টমেটোর উপকারিতা | ত্বকের যত্নে টমেটোর ব্যবহার – জানা জরুরি

টমেটোর উপকারিতা : টমেটো একটি সুস্বাদু ও পুষ্টিকর সবজি। টমেটো শীতকালীন সবজি হলেও এখন সারা বছর পাওয়া যায়। কাঁচা কিংবা পাকা দুভাবে টমেটো খাওয়া যায়। খাবারের স্বাদ বাড়াতে টমেটোর জুড়ি মেলা ভার। অনেকে আবার সালাদে টমেটো খেয়ে থাকেন। শুধু খাবারে স্বাদই বাড়ায় না, টমেটো থেকে তৈরি হয় নানা রকমের কেচাপ, সস।

সমগ্র বিশ্বেই সুস্বাদু ও পুষ্টির জন্য টমেটো সমাদৃত। এতে থাকা ভিটামিন এবিসিকে, ক্যালসিয়াম, পটাসিয়াম, লাইকোপিন, ক্রোমিয়াম পুষ্টি উপাদান দেহের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। জেনে নিন টমেটোর উপকারিতা

প্রতি ১ কাপ টমেটো কুচিতে রয়েছে-

  • ১৭০.১৪ গ্রাম পানি
  • ১.৫৮ গ্রাম প্রোটিন
  • ২.২ গ্রাম আঁশ
  • ৫.৮ গ্রাম শর্করা
  • ০ গ্রাম কোলেস্টেরল
  • ০.৩২ গ্রাম ক্যালোরি
  • ১৮ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম
  • ৪২৭ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম
  • ৪৩মিলিগ্রাম ফসফরাস
  • ২৪.৭ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি
  • ১৪৯৯ (IU) ভিটামিন- এ

ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে টমেটো:

টমেটোয় আছে লাইকোপেন নামে একটি উপাদান। যা ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। এ ক্ষেত্রে  ১০-১২টা টমেটো নিয়ে ভেতরটা পরিষ্কার করে সারা মুখে কিছুক্ষণ লাগিয়ে রাখুন। ১০ মিনিট পরে ভালো করে মুখটা ধুয়ে নিন। সপ্তাহে কয়েকবার এমনভাবে ত্বকের পরিচর্যা করলে বলিরেখা কমতে শুরু করবে, সেই সঙ্গে ত্বকের ঔজ্জ্বল্যও বৃদ্ধি পাবে।

ক্যান্সার রোধ টমেটো:

একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে টমেটোতে থাকা লাইকোপেন প্রস্টেট, কলোরেকটাল এবং স্টমাক ক্যান্সাররোধে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। লাইকোপেন হল একটি প্রাকৃতিক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা কোষের বিভাজন ঠিকমতো হতে সাহায্য করে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ক্যান্সার সেলের জন্ম নেওয়ার আশঙ্কা কমে। আর যদি একবার ক্যান্সার কোষ জন্ম নিয়েও নেয়, তাহলে তার বৃদ্ধি দ্রুত গতিতে না হয়, সেদিকে টমেটো খেয়াল রাখে। ফলে এই মারণ রোগ শরীরকে ক্ষয় করার সুযোগ পায় না।

টমেটো হাড় শক্ত করে:

ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন-কে সমৃদ্ধি হওয়ার কারণে হাড়ের স্বাস্থ্যের উন্নতিতে কাঁচা টমেটোর কোনও বিকল্প নেই। তাই তো বুড়ো বয়সে অস্টিওপোরোসিসের মতো রোগের হাত থেকে বাঁচতে এখন থেকেই কাঁচা টমেটো খাওয়া শুরু করুন। দেখবেন উপকার পাবেন।

ধূমপানের ক্ষতি থেকে বাঁচায়:

কাঁচা টমেটোয় রয়েছে কিউমেরিক এবং ক্লোরোজেনিক অ্যাসিড, যা কার্সিনোজের প্রভাব থেকে শরীরকে রক্ষা করে। ফলে ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা হ্রাস পায়। তাই যারা একান্তই ধূমপান ছাড়তে পারছেন না, তারা দয়া করে দিনে ২-৩ টা কাঁচা টমেটো খাওয়া শুরু করুন। দেখবেন উপকার পাবেন।

টমেটো অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের ঘাটতি পূরণ করে:

কাঁচা টমেটো যেহেতু অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ, তাই শরীরের ক্ষতিকর টক্সিক দূর করতে সাহায্য করে টমেটা। শরীরকে সুস্থ রাখতে নিয়মিত কাঁচা টমেটো খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকরা।

হার্টের কর্মক্ষমতা বাড়ায়:

কাঁচা টমেটোয় থাকা ভিটামিন বি এবং পটাশিয়াম শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রাকে নিয়ন্ত্রণে রাখে। সেই সঙ্গে রক্তচাপকে স্বাভাবিক রাখতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে। ফলে হার্টের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা হ্রাস পায়। প্রসঙ্গত, যাদের পরিবারে হাই কোলেস্টেরল এবং ব্লাড প্রেসার রোগের ইতিহাস রয়েছে তারা আজ থেকেই কাঁচা টমেটো খাওয়া শুরু করুন।

চুলের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে:

চুলের ঔজ্জ্বল্য বৃদ্ধিতে ভিটামিন-এ-এর কোনো বিকল্প হয় না বললেই চলে। আর এই উপাদানটি প্রচুর মাত্রায় রয়েছে কাঁচা টমেটোতে। তাই দীর্ঘদিন যদি চুলকে সুন্দর রাখতে চান, তাহলে কাঁচা টমেটো রাখুন খাবারে।  প্রসঙ্গত, দৃষ্টিশক্তির উন্নতিতেও ভিটামিন-এ বিশেষ ভূমিকা পালন করে।

কিডনির স্টোনের আশঙ্কা কমায়:

একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে বীজ সমেত কাঁচা টমেটো খেলে কিডনিতে স্টোন হওয়ার আশঙ্কা একেবারে শূন্যে এসে দাঁড়ায়।

আরো কিছু টমেটোর উপকারিতা:

• সর্দি-কাশি প্রতিরোধেও টমেটো বেশ কার্যকর। সর্দি-কাশি হলে এক বা দুটি টমেটো নিয়ে স্লাইস করে অল্প চিনি বা অল্প লবণ দিয়ে পাত্রে গরম করে স্যুপ তৈরি করে খেতে পারেন। এর ফলে সর্দি-কাশিতে উপকার পাবেন।

• জ্বরের নিরাময়ে সহায়ক। গায়ের তাপমাত্রা নানান কারণে বাড়তে পারে। সামান্য জ্বর হলে টমেটো খেলেই আরাম পেতে পারেন।

 

ত্বকের যত্নে টমেটোর উপকারিতা

তৈলাক্তভাব কমায়:

ত্বকে তেলের উৎপদন কমায় এবং বাড়তি চিটচিটেভাব দূর করে।

পরামর্শ: টমেটো কেটে দুই টুকরা করে  মুখে মালিশ করুন। ১০ থেকে ১৫ মিনিট পর পানি দিয়ে তা ধুয়ে ফেলুন।

আর্দ্রতা ধরে রাখে

টমেটো ত্বকের প্রাকৃতিক তেল ধরে রাখে। ফলে আর্দ্রতা বজায় থাকে। আর ফুটে ওঠে প্রাকৃতিক উজ্জ্বলভাব।

পরামর্শ: টমেটো ও অ্যালো ভেরা একসঙ্গে মিশিয়ে ময়েশ্চারাইজার হিসেবে ব্যবহার করুন।

মৃত কোষ দূর করে

টমেটোতে থাকা এনজাইম ত্বক এক্সফলিয়েট করে মৃতকোষ এবং ব্ল্যাক হেডস দূর করে।

পরামর্শ: টমেটো ও বাদামি চিনি মিশিয়ে  স্ক্রাব তৈরি করুন।  তৈরি ১৫ মিনিট পর প্যাক ব্যবহার করুন।

ব্রণ কমায়

বর্তমানে প্রাপ্ত বয়স্কদের ত্বকে ‘অ্যাডাল্ট একনি দেখা’ যাচ্ছে। তৈলাক্ত ত্বকে ময়লা ও ব্যাক্টেরিয়া বসে যায়। ফলে লোমকূপ বন্ধ হয়ে দেখা দেয় ব্রণ। অন্যদিকে, শুষ্ক ত্বকে দেখা দেয় মৃতকোষ, যা ত্বকের তেল আটকে রাখে। ফলে দেখা দেয় ‘ব্রেক আউট’। টমেটো ত্বক পরিষ্কার করার পাশাপাশি ত্বকের স্বাস্থ্য ভালো রাখে এবং প্রাকৃতিকভাবে ব্রণ দূর করে।

পরামর্শ: ব্রণের সমস্যা দূর করতে টমেটোর রসের সঙ্গে দুতিন ফোঁটা টি ট্রিয়ের তেল মিশিয়ে নিন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *