তোকমা খাওয়ার উপকারিতা – জানা জরুরি

তোকমা খাওয়ার উপকারিতা: সকলেই কম-বেশি তোকমার সাথে পরিচিত। ছোট কালো রঙের একটি বীজ তোকমা, যা মূলত বিভিন্ন মিষ্টি পানীয় কিংবা শরবত তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।

আয়ুর্বেদিক চিকিৎসায়ও তোকমা বীজ অন্যতম একটি উপাদান। এটি স্থানভেদে সবজা বীজ, মিষ্টি বাসিল, ফালুদা বীজ কিংবা তুর্কমারিয়া বীজ হিসেবে পরিচিত। বহু গুণ রয়েছে বীজটির।

 একটু জেনে নিন তোকমা খাওয়ার উপকারিতা –

তোকমার পুষ্টিগুণ:

প্রতি ১০০ গ্রাম তোকমা দানায় পর্যাপ্ত পরিমাণে লৌহ, ক্যালসিয়াম, থিয়ামিন, ম্যাংগানিজ, দস্তা, ফসফরাস, ভিটামিন-বি, ফোলেইট এবং রিবোফ্ল্যাভিন রয়েছে। চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের মতে, প্রতিদিনের ডায়েটে অল্প পরিমাণে তোকমা দানা খেতে পারেন। যা আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং বিপাক প্রক্রিয়া বৃদ্ধি করবে।

তোকমার উপকারিতা 

হজম প্রক্রিয়া সম্পন্ন:

তোকমা দানায় পর্যাপ্ত পরিমাণে আঁশ রয়েছে।  আঁশ হজম প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

ওজন নিয়ন্ত্রণ :

তোকমা দানা চমৎকার পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ খাবার। এতে শুধু আঁশই থাকে না, শরীরের শক্তিও সরবরাহ করে। এক মুঠো তোকমা দানা বাদাম, শুকনো ফলের সঙ্গে মিশ্রণ তৈরি করে খেলে দীর্ঘক্ষণ আপনাকে ক্ষুধামুক্ত রাখবে। যা ক্ষুধা দমন, অসময়ে ক্ষুধার যন্ত্রণা, অতিরিক্ত খাদ্যগ্রহণ নিয়ন্ত্রণ করে। ফলে শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণ হয়।

কোষ্টকাঠিন্য দূর করে:

কোষ্টকাঠিন্য সমস্যা দূর করতে খুবই কার্যকর তোকমা। সামান্য তোকমা অল্প পানিতে ভিজিয়ে রেখে কিছুক্ষণ পর তা দুধে মিশিয়ে খেলেও উপকার পাওয়া যাবে। এটি হজমের সমস্যাও দূর করতে সহায়তা করে।

দেহের তাপ কমায়:

তোকমা গরমকালে দেহের তাপমাত্রা কমাতে সহায়তা করে। আর এ কারণে গরম আবহাওয়ার দেশগুলোতে বহু মানুষ তোকমার শরবত পান করে। এটি সুস্বাদু করার জন্য চিনি, মধু এবং কোথাও কোথাও নারিকেল দুধ দেওয়া হয়।

সুস্থ ত্বক ও চুল:

ত্বকের নানা সমস্যায় তোকমা ব্যবহার করা যায়।  তোকমা বীজ গুঁড়ো করে , নারিকেল তেলের সঙ্গে মাখিয়ে ত্বকে লাগাতে হয়। এটি নানা চর্মরোগ নিরাময়ে কাজ করে। সুস্থ চুলের জন্য এটি নিয়মিত খাওয়া যেতে পারে।

ওমেগা–৩:

ওমেগা-৩ শরীরের জন্য খুব দরকারী একটি উপাদান। উদ্ভিদভিত্তিক ওমেগা অ্যাসিডের সবচেয়ে ভালো উৎস হচ্ছে তোকমা দানা

বার্ধক্য রোধে সহায়তা:

তোকমা দানায় প্রচুর পরিমাণে পুষ্টি রয়েছে যা শরীরে শক্তি উৎপন্ন করে। আর এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান প্রদাহ,  ক্যানসার কোষ প্রতিরোধ এবং বার্ধক্য রোধে সহায়তা করে।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ:

সাম্প্রতিক কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, তোকমা দানা রক্তে শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করে, সুস্থ হার্ট এবং হাড় গঠনে সহায়তা করে।

এসিডিটি দূর করে:

তোকমা এসিডিটি দূর করতেও কার্যকর। এটি পেটের এসিড নিয়ন্ত্রণ করে জ্বালাপোড়া দূর করে।

ঠাণ্ডার সমস্যায়:

তোকমা বীজ আপনার দেহকে ঠাণ্ডার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়তে সহায়তা করবে। সর্দি-কাশি থেকে দূরে থাকতে চাইলে তাই নিয়মিত তোকমা খান।

হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য এবং দুশ্চিন্তা কমাতে কাজ করে:

তোকমা বীজে ফলে হৃদযন্ত্র সুস্থ থাকে। এছাড়াও আয়ুর্বেদে দুশ্চিন্তা কমাতে ব্যবহৃত হয়ে থাকে তোকমা

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে:

তোকমা বীজে রয়েছে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট উপাদান সমূহ থাকার ফলে তোকমা গ্রহণে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তুলনামূলকভাবে বৃদ্ধি পায়।

মুখের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে:

তোকমাতে থাকা উপাদান সমূহ  মুখের ভেতর কোন ইনফেকশন, দাঁতের ক্ষয় রোগ (ক্যাভিটিজ) এবং মুখের দুর্গন্ধ তৈরি হতে পারে না।

তোকমা গ্রহণে কিছু নিয়ম ও সতর্কতা:

তোকমা বীজ পানিতে ভালোভাবে ভিজিয়ে রাখতে হবে। বীজগুলো একদম বড় হয়ে ফুলে উঠলে এরপর সেটা খাওয়া যাবে।
শিশুদের তোকমা বীজ খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে। যেহেতু এটা বেশ পিচ্ছিল হয়ে যায় ভেজানোর পর।

গর্ভবতী নারীদের ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে তোকমা গ্রহণ করা উচিৎ।

প্রতিদিন তোকমা বীজ খেতে চাইলে এক চা চামচ গ্রহণ করাই যথেষ্ট।

তাছাড়া, উচ্চ রক্তচাপের জন্য যারা ওষুধ খাচ্ছেন তারা নিয়মিত তোকমা দানা গ্রহণের পূর্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *