Connect with us

কৃষি

ধনিয়া পাতা চাষ পদ্ধতি – গরমে ধনিয়া পাতা চাষ পদ্ধতি

Published

on





জেনে নিন ধনিয়া পাতা চাষ পদ্ধতি ( গরমে ধনিয়া পাতা চাষ পদ্ধতি:



ধনিয়া পরিচিতি :


বাংলা নামঃ ধনিয়া
ইংরেজী নামঃ coriander
বৈজ্ঞানিক নামঃ Coriander sativum
পরিবারঃ Umbelliferae






ধনিয়া পাতা চাষ পদ্ধতি

ধনিয়া পাতা






ধনিয়া পাতা চাষ পদ্ধতি : ধনিয়া চাষ করে বাড়তি আয় করা সম্ভব। ব্যাপকভাবে ধনিয়ার চাষ করলে তা বিদেশেও রপ্তানি করার সুযোগ রয়েছে। এক্ষেত্রে বিভিন্ন রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান সহায়তা দিয়ে থাকে। ধনিয়া বিদেশে রপ্তানি করার জন্য এসব প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ করা যেতে পারে।





চাষের উপযোগী পরিবেশ ও মাটি:


















জলবায়ুমাটির প্রকৃতি
ভাদ্র মাসের মাঝামাঝি থেকে আশ্বিন মাসের মাঝামাঝি (সেপ্টেম্বর মাস) সময় ধনিয়ার বীজ বপনের জন্য উপযোগী।প্রায় সব রকমের মাটিতেই ধনিয়া চাষ করা হয়। তবে বেলে দো-আঁশ থেকে এঁটেল দো-আঁশ মাটি ধনিয়া চাষের জন্য উপযোগী।





ধনিয়া জাত:





দীর্ঘদিন ধরে দেশী জাতের ধনিয়া আমাদের দেশে চাষ হয়ে আসছে। এই জাত তুলনামূলকভাবে কষ্ট সহিষ্ণু, গাছ ছোট, কান্ড সুরু, পাতা ছোট, বীজ লনামূলকভাবে ছোট, ফলন কম কিন্তু পাতা ও বীজ খুব সুঘ্রাণযুক্ত। এসব জাত সমগ্র বাংলায় সাধারণত শীতকালেই চাষ করা হয়। বর্তমানে অনেক আধুনিক ও উচ্চ ফলনশীল জাত বের হয়েছে এর মধ্যে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট কর্তৃক উদ্ভাবিত ‘বারি ধনিয়া-১’ একটি আধুনিক উচ্চ ফলনশীল জাত। যেসব আধুনিক জাত পাতার জন্য সারা বছর চাষ করা হয় সেগুলোর মধ্যে অন্যতম গ্রীন লিফ, কেরিবি, এএলবি-৬০, এলবি-৬৫, সুগন্ধা ইত্যাদি।





গ্রীন লিফ
অধিক বৃষ্টি ও গরম সহনশীল, দ্রুত বর্ধনশীল জাত, গাছ ঝোপালো। বীজ বোনার ৩০-৩৫ দিন পর থেকেই পাতা তোলা যায়। ফলন ২-৩ টন/একর।





কেরিবি
কেরিবি জাতের পাতা চওড়া ও অধিক সুগন্ধযুক্ত, আকর্ষনীয় সবুজ রং-এর পাতা, সারা বছর চাষ করা যায়। বীজ বোনার ৩৫ দিন পর থেকেই ৭-৮ বার পাতা তোলা যায়, সহজে ফুল ধরে না।





এলবি-৬০
এলবি-৬০ জাত দ্রুত বর্ধনশীল, উজ্জ্বল সবুজ রং-এর পাতা, দেরীতে ফুল আসে। হেক্টর প্রতি ফলন ২.০-২.৫ টন।





এলবি-৬৫
এ জাতের গাছে প্রচুর পাতা হয়, দেরীতে ফুল আসে। হেক্টর প্রতি ফলন ২.০-২.৫ টন।





সুগন্ধা
এটি একটি দ্রুত বর্ধনশীল জাত, বীজ বপনের ৩০-৩৫ দিন পর পাতা সংগ্রহ করা যায়, ক্ষেতে বেশীদিন থাকে, দেরীতে ফুল আসে। হেক্টর প্রতি ফলন ২.০-২.৫ টন।





ধনিয়া বীজ বোনার সময় ও পদ্ধতি:





বীজ বোনার সময়:




দেশী জাতের ধনিয়া পাতা অক্টোবর-নভেম্বর মাসে চাষ করা হয় কিন্তু আধুনিক জাতের ধনিয়া পাতা প্রায় বছরই চাষ করা যায়। তবে শীতকালে ভাল ফলন দেয়। পাতার জন্য সেপ্টেম্বর থেকে বর্ষাকাল আসার আগ পর্যন্ত চাষ করা যায়।





বীজের পরিমাণ:



২০-২৫ কেজি/হেক্টর, ৮০-১০০ গ্রাম/শতাংশ।





বীজ বোনার পদ্ধতি



বীজ বোনার আগে জমি তৈরি করে নিতে হবে। ভালোভাবে জমি চাষ দিয়ে এক থেকে সোয়া মিটার চওড়া করে বেড় তৈরি করে নিতে হবে। দুই বেড়ের মাঝে ৪০-৫০ সেমি.নালা রাখতে হবে। জমি তৈরির সময় মাটির সাথে হেক্টর প্রতি ৫-৭ টন জৈব বা গোবর সার মিশিয়ে দিতে হবে।


বুনার আগ বীজ পানিতে ২৪ ঘন্টা ভিজিয়ে রাখতে হবে। এরপর বীজক আস্তে আস্তে ঘষতে হবে। এর ফল বীজরে দুটি মেরিকার্প (বীজরে দুটি অংশ) আলাদা হয়ে যাবে। বীজ বোনার আগে ছত্রাক নাশক (ব্যাভিস্টিন বা থায়রন) দ্বারা শোধন করে নিলে চারার গোড়া পচা রোগ প্রতিরোধ করা যাবে।


তৈরী করা জমিতে বীজ ছিটিয়ে বুনে হালকা চাষ ও মই দিয়ে বীজ ঢেকে দিতে হবে অথবা ৩০ সেমিঃ দূরে দূরে ১.৫ সেমিঃ গভীর করে লাইন টানতে হবে এবং উক্ত লাইনে বীজ বুনে ঝুরঝুরা মাট দিয়ে হালকাভাবে ঢেকে দিতে হবে। চারা গজানোর ১০-১৫ দিন পর প্রতি ৫ সেমিঃ পর পর একটি চারা রেখে বাকিগুলো তুলে ফেলতে হবে।


 সারের পরিমান :








সার প্রয়োগ





কৃষকদের মতে গুণগত মানসম্পন্ন ভালো ফলন পেতে হলে ধনিয়া চাষের জমিতে যতটুকু সম্ভব জৈব সার প্রয়োগ করতে হবে। মাটি পরীক্ষা করে মাটির ধরণ অনুযায়ী সার প্রয়োগ করতে হবে।





তবে জৈব সার ব্যবহার করলে মাটির গুণাগুণ ও পরিবেশ উভয়ই ভালো থাকবে। বাড়িতে গবাদি পশু থাকলে সেখান থেকে গোবর সংগ্রহ করা যাবে। নিজের গবাদি পশু না থাকলে পাড়া-প্রতিবেশি যারা গবাদি পশু পালন করে তাদের কাছ থেকে গোবর সংগ্রহ করা যেতে পারে।





এছাড়া ভালো ফলন পেতে হলে জমিতে আবর্জনা পচা সার ব্যবহার করা যেতে পারে। বাড়ির আশে-পাশে গর্ত করে সেখানে আবর্জনা, ঝরা পাতা ইত্যাদি স্তুপ করে রেখে আবর্জনা পচা সার তৈরি করা সম্ভব।





সেচ ও নিষ্কাশন:






১. শুকনা মৌসুমে ধনিয়া গাছে পানি সেচ দিতে হবে।





২. আবহাওয়া ও মাটির অবস্থা বুঝে সেচ দিতে হবে।





৩. জমিতে পানি নিকাশের ব্যবস্থা রাখতে হবে।





৪. চারা রোপণ করার পর সেচ দিতে হবে।





ধনিয়া পাতা চাষ পদ্ধতি রোগবালাই ও তার প্রতিকার:






ধনিয়া চাষের জমিতে পোকার আক্রমণ হলে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত জৈব কীটনাশক ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে পোকা দমন না হলে স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ইউনিয়ন পর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তা অথবা উপজেলা কৃষি অফিসে পরামর্শের জন্য যোগাযোগ করা যেতে পারে।





চাষের সময় পরিচর্যা:






১. পাতা ফসলের জন্য চারা গজানোর ১০-১৫ দিন পর প্রতি সারিতে ৫ সে.মি. পর পর একটি চারা রেখে বাকিগুলো তুলে ফেলতে হবে।





২. বীজ ফসলের ক্ষেত্রে প্রতি ১০ সে.মি. পর পর একটি চারা রাখতে হবে।





৩. নিরানি দিয়ে আগাছা পরিষ্কার করতে হবে ও মাটি ঝরঝরা করে দিতে হবে।





৪. প্রতিবার সেচের পর জমির ‘জো’ আসা মাত্র অর্থাৎ মাটিতে রস আসলে মাটির চটা ভেঙ্গে দিতে হবে।





ফসল সংগ্রহ:






পাতা ফসলের জন্য ৩০ থেকে ৩৫ দিনে এবং বীজ ফসলে জন্য ১১০-১২০ দিনে ফসল সংগ্রহ করা যায়।





সারের নাম সারের পরিমান / হেক্টর
গোবর সার ৮-১০ টন
ইউরিয়া ২০০-২৫০ কেজি
টি.এস.পি ১০০-১২৫ কেজি
এম.পি ১০০-১৫০ কেজি
জিপসাম ৬০-৭৫ কেজি
জিংক সালফেট ১২-১৫ কেজি


গরমে ধনিয়া পাতা চাষ পদ্ধতি:






Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কৃষি

কুমড়া চাষ পদ্ধতি

Published

on

By

কুমড়া চাষ পদ্ধতি: ঘরের চালে এ সবজি ফলানো হয় বলে এটি চাল কুমড়া নামে পরিচিত। তবে চাল কুমড়া শুধু চালে নয় ইহা জমিতে মাচায় চাষ করলে ফলন বেশি হয়।

কুমড়ার জাত:

আমাদের দেশে একটি উচ্চ ফলনশীল জাত উদ্ভাবন হয়েছে যা বার মাসই চাষ করা যায়। নাম তার বারি চাল কুমড়া-১।  জুপিটার, ইউনিক, ভেনাস, পানডা, সুমাইয়া, বাসন্তী, নিরালা, মনি, দেব-১২০৩, মাধবী ইত্যাদি অন্যতম।

মাটি:

প্রায় সব ধরনের মাটিতে চাল কুমড়া চাষ করা যায়। তবে চাল কুমড়া চাষের জন্য দো-আঁশ ও এটেল দো-আঁশ মাটি উত্তম।

বপনের সময়:

সারা বছরই চাল কুমড়ার চাষ করা যায়। তবে ফেব্রুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত বীজ বোনার উপযুক্ত সময়।

বীজের পরিমাণ:

প্রতি শতাংশ জমিতে প্রায় ১৫-২০ গ্রাম বীজের দরকার হয়।

আরো পড়ুন: ফুলকপি চাষ পদ্ধতি

জমি তৈরি :

চাল কুমড়া যদি বসতবাড়িতে করতে চান সেক্ষেত্রে ঘরের কোণে মাদা তৈরি করে তাতে ৩-৪টি বীজ বপন করতে হবে।

এবং চারা গজালে ও একটু বড় হলে বাঁশের কঞ্চি বা পাট কাঠি চারার গোড়ায় পুঁতে দিয়ে চারাগুলো চালায় তুলে দিতে হবে। আর জমিতে চাষ করলে জমি ভাল করে ৩-৪টি চাষ ও মই দিয়ে মাটি ঝুরঝুরে করে নিতে হবে।

বীজ বপন:

তারপর জমিতে মাদা তৈরি করে ৪-৫টি বীজ বপণ করতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে জমিতে যেন বৃষ্টির বা বন্যার পানি জমে না থাকে।

এরপর ২.৫ ফুট চওড়া ২ ফুট গভীর গর্ত তৈরি করতে হবে। ২ থেকে ২.৫০ মিটার দূরে দূরে মাদা তৈরি করে বীজ বুনতে হবে।

কুমড়ার সার প্রয়োগ পদ্ধতি:

ইউরিয়া ১০-১২ কেজি

টিএসপি ৮-১০ কেজি

মিউরেট অব পটাশ ৩-৫ কেজি

জিপসাম ৩ কেজি

জিংক অক্সাইড ১০০-১৫০ গ্রাম

জৈব সার যত দেওয়া যায় তত ভাল। (শতাংশ অনুযায়ী)

ইউরিয়া সার ছাড়া অন্যান্য সব সার বীজ বোনার ৫-৭ দিন আগে জমি তৈরি করার সময় মাদার মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হবে।

আরো পড়ুন: তরমুজ চাষ পদ্ধতি

পরিচর্যার নিয়ম(কুমড়া চাষ পদ্ধতি):

প্রত্যেক মাদায় সুস্থ সবল ২-৩ চারা রেখে বাকি চারা তুলে ফেলতে হবে।

নিয়মিত বিশেষ করে গাছের গোড়ার আগাছাগুলো পরিষ্কার ও গোড়ার মাটি কুপিয়ে আলগা করে দিতে হবে।

জমির মাটিতে রস না থাকলে সেচ দিতে হবে।

বর্ষার পানি নিকাশের জন্য নালার ব্যবস্থা করতে হবে। গাছ বড় হওয়ার সাথে সাথে মাচা তৈরি করে দিতে হবে।

পোকমাকড় দমন:

চাল কুমড়া গাছে বিভিন্ন পোকার আক্রমন হয়। এসকল পোকার মধ্যে মাছি পোকা সবচেয়ে ক্ষতিকর। মাছি পোকার আক্রমনে চালকুমড়ার ফলন মারাত্মক ভাবে ব্যাহত হয়।

এই পোকা প্রথমে চাল কুমড়ার ফুলের মধ্যে ডিম পাড়ে, পরবর্তীতে ডিম থেকে কীড়া বের হয়ে ফলের ভেতর খেয়ে ফল নষ্ট করে ফেলে। এপোকার জন্য ফলন নষ্ট হয় ৫০-৬০ ভাগ।

তাই আমাদের কঠোরভাবে মাছি পোকা দমন করতে হবে। এই পোকা দমন করার প্রথম উপায় হচ্ছে-

পোকা দেখা মাত্র মেরে ফেলা।

পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন চাষাবাদ করা। এ পোকা মারার ফাঁদ তৈরি করা এবং বিষটোপ ব্যবহার করা।

ফসল সংগ্রহ:

চাল কুমড়া গাছ লাগানোর ৬০-৭০ দিনের মধ্যে ফল দেওয়া শুরু করে।

চাল কুমড়া সবজি হিসেবে খেতে হলে সবুজ হুল যুক্ত ৪০০-৬০০ গ্রাম হলে তুলতে হবে।

মোরব্বা বা বড়ি দেওয়ার জন্য পরিপক্ক করে ১২০-১৩০ দিন পর তুলতে হবে।

আরো পড়ুন: টমেটো চাষ পদ্ধতি
Continue Reading

কৃষি

ফুলকপি চাষ পদ্ধতি

Published

on

By

ফুলকপি চাষ পদ্ধতি: শীতের জনপ্রিয় সবজি  ফুলকপি। তরকারি বা কারি ও স্যুপ তৈরি করে, বড়া ভেজে ফুলকপি খাওয়া হয়।এ দেশের প্রায় সর্বত্র ফুলকপির চাষ হয়। তবে টাঙ্গাইল জেলা আগাম জাতের ফুলকপি চাষের জন্য বিখ্যাত।

জেনে নিন, ফুলকপি চাষ পদ্ধতি:

মাটি:

ফুলকপি চাষের জন্য সুনিকাশযুক্ত উর্বর দোয়াশ ও এটেল মাটি সবচেয়ে ভাল।

ফুলকপির জাতের নাম:


এ দেশে এখন ফুলকপির পঞ্চাশটিরও বেশি জাত পাওয়া যাচ্ছে। শীতকালেই আগাম, মধ্যম ও নাবী মৌসুমে বিভিন্ন জাতের ফুলকপি আবাদ করা যায়। এ ছাড়া গ্রীষ্মকালে চাষের উপযোগী জাতও আছে।

ফুলকপির আগাম জাত:

অগ্রাহনী, আর্লিস্নোবল, সুপার স্নোবল, ট্রপিক্যাল স্নো-৫৫, সামার ডায়মণ্ড এফ ১, স্নো কুইন এফ ১, হিট মাস্টার  ও হাইব্রিড জাত। এসব জাতের বীজ শ্রাবণ ও ভাদ্র মাসে বুনতে হয়।

ফুলকপির মধ্যম আগাম জাত:

পৌষালী, রাক্ষুসী, স্নোবল এক্স, স্নোবল ওয়াই, হোয়াইট টপ, স্নো ওয়েভ, বিগটপ, বিগশট, মোনালিসা এফ ১, চন্ড্রিমা ৬০ এফ ১ ইত্যাদি। ভাদ্র ও আশ্বিন মাস হলো এসব জাতের বীজ বোনার উপযুক্ত সময়।

ফুলকপির নাবী জাত

মাঘী বেনারসি, ইউনিক স্নোবল, হোয়াইট মাউন্টেন, ক্রিস্টমাস, এরফার্ট ও হাইব্রিড জাত। এসব জাতের বীজ বোনার উপযুক্ত সময় হলো আশ্বিন-কার্তিক মাস।

ফুলকপি চারা তৈরি:

ফুলকপি চারা তৈরি

https://janajoruri.com/

ফুলকপির চারা বীজতলায় উৎপাদন করে জমিতে লাগানো হয়। বীজতলার আকার ১ মিটার পাশে ও লম্বায় ৩ মিটার হওয়া উচিত। সমপরিমাণ বালি, মাটি ও জৈবসার মিশিয়ে ঝুরাঝুরা করে বীজতলা তৈরি করতে হয়।

দ্বিতীয় বীজতলায় চারা রোপণের আগে ৭/৮ দিন পূর্বে প্রতি বীজতলায় ১০০ গ্রাম ইউরিয়া, ১৫০ গ্রাম টিএসপি ও ১০০ গ্রাম এমওপি সার ভালভাবে মিশিয়ে দিতে হবে। পরে চারা ঠিকমত না বাড়লে প্রতি বীজতলায় প্রায় ১০০ গ্রাম পরিমাণ ইউরিয়া সার ছিটিয়ে দেয়া ভাল।

ফুলকপির চারা রোপণ:

বীজ গজানোর ১০-১২ দিন পর গজানো চারা দ্বিতীয় বীজতলায় স্থানান্তর করতে হয়। চারায় ৫-৬টি পাতা হলেই তা রোপণের উপযুক্ত হয়।

সাধারণত ৩০-৩৫ দিন বয়সের চারা রোণ করা হয়। সারি থেকে সারির দূরত্ব দেয়া লাগে ৬০ সেন্টিমিটার বা ২ ফুট এবং প্রতি সারিতে চারা থেকে চারার দূরত্ব দিতে হবে ৪৫ সেন্টিমিটার বা দেড় ফুট। চারা রোপণের সময় সতর্ক থাকতে হবে যেন শিকড় মুচড়ে বা বেঁকে না যায়।

এতে চারার মাটিতে প্রতিষ্ঠা পেতে দেরী হয় ও বৃদ্ধি কমে যায়।

আরো পড়ুন: তরমুজ চাষ পদ্ধতি

ফুলকপির সারের পরিমাণ:

সারের নাম সারের পরিমাণ/প্রতি শতকে প্রতি হেক্টরে
  ইউরিয়া ১.০-১.২ কেজি ২৫০-৩০০ কেজি
  টি এস পি ০.৬-০.৮ কেজি ১৫০-২০০  কেজি
  এমওপি ০.৮-১.০ কেজি ২০০-২৫০ কেজি
  বোরাক্স ২৮-৪০ গ্রাম ৭.০-১০.০ কেজি
  গোবর ৬০-৮০ কেজি ১৫-২০ টন

ফুলকপির সার প্রয়োগ পদ্ধতি:

জমি তৈরির সময় অর্ধেক গোবর সার, পুরো টিএসপি, অর্ধেক এমওপি এবং বোরন সার প্রয়োগ করতে হবে। বাকি অর্ধেক গোবর সার চারা রোপণের ১ সপ্তাহ আগে মাদায় দিয়ে মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হবে। এরপর চারা রোপণ করে সেচ দিতে হবে।

ইউরিয়া এবং বাকি অর্ধেক এমওপি ও বোরন সার ৩ কিসি-তে প্রয়োগ করতে হবে। প্রথম কিসি-র সার দিতে হবে চারা রোপণের ৮-১০ দিন পর, দ্বিতীয় কিসি-র সার দিতে হবে চারা রোপণের ৩০ দিন পর এবং শেষ কিসি-র সার দিতে হবে ৫০ দিন পর।

তবে পুরো বোরাক্স বা বোরন সার জমি তৈরির সময় দিয়ে দিলেও অসুবিধে নেই। আর সে সময় দিতে না পারলে পরবর্তীতে ১ম ও ২য় কিস-ও সার দেয়ার সময় প্রতি ১০ লিটার পানিতে ১০-১৫ গ্রাম বোরিক পাউডার গুলে পাতায় স্পে করে দেয়া যায়। তবে সকালে শিশির ভেজা পাতায় যেন দানা সার না পড়ে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

সেচ ও আগাছা ব্যবস্থাপনা :

সার দেয়ার পরপরই সেচ দিতে হবে। এ ছাড়া জমি শুকিয়ে গেলে সেচ দিতে হবে। জমিতে পানি বেশি সময় ধরে যেন জমে না থাকে সেটাও খেয়াল করতে হবে। সার দেয়ার আগে মাটির আস্তর ভেঙে দিয়ে নিড়ানি দিয়ে আগাছা পরিষ্কার করে দিতে হবে।

বিশেষ পরিচর্যা(ফুলকপি চাষ পদ্ধতি):

ফুলকপি গাছের সারি মাঝে সার দেয়ার পর সারির মাঝখানের মাটি তুলে দুপাশ থেকে গাছের গোড়ায় টেনে দেয়া যায়। এতে সেচ ও নিকাশের সুবিধা হয়।

তবে ফুলকপির ফুল সাদা রাখার জন্য কচি অবস্থায় চারদিক থেকে পাতা টেনে বেঁধে ফুল ঢেকে দিতে হবে। সূর্যের আলো সরাসরি ফুলে পড়লে ফুলের রঙ তথা ফুলকপির রঙ হলুদাভ হয়ে যাবে।

ফুলকপির রোগ ও প্রতিকার:


ফুলকপির লেদা পোকা:

লেদা পোকা,

লেদা পোকা

পোকা গাছের কচি পাতা, ডগা ও পাতা খেয়ে নষ্ট করে।

লেদা পোকা প্রতিকার:

  • পোকার ডিম ও লেদা হাত দারা বাছাই করা।
  • ফুলকপি চাষের জমি পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা।
  • পোকার আক্রমণ বেশি হলে অনিমোদিত কীটনাশক ব্যবহার করা। যেমন- সাইপারমেথ্রিন ( রিপকট/ কট/রেলোথ্রিন ) ১ মিলি/ লিটার পানি অথবা ক্যারাটে ১ মিলি/ লিটার পানিতে দিয়ে স্প্রে করতে হবে।

ফুলকপির কাটুই পোকা:

কাটুই পোকা

কাটুই পোকা

কাটুইপোকার কীড়া চারা গাছের গোড়া কেটে দেয়।

কাটুই পোকা প্রতিকার:

  • জমিতে সন্ধ্যার পর বিষটোপ ব্যবহার করতে হবে অর্থাৎ (১ কেজি চালের কুঁড়া বা গমের ভূসির সাথে ২০ গ্রাম সেভিন নামক কীটনাশক পানি বা চিটাগুড়ের সাথে ব্যবহার)।
  • জমিতে চাষের সময় দানাদার কীটনাশক ব্যবহারকরতে হবে। যেমন-ডায়াজিনন ১৩ কেজি/ হেক্টর অথবা কার্বোফুরান ১০ কেজি/ হেক্টর দিতে হবে।
  • এছাড়াও ক্লোরপাইরিফস ( ডার্সবান/ লর্সবান ) ২ লিটার পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে।

আরো পড়ুন: টমেটো চাষ পদ্ধতি

ফুলকপির জাবপোকা:

জাব পোকা

জাব পোকা

জাবপোকা গাছের পাতা ও কচি ডগার রস শুষে খায়।

জাবপোকা প্রতিকার:

  • ফুলকপি চাষের জমি পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা।
  • জৈব বালাইনাশক ব্যবহার। যেমন- নিম পাতার রস, আতা গাছের পাতার রস, সাবানের গুড়া পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করা যায়।
  • আক্রমণ বেশি হলে অনুমোদিত কীটনাশক দিতে হবে। যেমন-ইমিডাক্লোপ্রিড ( টিডো /ইমিটাফ ) ০.৫ মিলি/লিটার পানি অথবা সবিক্রন ১ মিলি/লিটার পানিতে দিয়ে স্প্রে করতে হবে।

ফুলকপির গোড়া পচা রোগ:

লক্ষণ:

  • আক্রান্ত চারার গোড়ার চারদিকে পানিভেজা দাগ দেখা যায় ।
  • ক্রমণের দুইদিনের মধ্যে চারা গাছটি ঢলে পড়ে ও আক্রান্ত অংশে তুলারমতো সাদামাইসেলিয়াম দেখা যায় ও অনেক সময় সরিষার মত ছত্রাকের অনুবীজ পাওয়া যায়।
  • শিকড় পচে যায়, চারা নেতিয়ে পড়ে গাছ মারা যায় ।
  • স্যাতস্যাতে মাটি ও মাটির উপরিভাগ শক্ত হলে রোগের প্রকোপ বাড়ে ।
  • রোগটি মাটিবাহিত বিধায় মাটি, আক্রান্ত চারা ও পানির মাধ্যমে বিস্তার লাভ করে ।
  • চারা টান দিলে সহজে মাটিথেকে উঠে আসে।

গোড়া পচা রোগ প্রতিকার:

  • পরিমিত সেচ ও পর্যাপ্ত জৈব সার প্রদান করা ও পানি নিস্কাশনের ভালো ব্যবস্থা রাখা।
  • সরিষার খৈল প্রতি হেক্ট্ররে ৩০০ কেজি হারে প্রয়োগ করতে হবে।
  • প্রতি লিটার পানিতে ইপ্রোডিয়ন বা কার্বেন্ডাজিম গ্রুপের ছত্রাকনাশক যেমন: রোভরাল ২ গ্রাম বা অটোস্টিন ১ গ্রাম হারে মিশিয়ে স্প্রে করে মাটিসহ ভিজিয়ে দিতে হবে। অথবা
  • প্রতি লিটার পানিতে কপার অক্সিকোরাইড ৪গ্রাম /১ লিটার পানি + স্ট্রেপ্টোমাইসিন ১ গ্রাম/১০ লিটার পানিতে মিশিয়ে ৭ দিন পর পর ২ বার স্প্রে করতে হবে।
  • ম্যানকোজেব + কার্বেণ্ডাজিম ( কম্প্যানিয়ন ) বা ম্যানকোজেব ( ইণ্ডোফিল এম ৪৫) ২ গ্রাম/ লিটার পানিতে দিয়ে গাছের গোড়ায় স্প্রে করতে হবে।

ফুলকপির কার্ড বা মাথা পচা রোগ:

ফুলকপির কার্ড বা মাথা পচা রোগ,ফুলকপি

ফুলকপির কার্ড বা মাথা পচা রোগ

লক্ষণ:

  • ফুলকপির কার্ডে প্রথমে বাদামি রঙের গোলাকৃতি দাগ দেখা যায়। পরবর্তীতে একাধিক দাগ মিশে বড় দাগের সৃষ্টি করে।
  • ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণে কার্ডে দ্রুত পচন ধরে নষ্ট হয়ে যায়।
  • আক্রান্ত কার্ড বা মাথা থেকে খুব কম পুষ্পমঞ্জরি বের হয়। ফলে এটি খাওয়ার অযোগ্য হয়ে যায়।

আরো পড়ুন: বরবটি চাষ পদ্ধতি

ফুলকপির কার্ড বা মাথা পচা রোগ প্রতিকার:

  • সুস্থ গাছ থেকে বীজ সংগ্রহ করতে হবে।
  • বীজ বপনের আগে প্রোভ্যাক্স বা কার্বেনডাজিম বা নইন প্রতি কেজি বীজে ২ গ্রাম হারে দিয়ে বীজ শোধন করতে হবে।
  • ইপ্রোডিয়ন এবং কার্বেনডাজিম ছত্রাকনাশক প্রতিটি পৃথক পৃথকভাবে ০.২% হারে মিশিয়ে ১০-১২ দিন পর পর স্প্রে করতে হবে। তবে মনে রাখতে হবে,ওষুধ প্রয়োগের ৫ দিন পর পর্যন্ত ফসল তোলা যাবে না।

ফসল তোলা ও ফলন:

সাদা রঙ ও আঁটো সাঁটো থাকতে থাকতেই ফুলকপি তুলে ফেলা উচিত। মাথা ঢিলা ও রঙ হলদে ভাব ধরলে দাম কমে যায়। একর প্রতি ফলন ১৫-২৫ টন, হেক্টরে ৩৫-৬০ টন।

আরো পড়ুন: ফুলকপির উপকারিতা ও অপকারিতা

এই ছিলো ফুলকপি চাষ পদ্ধতি  ভালো লাগলে ,অবশ্যই লাইক কমেন্ট শেয়ার করবেন।

Photo Credit: Pixabay

সূত্র : অনলাইন

Continue Reading

কৃষি

তরমুজ চাষ পদ্ধতি

Published

on

By

তরমুজ চাষ পদ্ধতি: তরমুজ একটি সুস্বাদু এবং গরমের সময়  অত্যন্ত তৃপ্তিদায়ক ও তৃষ্ণা নিবারক একটি ফল। আমাদের দেশে যেসব উন্নতমানের তরমুজ পাওয়া যায় তা দেশের বাইরে থেকে আমদানিকৃত সংকর জাতের বীজ থেকে চাষ করা হয়ে থাকে।

তরমুজ চাষ পদ্ধতি:

জমি তৈরি:

প্রয়োজনমতো চাষ ও মই দিয়ে জমি তৈরি করতে হবে। জমি তৈরির পর মাদা প্রস্তুত করতে হবে। মাদাতে সার প্রয়োগ করে চারা লাগানো উচিত।
তরমুজ ক্ষেত

বীজ বপন সময়:

বাংলাদেশে ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত আবহাওয়া তরমুজ চাষের উপযোগী। বীজ বোনার জন্য ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম পক্ষ সর্বোত্তম।

রোপণ পদ্ধতি:

তৈরি চারা

উদাহরণ: তৈরি চারা

সাধারণত মাদায় সরাসরি বীজ বপন পদ্ধতি প্রচলিত থাকলেও চারা তৈরি করে মাদাতে চারা রোপণ করাই উত্তম।

বীজ বপন:

সাধারণত প্রতি মাদায় ৪-৫টি বীজ বপন করা হয়। বপনের ৮-১০ দিন আগে মাদা তৈরি করে মাটিতে সার মিশাতে হয়। দু মিটার দূরে দূরে সারি করে প্রতি সারিতে দু মিটার অন্তর মাদা করতে হয়। প্রতি মাদা ৫০ সেমি. প্রশস্ত ও ৩০ সেমি. গভীর হওয়া বাঞ্চনীয়। চারা গজানোর পর প্রতি মাদায় দুটি করে চারা রেখে বাকিগুলো তুলে ফেলতে হবে।

আরো পড়ুন: টমেটো চাষ পদ্ধতি

চারা রোপণ:

বীজ বপণের চেয়ে তরমুজ চাষের জন্য চারা রোপণ করা উত্তম। এতে বীজের অপচয় কম হয়। চারা তৈরির জন্য ছোট ছোট পলিথিনের ব্যাগে বালি ও পচা গোবর সার ভর্তি করে প্রতি ব্যাগে একটি করে বীজ বপন করা হয়। ৩০-৩৫ দিন বয়সের ৫-৬ পাতাবিশিষ্ট একটি চারা মাদায় রোপণ করা হয়।

বীজের পরিমাণ:

প্রতি একরে ৩৫০-৪০০ গ্রাম বীজের প্রয়োজন হয়।

তরমুজ চাষে সারের পরিমান:


একর প্রতি সারের পরিমান

জমি তৈরি সময় সারের পরিমান:

গোবর/কম্পোস্ট ৮ টন সব

টিএসপি ৪০ কেজি সব

মুক্তাপ্লাস (জিংক সালফেট) ৫ কেজি সব

ম্যাগপ্লাস (ম্যাগনেসিয়াম সালফেট) ৯-১০ কেজি সব

হেসালফ (৮০% সালফার) ৩ কেজি সব

কার্বোফুরান/ফিপ্রোনিল জাতীয় দানাদার ১০-১২ কেজি সব

পরবর্তী তরমুজ চাষে সারের পরিমান:

১ম বার– (চারা রোপণের ১০-১৫ দিন পর)- ইউরিয়া- ৪০ কেজি- এমপি ৩২ কেজি

২য় বার– (প্রথম ফুল ফোটার সময়)- ইউরিয়া- ২৫ কেজি- এমপি ৩২ কেজি

৩য় বার– (ফল ধারণের সময়)- ইউরিয়া- ২৫ কেজি- এমপি ৩২ কেজি

৪র্থ বার– (ফল ধারণের ১৫-২০ দিন পর)- ইউরিয়া- ২৫ কেজি- এমপি ৩২ কেজি

বীজের অঙ্কুরোদগম:

শীতকালে খুব ঠাণ্ডা থাকলে বীজ ১২ ঘন্টা পানিতে ভিজিয়ে রেখে গোবরের মাদার ভেতরে কিংবা মাটির পাত্রে রক্ষিত বালির ভেতরে রেখে দিলে ২-৩ দিনের মধ্যে বীজ অঙ্কুরিত হয়। বীজের অঙ্কুর দেখা দিলেই বীজ তলায় অথবা মাদায় স্থানান্তর করা ভালো।

অন্তর্বর্তীকালীন পরিচর্যা:

শুকনো মৌসুমে সেচ দেয়া খুব প্রয়োজন। গাছের গোড়ায় যাতে পানি জমে না থাকে সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। প্রতিটি গাছে ৩-৪টির বেশি ফল রাখতে নেই। গাছের শাখার মাঝামাঝি গিটে যে ফল হয় সেটি রাখতে হয়। চারটি শাখায় চারটি ফলই যথেষ্ট। এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে যে ৩০টি পাতার জন্য মাত্র একটি ফল রাখা উচিত।

আরো পড়ুন: বরবটি চাষ পদ্ধতি

পরাগায়ন:

সকালবেলা স্ত্রী ও পুরুষ ফুল ফোটার সাথে সাথে স্ত্রী ফুলকে পুরুষ ফুল দিয়ে পরাগায়িত করে দিলে ফলন ভালো হয়।

তরমুজের পোকামাকড় ও রোগবালাই দমন:


পাতার বিটল পোকা:

প্রথম দিকে পোকাগুলোর সংখ্যা যখন কম থাকে তখন পোকা ডিম ও বাচ্চা ধরে নষ্ট করে ফেলতে হবে। পোকার সংখ্যা বেশি হলে রিপকর্ড ১০ইসি/  রিজেন্ট ৫০ এসসি ০১ মিলি/লিটার মাত্রায় অথবা মিপসিন ৭৫ ডব্লিউপি ২.৫গ্রাম/লিটার বা হেক্লেম ৫ এসজি ১০ গ্রাম/১০লিটার মাত্রায় যেকোন একটি   ৫-৭ দিন পরপর স্প্রে করতে হবে।

জাব পোকা:

জাব পোকা

জাব পোকা

এ পোকা গাছের কচি কাণ্ড, ডগা ও পাতার রস শুষে খেয়ে ক্ষতি করে। এ পোকা দমনের জন্য হেমিডর অথবা প্রিমিডর (ইমিডাক্লোপ্রিড) ৭০ ডব্লিউজি ০২গ্রাম/১০লিটার অথবা  নোভাস্টার (বাইফেনথ্রিন+এবামেকটিন) ৫৬ ইসি/টলস্টার ২.৫ ইসি ০২ মিলি/লিটার স্প্রে করতে হবে।

ফল ছিদ্রকারী পোকা:

ফল ছিদ্রকারী পোকা,তরমুজ চাষ,তরমুজ

ফল ছিদ্রকারী পোকা

স্ত্রী পোকা ফলের খোসার নিচে ডিম পাড়ে। ডিম ফুটে কীড়াগুলো বের হয়ে ফল খেয়ে নষ্ট করে ফেলে এবং ফলগুলো সাধারণত পচে যায়। এ পোকা দমনের জন্য রিপকর্ড/রিজেন্ট/হেক্লেম স্প্রে করতে হবে। ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহার করা যেতে পারে।

লাল মাকড়/হলুদ মাকড়:

লাল মাকড় হলুদ মাকড়

লাল মাকড় / হলুদ মাকড়

চেনার উপায় : এরা দেখতে অতি ক্ষুদ্র। পাতার নীচে থাকে।

ক্ষতির ধরণ : পাতার রস চুষে খায়। পাতা কুঁচকে শুকিয়ে যায়। পরে পাতা ঝড়ে পরে। কুশির বৃদ্ধি থেমে যায়।
আক্রমণের পর্যায় : বাড়ন্ত পর্যায়
ফসলের যে অংশে আক্রমণ করে : পাতা

দমন ব্যবস্থা : 

১। সালফার জাতীয় বালাইনাশক (যেমন হেসালফ ৮০% ডিএফ, কুমুলাস ৮০% ডিএফ, ম্যাক সালফার ৮০ ডব্লিউপি, থিয়োভিট ৮০ ডব্লিউজি প্রতি লিটার পানিতে ২গ্রাম হারে মিশিয়ে) ১০ দিন পরপর ২-৩ বার স্প্রে করুন।
২। ইন্ট্রাপিড ১০এসসি/ নোভাস্টার ৫৬ইসি প্রতি লিটার পানিতে ০২মিলি হারে মিশিয়ে ৭-১০ দিন পর পর স্প্রে করতে হবে। অথবা পাইমেট্রজিন/ মিথাইল আইসোপ্রোকার্ব/ এবামেকটিন জাতীয় মাকড়নাশক স্প্রে করতে হবে।

থ্রিপস:

চেনার উপায় : এরা দেখতে অতি ক্ষুদ্র। পাতার উপরে থাকে।

ক্ষতির ধরণ : পাতার রস চুষে খায়। পাতা কুঁচকে শুকিয়ে যায়। পরে পাতা ঝড়ে পরে। কুশির বৃদ্ধি থেমে যায়।
আক্রমণের পর্যায় : বাড়ন্ত পর্যায়
ফসলের যে অংশে আক্রমণ করে পাতা

দমন ব্যবস্থা:

ইন্ট্রাপিড ১০এসসি/ নোভাস্টার ৫৬ইসি প্রতি লিটার পানিতে ০২মিলি হারে মিশিয়ে ৭-১০ দিন পর পর স্প্রে করতে হবে। অথবা পাইমেট্রজিন/ মিথাইল আইসোপ্রোকার্ব/ এবামেকটিন জাতীয় মাকড়নাশক স্প্রে করতে হবে।

আরো পড়ুন: পিয়াজ চাষ পদ্ধতি

কাণ্ড পঁচা রোগ:

এ রোগের আক্রমণে তরমুজ গাছের গোড়ার কাছের কাণ্ড পঁচে গাছ মরে যায়। প্রতিকারের জন্য ৪ গ্রাম হেমেনকোজেব অথবা একরোবেট এমজেড+ডিফেন্স ৩৫এসসি ০১মিলি/ লিটার পানিতে মিশিয়ে ৫-৭ দিন পর পর গাছে স্প্রে করতে হবে।

অথবা কোগার (এজক্সিস্ট্রবিন+সিপ্রোকোনাজল) ২৮ এসসি ০১মিলি/ লিটার পানিতে মিশিয়ে ৫-৭ দিন পর পর গাছে স্প্রে করতে হবে।

ফিউজেরিয়াম উইল্ট রোগ:

এ রোগের আক্রমণে গাছ ঢলে পড়ে মারা যায়। পানি নিষ্কাশনের সুব্যবস্থা করা হলে এ রোগের প্রকোপ কম থাকে। রোগাক্রান্ত গাছ তুলে পুড়িয়ে ফেলতে হবে।

ফসল সংগ্রহ:

জাত ও আবহাওয়ার ওপর নির্ভর করে তরমুজ পাকে। সাধারণত ফল পাকতে বীজ বোনার পর থেকে ৮০-১১০ দিন সময় লাগে। তরমুজের ফল পাকার সঠিক সময় নির্নয় করা একটু কঠিন। কারণ অধিকাংশ ফলে পাকার সময় কোনো বাহ্যিক লক্ষণ দেখা যায় না। তবে নীচের লক্ষণগুলো দেখে তরমুজ পাকা কি না তা অনেকটা অনুমান করা যায়।

ফলের বোঁটার সঙ্গে যে আকর্শি থাকে তা শুকিয়ে বাদামি রং হয়।

খোসার উপরে সূক্ষ লোমগুলো মরে পড়ে গিয়ে তরমুজের খোসা চকচকে হয়।

তরমুজের যে অংশটি মাটির ওপর লেগে থাকে তা সবুজ থেকে উজ্জল হলুদ রংঙের হয়ে ওঠে।

তরমুজের শাঁস লাল টকটকে হয়।

আঙ্গুল দিয়ে টোকা দিলে যদি ড্যাব ড্যাব শব্দ হয় তবে বুঝতে হবে যে ফল পরিপক্কতা লাভ করেছে। অপরিপক্ব ফলের বেলায় শব্দ হবে অনেকটা ধাতবীয়।

ফলন:

সযত্নে চাষ করলে ভালো জাতের তরমুজ থেকে প্রতি হেক্টরে ৫০-৬০ টন ফলন পাওয়া যায়।

এই ছিলো তরমুজ চাষ পদ্ধতি  ভালো লাগলে ,অবশ্যই লাইক কমেন্ট শেয়ার করবেন।

Photo Credit: Pixabay

সূত্র : অনলাইন

Continue Reading

Trending