পেঁয়াজের উপকারিতা ও অপকারিতা

আসসালামু আলাইকুম, আজকে আমরা জানবো পেঁয়াজের উপকারিতা ও অপকারিতা নিয়ে।

পেঁয়াজ কি আমরা সবাই জানি।বলতে গেলে রান্নার কাজে পেঁয়াজ ছাড়া আমরা অচল। তবে এই পেঁয়াজ যে স্বাস্থ্যের পক্ষে কতটা উপকারি তা আমরা অনেকেই জানিনা।

প্রয়োজনীয় পুষ্টিগুণের সঙ্গে এতে ফাইটোকেমিক্যাল রয়েছে, যা আমাদের শরীরে নানা উপকারে আসে। পেঁয়াজ আমরা নানাভাবে খেতে পারি। তেমনই এর রয়েছে নানাবিধ গুণ

পেঁয়াজের পুষ্টিগুণঃ

১। ভিটামিন

২।মিনারেল

৩।ফাইবার

৪।ক্যালসিয়াম

৫।পটাসিয়াম

৬।সালফার

৭।ভিটামিন B এবং C থাকে।

পেঁয়াজের উপকারিতা ও অপকারিতা:

পেঁয়াজের উপকারিতা

পেঁয়াজের উপকারিতাঃ

১। সংক্রমণ রোধ করতেঃ

পেঁয়াজের কার্মিনেটিভ, অ্যান্টিমাইক্রোবায়াল, অ্যান্টিসেপ্টিক এবং অ্যান্টিবায়োটিক জাতীয় পদার্থ মজুত রয়েছে। তাই শরীরে কোথাও সংক্রমণ ঘটে থাকলে কাঁচা পেঁয়াজ একটু বেশি খান।

২। জ্বর-সর্দিতে প্রতিষেধক হিসেবেঃ

ঠান্ডা লাগার ফলে গলা ব্যথা, সর্দি-কাশি, জ্বর, অ্যালার্জি বা সামান্য গা ব্যথায় দারুণ কাজ করে। সামান্য পেঁয়াজের রসের সঙ্গে একটু মধু মিশিয়ে খান। জলদি সেরে উঠবেন।

৩। দেহের তাপমাত্র কমাতেঃ

জ্বরে দেহের তাপমাত্রা বেশি থাকলে পাতলা করে কাটা পেঁয়াজ কপালে রাখলে কিছু ক্ষণের মধ্যে তাপমাত্রা কমায়।

৪। রক্ত পড়া বন্ধ করতেঃ

গ্রীষ্মে বা শীতে অনেকের নাক থেকে রক্তপাত হয়। পেয়াজ থাকে তাড়াতাড়ি কেটে তার ঘ্রাণ নিতে থাকুন। রক্তপাত কমে যাবে বা একেবারে বন্ধ হয়ে যাবে।

৫। হজমশক্তি বাড়ায়ঃ

হজমে সমস্যা থাকলে  রোজ একটু কাঁচা পেঁয়াজ খান। পেঁয়াজ খাবার হজমের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন এনজাইম বাড়াতে সাহায্য করে। যার ফলে দ্রুত খাবার হজম হয়।

৬। ত্বকের সমস্যা মেটায়-

পোকামাকড়ের কামড় হোক, বা রোদে পোড়া ট্যান, কিংবা ব্রণ-ফুস্কুরি, এ সবের সমস্যা থাকলে সে সমস্ত জায়গায় একটু পেঁয়াজের রস লাগান। একটু কুটকুট করতে পারে, তবে দ্রুত কাজ করবে।

আরো পড়ুন: চুলের যত্নে পেঁয়াজের উপকারিতা

৭। ক্যান্সারের সঙ্গে লড়ে-

কোলন ক্যান্সারের মতো রোগের সঙ্গে লড়তে সাহায্য করে। (পেঁয়াজের উপকারিতা ও অপকারিতা)

৮। হৃদয় এবং হাড় ভালো রাখে-

হাড়ের কঠিন ব্যারাম অ্যাথেরসক্লেরোসিস এবং অস্টিওপোরোসিসের মতো রোগের সঙ্গে লড়ে। তার সঙ্গে দেহে খারাপ কোলেস্ট্রল কমায়। যার ফলে আপনার হার্ট সুস্থ থাকে।

৯। ডায়াবেটিকদের জন্য খুব ভালো-

দেহে ইনসুলিনের মাত্রা বাড়াতে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা ঠিক রাখতে পেঁয়াজ অত্যন্ত ভালো। যারা ডায়াবেটিক তারা চিকিত্স কের পরামর্শ নিয়ে রোজ পেঁয়াজ খান।

১০।রঙের গন্ধ দূর করে

ঘরে নতুন রং করালে এক ধরণের গন্ধ থাকে। এক টুকরা পেঁয়াজ কেটে পানিতে ডুবিয়ে নতুন রং করা ঘরের এক কোণায় রেখে দিন। পেঁয়াজ রঙের গন্ধ সম্পূর্ণ শুষে নেবে।

১১।মরিচা দূর করতেঃ

ছুরিতে প্রায় সময় মরিচা ধরে থাকে। একটি বড় পেঁয়াজ কাটুন মরিচা ধরা ছুরি দিয়ে।

একবারে সম্পূর্ণ মরিচা দূর না হলে আবারও পেঁয়াজ কাটুন।

১২।হাঁড়ি পাতিলের পোড়া দাগ দূর করতেঃ

অনেক সময় তরকারি পুড়ে হাড়ি-পাতিলে পোড়া দাগ হয়। এই দাগ দূর করতে পেঁয়াজ অনেক কার্যকরী। পেঁয়াজের রস দিয়ে পোড়া হাঁড়ি-পাতিল পরিষ্কার করুন। দেখবেন পোড়া দাগ একদম দূর হয়ে গেছে।

১৩।চুলা পরিষ্কার করতেঃ

তেল, চর্বিতে চুলা তেল চিটচিটে হয়ে যায়। এই তেল চিটচিটে ভাব দূর করে চুলা পরিষ্কার করতে পেঁয়াজের জুড়ি নেই।

পেঁয়াজের রস এবং সমপরিমাণে লবণ মিশিয়ে নিন। এটি দিয়ে চুলার দাগের ওপর ঘষুন। কিছুক্ষণ পর দেখবেন সব দাগ দূর হয়ে গেছে। (পেঁয়াজের উপকারিতা ও অপকারিতা)

আরো পড়ুন: ফর্সা ত্বকের জন্য পেয়াজ এর ব্যবহার

পেঁয়াজের অপকারিতাঃ

রান্না করে খেলে পেঁয়াজের তেমন স্বাস্থ্যঝুঁকি নাই বললেই চলে।

টানা ছয় সপ্তাহ ৪০০ মিলিগ্রাম পর্যন্ত পেঁয়াজ খেলে তেমন একটা ক্ষতির সম্ভাবনা নাই।

১।অতিরিক্ত পেঁয়াজ খেলে ত্বকে হালকা একজিমা বা জ্বালাপোড়া ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

২পেট খারাপ বা পেটেব্যাথার সমস্যাও দেখা দিতে পারে। অনেকের হজমে সমস্যা দেখা দিতে পারে।

৩।অনেকসময় অনেক ওষুধ চলার সময় পেঁয়াজ খেলে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।

৪।রক্ত জমাট বাঁধতে দেরী করাতে পারে।

৫।অনেকের পেঁয়াজ খেলে এলার্জি দেখা দিতে পারে।

এইছাড়াও পেঁয়াজ রক্তে চিনির মাত্রা কমাতে সাহায্য করে বলে অনেক গবেষণায় দেখা গেছে। ডায়াবেটিস থাকলে পেঁয়াজ খাওয়ার ব্যাপারে সচতন থাকবেন।

আশা করি, পেঁয়াজের উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে জেনে উপকৃত হবেন বং বাস্তব জীবনে এর কিছুটা হলেও প্রয়োগ ঘটাতে পারবেন।

Image by Steve Buissinne from Pixabay

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *