তেজপাতার উপকারিতা – তেজপাতা খাওয়ার উপকারিতা

তেজপাতার উপকারিতা: রান্নার স্বাদ বাড়াতে তেজপাতার জুড়িমেলা ভার তা কে না জানে। কিন্তু জানেন কী ডায়বেটিস কমাতেও তেজপাতা খুবই উপকারি। এছাড়াও তেজপাতার রয়েছে হাজারও গুণ।

তাহলে জেনে নিন তেজপাতার উপকারিতা সম্পর্কে:

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ:

এক গবেষণায় দেখা গেছে যে যারা দিনে দুইবার তেজপাতার গুড়ার পানীয় পান করে তাদের রক্তে শর্করার পরিমাণ কমে যায়। এই পাতাতে আছে উপকারী উপাদান যা কার্যকরী হারে ইনসুলিনকে সাহায্য করতে পারে। টাইপ টু ডায়াবেটিস ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকির আশঙ্কাও কমায় এই উপকারী পাতা।

হার্ট ভাল রাখে:

তেজ পাতায় আছে rutin এবং caffeic acid নামে আরও দুটি যৌগ। এই যৌগগুলি আপনার হৃদযন্ত্রের দেওয়ালগুলিকে শক্ত করে তুলতে এবং কোলেস্টেরলের মাত্রা হ্রাস করতে সাহায্য করে।  উচ্চ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে হৃদরোগ বা স্ট্রোকের ঝুঁকি থেকে আপনাকে বাচাঁতে পারে।

আরো পড়ুন: অর্জুন গাছের উপকারিতা

সর্দি-কাশি কমাতে:

তেজপাতা সম্পর্কে আরেকটি আশ্চর্যজনক বৈশিষ্ট্য আপনার শ্বাসযন্ত্র পরিষ্কার করার তার ক্ষমতা। যদি আপনার ঠাণ্ডা কাশি হয় তবে তেজপাতা ফুটানো পানি আপনাকে সাহায্য করতে পারে এবং ব্যাকটেরিয়া থেকে পরিত্রাণ পাবেন। পানিতে ৪-৫  পাতা পরিস্কার করে ফুটিয়ে নিন। সামান্য ঠান্ডা হয়ে গেলে, তেজপাতা পানিতে একটি হালকা কাপড় ভিজিয়ে নিন এবং আপনার বুকে এটি প্রয়োগ করুন।

হজমে সাহায্য করে:

কোষ্ঠকাঠিন্য? পেট ফাপা? তবে তেজপাতা আপনার এই সমস্যা থেকে উদ্ধার পেতে সাহায্য করবে। আয়ুর্বেদ মতে তেজপাতা প্রস্রাবের মাত্রা ঠিক করে শরীরের টক্সিন সরিয়ে দেয়। এতে হজম প্রক্রিয়া সহজ হয়।

ব্যথা থেকে মুক্তি:

তেজপাতাতে প্রদাহজনক বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এটা যে কোন ধরণের ব্যথা সারাতে কাজ কর। এমনকি বাতের ব্যথা থেকে মানুষকে মুক্তি দিতে পারে।  আপনার ব্যথাস্থানে তেজপাতা পেস্ট প্রয়োগ করুন এবং এটি ২০ মিনিটের জন্য বিশ্রাম দিন। এছাড়াও, মাথার ব্যথা সারাতে এই উপসাগরীয় পাতার তেল ব্যবহার একটি প্রাচীন চিকিৎসা পদ্ধতি।

ঘামাচি দূর করা:

তেজপাতা পানিতে ভিজিয়ে রাখুন, তারপর পাটায় মিহি করে বেটে নিন। এই তেজপাতা বাটা শরীরে মেখে ঘণ্টা খানেক রাখুন। তারপর গোসল করে ফেলুন। কোন রকম সাবান ব্যবহার করবেন না। কয়েকবার ব্যবহার করলেই ঘামাচি একদম সেরে যাবে।

চোখ ওঠা উপশমে (তেজপাতা):

  • তেজপাতা পানিতে ফুটিয়ে নিন।
  • সেই পানি ঠাণ্ডা করে চোখ ধুতে ব্যবহার করুন।
  • চোখ ওঠা দ্রুত আরোগ্য হবে।
  • সকালে ও বিকালে দুই বেলা দেবেন।

আরো পড়ুন: শিউলি পাতার উপকারিতা

গলা ভাঙা দ্রুত সারাতে :

  • জলদি ভাঙা গলা ঠিক করতেও তেজপাতার বিকল্প নেই।
  • ৭ গ্রাম তেজপাতা ৪ কাপ পানিতে সিদ্ধ করে ২ কাপ করে নিন।
  • এরপর ওই পানি দিয়ে গড়গড়া করুন।
  • গলাভাঙা দ্রুত ঠিক হয়ে যাবে।

দুর্বলতা দূরে করে :

  • শারীরিকভাবে দুর্বল ও রোগা মানুষদের জন্য তেজপাতা দারুণ কার্যকরী।
  • কয়েকটা পাতা থেঁতলে করে ২ কাপ গরম পানিতে ১০-১২ ঘন্টা ভিজিয়ে রাখুন।
  • এরপর ছেঁকে নিয়ে পান করুন।
  • ২ বার করে টানা ২ সপ্তাহ খেলে শরীরে শক্তিও চেহারায় লাবণ্য ফিরে পাবেন।

মাড়ির ক্ষতের চিকিৎসায় :

মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়ে? তেজপাতা শুকিয়ে গুঁড়ো করে নিন। তারপর সেটা দিয়ে নিয়মিত দাঁত মাজুন। মাড়ির ক্ষত সেরে যাবে।

অরুচি দূর করে (তেজপাতার উপকারিতা) :

তেজপাতা সিদ্ধ পানি দিয়ে নিয়মিত কুলি করুন, অরুচি ও মুখের তেতো ভাব চলে যাবে।

কিডনি সরাতে:

এক গবেষণায় দেখা যায় যে তেজপাতা আপনার শরীরের urease মাত্রা হ্রাস করতে সহায়তা করে। যখন আপনার অনেক urease থাকে, এটি কিডনি পাথর এবং অন্যান্য গ্যাস্ট্রিক সমস্যা বাড়িয়ে দেয়।

চুল বৃদ্ধি এবং খুসকি মুক্ত করে:

  • তেজপাতা চুলের ডান্ড্রফ বা খুসকি এবং চুলের ক্ষতির সঙ্গে সংগ্রাম করে।
  • চুলের যেকোনো ধরনের সমস্যা সমাধানে তেজপাতা একটি প্রাচীন প্রতিকার।
  • কারণ চুলগুলি সুন্দর-যৌগিক যৌগগুলির সঙ্গে প্যাক তৈরী করা হয়।
  • পানিতে কিছু উপসাগরীয় পাতা দিয়ে উষ্ণ করুন। আপনার স্কাল্পে এই পানি ব্যবহার করুন।
  • তারপর নিয়মত শ্যম্পু করে চুল ধুয়ে নিন।

আরো পড়ুন: পেয়ারার পাতার উপকারিতা

তেজপাতার সাবধানতা:

যদিও তেজপাতা বা বে পাতা সাধারণত নিরাপদ বলে মনে করা হয়, তবে এটি গর্ভাবস্থায় বা নার্সিংয়ের মায়েদের জন্য সুপারিশ করা হয় না যেহেতু উপসাগরীয় পাতাটি গর্ভাশয়ে সংকোচনের কারণ হতে পারে। এছাড়াও, এটি সুপারিশ করা হয় যে কোনও অপারেশনের দুই সপ্তাহ আগে উপকারী পাতা খাওয়া বন্ধ করা উচিত, বিশেষ করে যদি এটি কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের সঙ্গে সম্পর্কিত হয়।

বেষণায় দেখা গেছে তেজপাতার নির্যাস ব্রেস্ট ক্যান্সার সেল ধ্বংসে সাহায্য করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *