ত্রিফলার উপকারিতা – Jana Joruri

ত্রিফলার উপকারিতা: হরিতকী, বহেরা আর আমলকি এই তিন ফলের মিশ্রণে তৈরি হয় ত্রিফলা। এদের যেমন গুন আছে তেমনি একসঙ্গে এর গুনাগুন মাত্রা আরো বাড়িয়ে দেয় । প্রতিদিন ত্রিফলা খান সুস্থ থাকুন। ত্রিফলা কে মহাঔষধ বলা হয় । আমাদের শরীর সুস্থ রাখতে ত্রিফলার গুরুত্ব অপরিসীম। চিকিৎসায় শাস্ত্রে বা আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে এর চাহিদা রয়েছে ব্যাপক।

জেনে নিন, ত্রিফলার উপকারিতা: 

ক্যান্সার রোগকে দূরে রাখে:

২০১৫ সালে ক্যান্সার সেলের গ্রোথ এবং তার উপর ত্রিফলার প্রভাব সম্বর্কে একটি গবেষণা করা হয়েছিল। তাতে দেখা গিয়েছিল নিয়মিত খালি পেটে এই আয়ুর্বেদিক চূর্ণটি খাওয়া শুরু করলে শরীরের অন্দরে এমন কিছু পরিবর্তন হতে শুরু করে যে ক্যান্সার সেল জন্মে নেওয়ার কোনও সুযোগই পায় না। আর একবার যদি জন্ম নিয়েও ফেলে তাহলেও তার বৃদ্ধি আটকে যায়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই এই মারণ রোগ ধারে কাছেও ঘেঁষতে পারে না। প্রসঙ্গত, অরেকটি স্টাডিতে প্রমাণিত হয়েছে যে কোলন ক্যান্সার প্রতিরোধেও ত্রফলা বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। আসলে এই প্রকৃতিক উপাদানটির অন্দরে উপস্থিত গ্যালিক অ্যাসডি এক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা কমায়:

সকালটা যদি আপনার কাছে অভিশাপের সমান হয়, তাহলে আজ থেকেই ত্রিফলা চুর্ন খাওয়া শুরু করুন। দেখবেন উপকার মিলবে। কারণ বেশ কিছু কেস স্টাডিতে একথা ইতিমধ্যেই প্রমাণিত হয়ে গেছে যে বাওয়েল মুভমেন্টের উন্নতি ঘটানোর মধ্যে দিয়ে কনস্টিপেশনের মতো রোগের চিকিৎসায় এই হার্বাল মিশ্রনটি বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। শুধু তাই নয়, কোলোনকে পরিশুদ্ধ করার মধ্যে দিয়ে আরও নানা ধরনের রোগের আশঙ্কা কমাতেও ত্রিফলার কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে।

অ্যাংজাইটি দূর করে:

নিয়মিত খালি পেটে ত্রিফলা খাওয়ার অভ্যাস করলে শরীরের অন্দরে ভিটামিন সি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের মাত্রা বৃদ্ধি পেতে শুরু করে, যা ব্রেন পাওয়ার বাড়ানোর পাশাপাশি মানসিক ক্লান্তি এবং স্ট্রেস কমাতেও বিশেষ ভূমিকা নেয়। প্রসঙ্গত, বর্তমানে আমাদের দেশে যেভাবে অ্যাংজাইটি এবং মানসিক অবসাদে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে, তাতে ত্রিফলার খাওয়ার প্রয়োজনও যে বেড়েছে, সে বিষযে কোনও সন্দেহ নেই।

ওজন কমাতে সাহায্য করে:

অতিরিক্ত ওজনরে কারণে যদি চিন্তায় থাকেন, তাহলে ডায়েট কন্ট্রোলের পাশাপাশি আপনার প্রথম পছন্দ হওয়া উচিত ত্রফলা চুর্ন। কারণ নিয়মিত এই প্রাকৃতিক উপাদানটি গ্রহন করলে বাওয়েল মুভমেন্টের উন্নতি ঘটে। সেই সঙ্গে হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটার কারণে শরীরে মেদ জমার আশঙ্কা একেবারে কমে যায়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ওজন কমতে শুরু করে।

খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়:

শরীরের কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়তে শুরু করলে হার্টে রক্ত সরবরাহকারি আর্টারিগুলি বন্ধ হয়ে যেতে শুরু করে। ফলে পর্যাপ্ত পরিমাণ অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্ত না পাওয়ার কারণে হার্ট দুর্বল হয়ে পরে । সেই সঙ্গে হঠাৎ করে হার্ট অ্যাটাক হওয়ার আশঙ্কাও বৃদ্ধি পায়। সেই কারণেই তো নিয়মিত ত্রিফলা খাওয়া পরামর্শ দেওয়া হয়ে থাকে। আসলে এমনটা করলে রক্তে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়ার কোনও আশঙ্কাই থাকে না। ফলে স্বাভাবিকভাবেই হার্টের কোনও ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা হ্রাস পায়। প্রসঙ্গত, জার্নাল অব ফার্মাসিউটিকাল সোসাইটি অব জাপানে প্রকাশিত একটি স্টাডি অনুসারে ত্রফলায় উপস্থিত অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট একদিকে যেমন এল ডি এল বা খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়। তেমনি হার্টের অন্দরে যাতে কোনওভাবেই প্রদাহ সৃষ্টি না হয়, সেদিকেও খেয়াল রাখে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই কোনও ধরনের করনারি আর্টারি ডিজিজে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা হ্রাস পায়।

আর্থ্রাইটিসের প্রকোপ কমায়:

ত্রিফলায় উপস্থিত অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং পলিফেনল শরীরে প্রবেশ করার পর প্রদাহ কমাতে শুরু করে। আর একবার ইনফ্লেমেশন কমে গেলে স্বাভাবিকভাবেই জয়েন্ট পেন কমতে থাকে। সেই সঙ্গে শরীররে সচলতাও বৃদ্ধি পায়। তাই এমন ধরনের কোনও রোগে যদি ভুগতে থাকেন, তাহলে নিশ্চিন্তে একবার এই প্রকৃতিক উপাদানকে কাজে লাগিয়ে দেখতে পারেন। এমনটা করলে উপকার যে মিলবে, তা হলফ করে বলতে পারি।

ওজন কমানো:

বিভিন্ন ক্লিনিকাল গবেষণায় দেখা গেছে যে ত্রিফলা সেবন ওজন কমাতে সহায়তা করে। নিয়ন্ত্রণের পরিবর্তে যাদের ত্রিফলা দেওয়া হয়, দেখা যায় যে তাদের মধ্যে ওজন কমার পরিমাণ বেশি এবং তাদের কোমর এবং নিতম্বের পরিধিও হ্রাস পেয়েছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে।

আরো পড়ুন: পানিফলের উপকারিতা

চোখ :

ছানি ও গ্লকোমা নিয়ন্ত্রণে ত্রিফলা আয়ুর্বেদিক মিশ্রণ তৈরিতে কাজে লাগে। ক্লিনিকাল গবেষণা প্রমাণ করে ছানিবিরোধী ও দৃষ্টিশক্তির উন্নতিসাধনে এই ভেষজের উপকারিতা।

চুলের সমস্যা:

ত্রিফলা চুলের সুরক্ষাকারী গুণাবলীর জন্য পরিচিত ও সাধারণত অকালে চুল পাকা রোধ করতে সাহায্য করে। চুল পড়ার সমসস্যা কমায় এবং পরিমিত ব্যবহারে খুলিতে আকাঙ্ক্ষিত পুষ্টি প্রদান করে।

পেটের সমস্যা:

পেটে ফাঁপাভাব, কোষ্ঠকাঠিন্য, পেট ফুলে যাওয়া এবং অনিয়মিত অন্ত্রের সমস্যাই পেটের প্রধান সমস্যা হিসেবে চিন্হিত। গবেষণায় দেখা গেছে যে খাদ্যাভ্যাসের মধ্যে ত্রিফলা অন্তর্ভুক্ত করলে পাচনতন্ত্রের সাধারণ সমস্যাগুলি সামাল দেওয়া যায় এবং এটি শরীর থেকে অতিরিক্ত টক্সিন বার করে দেয়।

জীবাণুবিরোধী:

ত্রিফলা বিভিন্ন চিকিৎসায় সংক্রমণ আটকানোর প্রতিনিধি হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে এবং এই ব্যবহার গবেষণায় স্বীকৃত। শুধু তাই নয়, এসচেচিয়া কোলি, সালমেনেলা টাইফি, সুডোমোনাস এরেগিনোসা, স্টাফাইলোকোকাস অরেয়াস, ভিব্রিও কোলেরির বিরুদ্ধেও এর কার্যকারিতা প্রমাণিত।

অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট:

ভিটামিন-সি তে সমৃদ্ধ হওয়ার কারণে ত্রিফলাকে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট খাওয়ার হিসেবে নিশ্চিতভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সেই কারণে এটি আমাদের শরীরকে ফ্রি র‌্যাডিকালের প্রভাব থেকে রক্ষা করে।

ডায়াবেটিস ( ত্রিফলার উপকারিতা ):

ইনসুলিন হরমোনের ওপর ক্রিয়ার ফলে ত্রিফলা যে ডায়াবেটিসবিরোধী তা আজ প্রমাণিত সত্য। এটি রক্তস্রোতে গ্লুকোজ জমা হওয়া বা বিমুক্ত হওয়া নিয়ন্ত্রণ করে থাকে।

আরো পড়ুন: বাসক পাতার উপকারিতা

কীভাবে ত্রিফলাকে ব্যবহার করতে হবে?

এই আয়ুর্বেদিক ওষুধটি ডিনারের ৩০ মিনিট আগে খেতে হবে, হয় ট্যাবলেট হিসেবে খেতে পারেন, নয়তো ত্রিফলা পাউডারকে গরম জলে গুলে চায়ের মতো করেও পান করতে পারেন। তবে যেভাবেই গ্রহণ করুন না কেন, মধ্যা কথা প্রতিদিন যদি ত্রফলা চূর্ন খেতে পারেন, তাহলে শরীর নিয়ে আর কোনও চিন্তাই থাকবে না।

ত্রিফলার খাওয়ার নিয়ম:

নিয়মিত সেবনের জন্য ত্রিফলার গুড়া ব্যবহার করাই উত্তম। এক্ষেত্রে প্রতি রাতে এক গ্লাস পানিতে এক চা চামচ ত্রিফলা গুড়া ভিজিয়ে রেখে সকালে খালি পেটে পানিটা খেয়ে নেয়া যেতে পারে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *