করে অনেক কৃষকই স্বাবলম্বী হচ্ছেন।

তাহলে আসুন জেনে নেই বেগুন চাষ পদ্ধতি সম্পর্কে-

বেগুন চাষের উপযুক্ত মাটিঃ

সব মাটিতেই বেগুন জন্মে। বেগুন চাষের ক্ষেত্রে এটেল দো-আঁশ, দো-আঁশ ও পলি মাটিতে বেগুনের ফলন ভাল হয়ে থাকে।

বেগুনের চারা রোপণঃ


বেগুন চাষ পদ্ধতি শুরুতে বীজতলায় বেগুনের চারা তৈরি করে নিতে হবে। তারপর ৫ থেকে ৬ সপ্তাহ বয়সের বেগুনের চারাকে ৭৫ সে.মি দূরত্বে সারি করে ৬০ সে.মি দূরে দূরে রোপণ করতে হয়। তবে বেগুনের চারার আকার অনুযায়ী দূরত্ব কিছুটা কম-বেশি করা যায়।

বেগুনের চারা রোপণের সময়ঃ


সাধারণত বেগুনের চারা মাঘ-ফাল্গুন মাসে গ্রীষ্মকালীন, বৈশাখ মাসে বর্ষাকালীন, ভাদ্র-আশ্বিন মাসে শীতকালীন ফসলের জন্য রোপণ করা হয়ে থাকে।

বেগুন চাষ পদ্ধতি সার প্রয়োগ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। 

সার প্রয়োগঃ


প্রতি হেক্টর জমিতে

১৪৫ থেকে ১৫৫ কেজি টিএসপি,

৩৭০ থেকে ৩৮০ কেজি ইউরিয়া,

২৪০ থেকে ২৬০ কেজি এমপি

গোবর ৮ থেকে ১২ টন হারে প্রয়োগ করতে হবে।

বেগুন চাষের জমি তৈরির সময় অর্ধেক গোবর প্রয়োগ করতে হয় আর বাকি অর্ধেক গোবর সম্পূর্ণ টিএসপি এবং এক তৃতীয়াংশ ইউরিয়া ও এমপি সার পিট তৈরির সময় প্রয়োগ করতে হয়। অবশিষ্ট ইউরিয়া ও এমপি সার তিন কিস্তিতে রোপণের ২১ থেকে ৩৫ ও ৫০ দিন পর প্রয়োগ করতে হবে।

বেগুন গাছের পরিচর্যা:


মাঝে মধ্যে বেগুন গাছের গোড়ার মাটি আলগা করে দিতে সেচ দিয়ে দিতে হবে। আর বেলে মাটিতে বেগুন চাষের ক্ষেত্রে ১০ থেকে ১৫ দিন পর সেচ দিতে হবে।

পোকামাকড় ব্যবস্থাপনা :


বেগুনের সবচেয়ে ক্ষতিকর পোকা হল বেগুনের ডগা ও ফল ছিদ্রকারী পোকা। কোন কোন এলাকায় ক্ষুদ্র লাল মাকড় প্রধান শত্রু। এছাড়া কাঁটালে পোকা বা ইপলাকনা বিট্‌ল, জাব পোকা, ছাতরা পোকা, বিছা পোকা, পাতা মোড়ানো পোকা, থ্রিপস, কাটুই পোকা ইত্যাদি বেগুনের ক্ষতি করে থাকে। আইপিএম পদ্ধতিতে এসব পোকা নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নিতে হবে।

ফল সংগ্রহ ও ফলন :


ফল সম্পূর্ণ পরিপক্ক হওয়ার পূর্বেই সংগ্রহ করতে হবে। ফল যখন পূর্ণ আকার প্রাপ্ত হয় অথচ বীজ শক্ত হয় না তখন ফল সংগ্রহ করার উপযুক্ত হয়। সংগ্রহের সময় ফলের ত্বক উজ্জ্বল ও চকচকে থাকবে। সাধারণতঃ ফুল ফোটার পর ফল পেতে গড়ে প্রায় ১ মাস সময় লাগে। জাত ভেদে হেক্টর প্রতি ১৭-৬৪ টন ফলন পাওয়া যায়।

সেচ ব্যবস্থাঃ


সেচের পানি বেশিক্ষণ ধরে রাখা যাবে না, গাছের গোড়া পর্যন্ত মাটি ভিজে গেলে নালার পানি ছেড়ে দিতে হবে।

ঢলে পড়া:


ঢলে পড়া রোগ ফিউজেরিয়াম নামক ছত্রাক দ্বারা  হয়। এ ছত্রাক রোগ হলে পাতা নেতিয়ে পড়ে এবং গাছ ঢলে পড়ে। এবং গাছ মারা যায়। 

 প্রতিকার:


এ জন্য রোগ প্রতিরোধক জাত লাগাতে হবে। আক্রান্ত গাছ তুলে ফেলতে হবে। আক্রান্ত জমিতে শস্য পরিক্রমা অনুসরণ করতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *