বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষ

বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষ: প্রিয় বায়োফ্লক উদ্যোক্তাগন, আপনারা অনেক সময় অনুরোধ করে থাকেন যে বায়োফ্লকের উপরে কারো লেখা কোনো বই পাও্যা যাবে কিনা? অনলাইন থেকে বায়োফ্লকের উপরে লিখিত কিছু হ্যান্ডনোট সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছি। এইগুলা আপনাদের উপকারে আসলে আমাদের এবং লেখকদের কস্ট স্বার্থক হবে।

বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষ:

বায়োফ্লক কি?

বায়ো শব্দটি গ্রীক বায়োস থেকে এসেছে, যার অর্থ জীবন। আর ফ্লক মানে আলতোভাবে লেগে থাকা কনার সমষ্টি। বায়োফ্লক পদ্ধতিতে জৈব বর্জ্যের পুষ্টি থেকে পুন ব্যবহার যোগ্য খাবার তৈরি করা হয়।

বায়োফ্লক কি
https://janajoruri.com/

তাই স্বাভাবিক ভাবেই বায়োফ্লক প্রযুক্তি মাছ চাষের একটি টেকসই এবং পরিবেশগত ভাবে বন্ধুত্বপূর্ণ পদ্ধতি। এই পদ্ধতিতে চৌবাচ্চার পানিতে ব্যাকটেরিয়া, অণুজীব ও শৈবালের সমম্বয়ে পাতলা একটি আস্তরণ তৈরি হয়। যা পানিকে ফিল্টার করে। পানি থেকে নাইট্রোজেন জাতীয় ক্ষতিকর উপাদানগুলি শোষণ করে নেয় এবং এর প্রোটিন সমৃদ্ধ যে উপাদান গুলো থাকে সেগুলো মাছ খাবার হিসেবে গ্রহণ করতে পারে।

বায়োফ্লক পদ্ধতিতে অনুজীব মুলত দুটি প্রধান ভূমিকা পালন করে:

» অণুজীব পানিতে বিদ্যমান নাইট্রোজেন সমৃদ্ধ যৌগ গুলোকে ব্যবহার করে অণুজীব প্রোটিনে রূপান্তর করার মাধ্যমে পানির গুণাগুণ সঠিক মাত্রায় বজায় রাখে।
» এই প্রযুক্তি খাদ্য রূপান্তর হার এবং মাছ চাষে খাদ্য ব্যয় কমিয়ে চাষের সম্ভাব্যতা বৃদ্ধি করে।

বায়োফ্লক প্রযুক্তিতে কি মাছ চাষ করা যায়?

বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষ করা যায়। কিন্তু আমাদের দেশে সচরাচর যেসব মাছ চাষ করা হচ্ছে তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, তেলাপিয়া, রুই, শিং, মাগুর, পাবদা, গুলশা ও চিংড়ীসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ।

বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষের জন্য যা লাগবে:

চৌবাচ্চা বা ট্যাংক বা হাউজ, লোহার খাঁচা, ত্রিপল, আউটলেট, টিডিএস মিটার, পিএইচ মিটার, অ্যামোনিয়াম টেস্ট কিড, অক্সিজেনের জন্য মটর, বিদ্যুৎ, মাছের পোনা, খাদ্য ও প্রোবায়োটিক ব্যাকটেরিয়া ইত্যাদি।

বায়োফ্লক পদ্ধতিতে পানি ব্যবস্থাপনা ও ফ্লক তৈরীর কলাকৌশল:

প্রথমে ট্যাংক ব্লিচিং পাউডার দিয়ে জীবাণুমুক্ত করে নিতে হবে। এর পর নির্বাচিত পানির গুণাগুণ পরীক্ষা করে পানি প্রবেশ করাতে হবে। পানিতে আয়রনের মাত্রা ০.২ ppm এর বেশি হলে পানি থেকে আয়রন দূর করার ব্যবস্থা করতে হবে। আয়রন দূর করার জন্য প্রতি টন পানিতে ২৫- ৩০ ppm হারে ব্লিচিং পাউডার প্রয়োগের পর ১০ – ১২ ঘন্টা একটানা বাতাস সরবরাহ করতে হবে। এর পর ৫০ ppm হারে ফিটকিরি প্রয়োগ করে আরও ১২ ঘন্টা পানিতে অনবরত বাতাস সরবরাহ করতে হবে। ২৪ ঘন্টা পর পানিতে ১০০ ppm হারে ক্যালসিয়াম কার্বোনেট ( CaCO3) চুন প্রয়োগ করে বাতাস সরবরাহ নিয়মিত করতে হবে। এর পর নির্বাচিত পানির গুণাগুণ পরীক্ষা করে পানি প্রবেশ করাতে হবে।

পানির গুণাগুণ:

» তাপমাত্রা থাকতে হবে ২৫ – ৩০ ডিগ্রী সেলসিয়াসের মধ্যে
» পানির রং – সবুজ, হালকা সবুজ, বাদামী হলে চলবে
» দ্রবীভূত অক্সিজেনের পরিমান প্রতি লিটারে ৭- ৮ মিলিগ্রাম থাকতে হবে
» পিএইচ হতে হবে ৭.৫ থেকে ৮.৫ এর মধ্যে
» ক্ষারত্ব থাকতে হবে প্রতি লিটারে ৫০ – ১২০ মিলিগ্রাম
» খরতা প্রতি লিটারে ৬০ – ১৫০ মিলিগ্রাম
» ক্যালসিয়াম প্রতি লিটারে ৪ – ১৬০ মিলিগ্রাম
» অ্যামোনিয়া প্রতি লিটারে ০.০১ মিলিগ্রাম
» নাইট্রাইট প্রতি লিটারে ০.১ – ০.২ মিলিগ্রাম
» নাইট্রেট প্রতি লিটারে ০ – ৩ মিলিগ্রাম
» ফসফরাস প্রতি লিটারে ০.১ – ৩ মিলিগ্রাম
» হাইড্রোজেন সালফাইড (H2S) প্রতি লিটারে ০.০১ মিলিগ্রাম
» আয়রন প্রতি লিটারে০.১ – ০.২ মিলিগ্রাম
» পানির স্বচ্ছতা ২৫ – ৩৫ সে.মি.
» পানির গভীরতা – ৩ থেকে ৪ ফুট
» ফলকের ঘনত্ব – ৩০০ গ্রাম / টন
» TDS প্রতি লিটারে ১৪০০০ – ১৮০০০ মিলিগ্রাম
» লবণাক্ততা – ৩ – ৫ ppt

পানিতে যেভাবে ফ্লক তৈরি করবেন

চাষ ট্যাংকের ১২ ভাগের ১ ভাগ পানি নিয়ে পানিতে ১০০০ ppm হারে আয়োডিন ছাড়া লবণ প্রয়োগ করতে হবে। লবণ প্রয়োগের পর TDS পরীক্ষা করে নিতে হবে। বায়োফ্লকের জন্য ১৪০০ – ১৮০০ ppm, TDS থাকা ভাল। যদি লবণ প্রয়োগের পর কাঙ্খিত TDS পাওয়া না যায়, তা হলে কম পরিমাণলবণ প্রয়োগ করে আদর্শ মাত্রায় TDS রাখতে হবে। এর পর প্রথম ডোজে ৫ ppm প্রেবায়োটিক, ৫০ ppm চিটাগুড়, ৫ ppm ইস্ট, পানি প্রতি টনের জন্য ১ লিটার, একটি প্লাস্টিকের বালতিতে অক্সিজেন সরবরাহ করে ৮- ১০ ঘন্টা কালচার করে প্রয়োগ করতে হবে। ২য় দিন থেকে ১ppm প্রোবায়োটিক, ৫ ppm চিটাগুড়, ১ ppm ইস্ট, প্রতি টনের জন্য ১ লিটার পানি দিয়ে কালচার করে প্রতি দিন প্রয়োগ করতে হবে।

বায়োফ্লক পর্যবেক্ষণ:

পানিতে যথাযথ পরিমাণ ফ্লক তৈরি হলো কিনা সেটা বুঝতে নীচের পর্যবেক্ষনগুলো নজরে রাখবেন
» পানির রং সবুজ বা বাদামী দেখায়।
» পানিতে ক্ষুদ্র ক্ষুদ কণা দেখা যায়।
» পানির অ্যামোনিয়া পরীক্ষা করলে পানি অ্যামোনিয়া মুক্ত দেখায়।
» প্রতি লিটার পানিতে ০.৩ গ্রাম ফ্লকের ঘনত্ব পাওয়া যাবে।
» ক্ষুদেপানা দেওয়ার পর তাদের বংশ বিস্তার পরিলক্ষিত হয়।

ট্যাংক তৈরি:

বায়োফ্লকের জন্য স্থায়ী বা অস্থায়ী দুই ধরনের ট্যাংকই চাইলে তৈরি করতে পারেন। ইট সিমেন্ট দিয়ে কিংবা স্টীলের পাত দিয়ে কিভাবে স্থায়ী ট্যাংক তৈরি করতে হয় সেটা সবাই জানেন। এখানে আমরা জানবো কিভাবে ত্রিপল দিয়ে অস্থায়ী ট্যাংক তৈরি করতে হয়।প্রথমে গ্রেড রড দিয়ে ট্যাংকের বৃত্তাকার খাঁচাটি তৈরি করতে হবে। যেই স্থানে ট্যাংকটি স্থাপন করা হবে সেই জায়গাতে খাঁচার পরিধির সমান করে সিসি ঢালাই দিতে হবে। বৃত্তের ঠিক কেন্দ্রে পানির একটি আউটলেট পাইপ স্থাপন করতে হবে। এরপর খাঁচাটিকে ঢালাই মেঝের উপর স্থাপন করে মাটিতে গেঁথে দিতে হবে। মেঝের মাটি শক্ত ও সমান হলে ঢালাইয়ের পরিবর্তে পরিধির সমান করে পুরু পলিথিন বিছিয়েও মেঝে প্রস্তুত করা যায়। এরপর উন্নতমানের তারপুলিন বা ত্রিপল দিয়ে সম্পূর্ণ খাঁচাটি ঢেকে দিতে হবে। তার উপর পুরু পলিথিন দিয়ে আচ্ছাদিত করে তাতে পানি মজুদ করতে হবে।

বায়োফ্লক তৈরীর কলাকৌশল
https://janajoruri.com/

এখানে আপনাদেরকে জানিয়ে রাখি ৩০০০ লিটার পানি ধারনের জন্য ট্যাংকের সাইজ হবে ৬ফিট ব্যাস এবং ৪.৫ ফিট উচ্চতা, ৫০০০ লিটারের জন্য ৮ফিট ব্যাস এবং ৪.৫ ফিট উচ্চতা, ৭৫০০ লিটারের জন্য ১০ফিট ব্যাস এবং ৪.৫ ফিট উচ্চতা, ১০০০০ লিটারের জন্য ১৩ ফিট ব্যাস এবং ৪.৫ ফিট উচ্চতা।

তারপর ট্যাংকের সাথে এয়ার পাম্পের সংযোগ ঘটাতে হবে পানিতে অক্সিজেন সরবরাহের জন্য। প্রতি ১০ হাজার লিটার পানির জন্য ৭০ থেকে ৮০ ওয়াটের এয়ার পাম্প লাগবে এবং সাথে ৮ থেকে ১০টি এয়ার স্টোন প্রয়োজন হবে।

বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষ বই PDF download

বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষ বই pdf download
https://janajoruri.com/

মাছ চাষের বই ফ্রি ডাউনলোড: বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষ করার নিয়ম

বই ডাউনলোড লিংক:

1. বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষ বই pdf

2. বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষ বই pdf

3. বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষ বই pdf

বিঃদ্রঃ বই গুলো অনলাইন থেকে সংগৃহীত। তাই কপিরাইট সম্পর্কিত কোনো দায়ভার এই ব্লগের এডমিন বহন করে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *