দুধের উপকারিতা – Jana Joruri

দুধের উপকারিতা: মানুষের দেহ গঠনের জন্য পুষ্টিকর খাদ্যের মাঝে দুধ অন্যতম। মানুষের দেহের রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়িয়ে দিয়ে শরীরকে রোগমুক্ত রাখে দুধ। মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য দুধের ভূমিকা অপরিসীম। সর্বোচ্চ পুষ্টিমানের জন্যই দুধ সব খাদ্যের সেরা।

জেনে নিন, দুধের উপকারিতা ও পুষ্টিগুণ:-

দুধের পুষ্টিগুণ:

  1. এক কাপ পুরো দুধে ৩.২৫% দুধের চর্বি থাকে এবং এটি ভিটামিন ডি এর ভাল উৎস ।
  2. এটিতে 149 ক্যালোরি এবং প্রায় 7.9 গ্রাম ফ্যাট এবং 4.6 গ্রাম স্যাচুরেটেড ফ্যাট থাকে।
  3. পুরো দুধে 7.7 গ্রাম প্রোটিন এবং 11.7 গ্রাম কার্বোহাইড্রেট রয়েছে।
  4. সম্পূর্ণ দুধ 0 টি ফাইবার সামগ্রী এবং 28% ডিভি ক্যালসিয়াম থাকে।
  5. এতে 8% ডিভি ভিটামিন এ এবং প্রায় 31% ডিভি ভিটামিন ডি রয়েছে।

দুধের স্বাস্থ্য উপকারিতা:

হাড়ের সুরক্ষা:

ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, ম্যাগনেসিয়াম, প্রোটিন, হাড়কে মজবুত আর শক্তিশালী করতে যা যা প্রয়োজনীয় দুধ আমাদের সেই সব চাহিদাই মেটায়৷ দুধ বা দুধ জাতীয় খাদ্যদ্রব্য শিশুদের জন্য খুবই প্রয়োজনীয়৷ পরবর্তী সময়ে অনেক রোগ প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে৷

সুন্দর দাঁতের জন্য:

দুধ আমাদের দাঁতের সুরক্ষায় সাহায্য করে৷ তাই চিকিৎসকেরাও দুধ খাওয়ার কথা বলে থাকেন৷

রক্তচাপ:

প্রতিদিন ফল-সবজির সঙ্গে পরিমাণ মতো দুধ খেলে তা রক্তচাপের ভারসাম্য ঠিক রাখতে সাহায্য করে৷ বিশেষ করে উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে যাঁদের, তাঁদের ক্ষেত্রে খুবই উপকারি৷

হৃদরোগ:

হাইপারটেনশন এবং ডায়াবেটিস-এর আক্রমণের ভয় অনেকটাই কেটে যায় দুধ বা দুধ জাতীয় খাদ্য খেলে৷

ঘুম ভালো হয়:

ঘুম না আসা খুব কমন একটি সমস্যা এখন।

এক্ষেত্রে বেশিরভাগ চিকিৎসকই পরামর্শ দেন রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে এক গ্লাস গরম দুধ খেতে।

সারাদিনের জন্য শক্তি:

রাত্রে এক গ্লাস হালকা গরম দুধ খেয়ে ঘুমাতে গেলে পরদিন সকালে আপনার এনার্জি লেভেল দেখে আপনি নিজেই অবাক হয়ে যেতে পারেন। যেহেতু দুধের মধ্যে প্রোটিন এবং ল্যাক্টিন রয়েছে তা আপনাকে রিল্যাক্স করতে সাহায্য করে, ফলে আপনি সকালে বেশ তরতাজাভাবে ঘুম থেকে উঠতে পারবেন।

ত্বক সুন্দর করে:

অনেকেই ত্বকের কোমলতা বাড়াতে এবং ত্বককে স্বাস্থ্যোজ্জ্বল করতে দুধের সর মুখে মাখেন। দুধ খেলেও কিন্তু ত্বক উজ্জ্বল হয় এবং তারুণ্যে ভরপুর থাকে। দুধে ভিটামিন বি১২ ও থাকে যা ত্বকের ইল্যাস্টিসিটি বজায় রাখতে সাহায্য করে ফলে অকালে চামড়া ঝুলে যায়না এবং ত্বক নরম ও তরতাজা থাকে।

ছাগলের দুধের স্বাস্থ্য উপকারিতা:

 সহজেই শরীর দ্বারা শোষিত এবং হজম:

গরুর দুধের তুলনায় ছাগলের দুধে থাকা ফ্যাট কম থাকে।

এছাড়াও, গ্যাস্ট্রিক অ্যাসিড ক্রিয়াকলাপ দ্বারা গঠিত ছাগলের দুধের প্রোটিন ক্লাম্পগুলি আরও নরম হয় তাই তাদের হজম সহজ হবে।

ক্যালসিয়াম ও প্রয়োজনীয় ফ্যাটি অ্যাসিড বেশি তবে কোলেস্টেরল কম

কিছু লোক গরুর দুধকে উচ্চ ক্যালসিয়াম জাতীয় খাবার হিসাবে বিবেচনা করে। আসলে, ছাগলের দুধে ক্যালসিয়াম এবং ফসফরাস সমৃদ্ধ যা হাড় গঠনের জন্য ভাল are এছাড়াও, উচ্চ মাত্রার প্রয়োজনীয় ফ্যাটি অ্যাসিড যেমন লিনোলিক এবং আরাচিডোনিক মোট কোলেস্টেরলের মাত্রা হ্রাস করতে পারে এবং শরীরে ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা বজায় রাখতে পারে।

কারণ এই ফ্যাটি অ্যাসিডগুলির উপাদান হ’ল শক্তির উত্স যা দ্রুত পুড়ে যায় এবং ফ্যাট হিসাবে শরীরে জমা হয় না। যে কারণে ছাগলের দুধ হৃদরোগ প্রতিরোধে অন্যতম স্বাস্থ্যকর পানীয় হতে পারে।

ত্বকের যত্নের জন্য ভাল

ছাগলের দুধে পাওয়া ল্যাকটিক অ্যাসিডের উপাদানগুলি মৃত ত্বকের কোষগুলির শরীরকে পরিষ্কার করতে এবং আপনার ত্বকের রঙ উজ্জ্বল করতে সহায়তা করে। সুতরাং, ছাগলের দুধের পণ্যগুলি ত্বকের যত্ন সৌন্দর্য পণ্যগুলিতে যেমন ছাগলের দুধের সাবান এবং ছাগলের দুধের মুখোশগুলিতে পাওয়া যায় তবে অবাক হবেন না।

অ্যালার্জির ঝুঁকি কম

গরুর দুধ থেকে আপনার কি অ্যালার্জি রয়েছে? ছাগলের দুধ পান করার চেষ্টা করুন। ছাগলের দুধে গাভীর দুধের তুলনায় অ্যালার্জির ঝুঁকি কিছুটা কম থাকে। এটি কারণ ছাগলের দুধে অল্প পরিমাণে প্রোটিন যৌগ থাকে যা আলফা 1 কেসিন নামে থাকে।

সাবধানতা:

  •  যাদের কিডনিতে পাথর হয়েছে তাদের দুধের ব্যাপারে সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত।
  •  যাদের শরীরে ‘ল্যাক্টেজ’ (lactase) নামক এনজাইমের অভাব আছে, তাদের উচিত দুধ খাওয়ার ব্যাপারে সাবধান হওয়া।
  • যার ক্ষুদ্রান্ত্রের প্রথম অংশের আলসার তথা ডিউডেনাল আলসার আছে বা যাদের ‘কোলেসিসটিটিস’ (cholecystitis) তথা গলব্লাডারের সমস্যা আছে তাদের উচিত দুধ খাওয়ার ব্যাপারে সাবধান হওয়া।
  • যাদের পেটে অপারেশান করা হয়েছে, তাদের দুধ খাওয়া ততদিন বারণ, যতদিন না তারা পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠছেন।
  • যারা পাকস্থলীর আলসার তথা গ্যাস্ট্রিক আলসারের রোগী, তাদেরও দুধ খাওয়া উচিত নয়।
  •  এলার্জি থাকলে, দুধ খাওয়ার ব্যাপারে সাবধান হোন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *