টবে ধনিয়া চাষ পদ্ধতি

ধনিয়া পাতার উপকারিতা:

ধনিয়া পাতার খাদ্যমান অনেক বেশি। এতে ক্যালসিয়াম, লৌহ ও ক্যারোটিন থাকে প্রচুর পরিমাণে। টবে ধনিয়াপাতার চাষ করার সুবিধে হচ্ছে, মৌসুমে কয়েকবার খেয়ে আবার চাষ করা যায়।

টবে ধনিয়া চাষ পদ্ধতি:

  • চাষের সময় :

আশ্বিন থেকে পৌষ ( সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর )

  • বীজ বপন :

ধনের বীজ ২৪ ঘন্টা একটি কাপড়ে জড়িয়ে ভিজিয়ে রাখলে তাড়াতাড়ি গজাবে। ধনের জন্য চওড়া মুখ বিশিষ্ট টব নির্বাচন করতে হবে। ৩ থেকে ৪ সেন্টিমিটার গভীরে বীজ বুনে আবার মাটি দিয়ে ঢেকে সেচ দিতে হবে। মাটি ভেজা থাকলে জল দেওয়ার দরকার নেই।

  • পরবর্তী পরিচর্যা :

মাটিতে রস না থাকলে ২/১ দিন পর পর জল ছিটিয়ে দিতে হবে। পাখি যাতে পাতা না খায় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। বীজ বোনার পর পিঁপড়ে যাতে খেয়ে ফেলতে না পারে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। পিঁপড়ে লাগলে পাইরিফস বা পাইরিবান অথবা সেভিন ডাস্ট ছিটিয়ে পিঁপড়ে দমন করতে হবে।
পাতা তোলা: গাছ খুব ঘন হলে তা তুলে পাতলা করে দিতে হবে। গাছ বেশি বড় হওয়ার আগে তুলে খেতে হবে।

  • ধনিয়া উৎপাদন প্রযুক্তি:

ধনিয়ার চাষ সব রকমের মাটিতে করা যায়। তবে বেলে দোঁআশ থেকে এঁটেল দোঁআশ মাটি ধনে চাষের জন্য উপযোগী। ধনিয়া চাষের জন্য জল নিষ্কাশনের সুবিধা থাকতে হবে।

  • বপনের সময় :

সেপ্টেম্বর মাস

  • জমি তৈরি :

মাটি ও জমির প্রকার ভেদে ৪-৬টি চাষ ও মই দিতে হয়।

  • বীজ বপন :

বীজ বোনার আগে জলে ২৪ ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখতে হবে। বীজ ছিটিয়ে বুনলে হেক্টর প্রতি দ্বিগুণ বীজ ব্যবহার করতে হবে। ধনে অন্য কোনও ফসলের সঙ্গে মিশ্র ফসল হিসেবে সারি পদ্ধতিতে বপনের জন্য ৪-৫ কেজি বীজের প্রয়োজন হয়।

  • সারের পরিমাণ ও প্রয়োগ পদ্ধতি :

ধনিয়া চাষের জন্য মাঝারি উর্বর মাটিতে হেক্টর প্রতি ১৫০-৩০০ কেজি ইউরিয়া, ১০০-২০০ কেজি টিএসপি, ৮০-১০০ কেজি এমপি এবং ৭-১০ টন গোবর সার প্রয়োগ করা প্রয়োজন। জমি তৈরির সময় অর্ধেক গোবর, সমুদয় টিএসপি ও অর্ধেক এমপি সার প্রয়োগ করতে হবে। বাকি অর্ধেক গোবর চারা রোপণের এক সপ্তাহ আগে মাদায় দিয়ে মিশিয়ে রাখতে হবে। এরপর চারা রোপণ করে সেচ দিতে হয়। ইউরিয়া এবং বাকি অর্ধেক এমপি সার ৩ কিস্তিতে প্রয়োগ করতে হবে। চারা লাগানোর ৮৮-১০ দিন পর প্রথম কিস্তিতে এবং চারা লাগানোর ৩০-৩৫ দিন পর বাকি সার উপরি প্রয়োগ করতে হবে।

  • অন্তর্বর্তীকালীন পরিচর্যা :

পাতা ফসলের ক্ষেত্রে চারা গজানোর ১০-১৫ দিন পর প্রতি সারিতে ৫ সেন্টিমিটার পর পর একটি চারা রেখে অন্যগুলো তুলতে হবে। বীজ ফসলের ক্ষেত্রে প্রতি ১০ সেন্টিমিটার পর পর একটি চারা রাখতে হবে। নিড়ানি দিয়ে আগাছা পরিষ্কার এবং মাটি ঝুরঝুরে করে দিতে হবে। প্রতিবার সেচের পর পর জমির ‘জো’ আসা মাত্র মাটির চটা ভেঙে দিলে গাছের শিকড় প্রচুর পরিমাণে আলো বাতাস পাবে, ফলে গাছের বৃদ্ধি সহজ ত্বরান্বিত হবে। ধনে গাছে জমির জলের জলাবদ্ধতা সহ্য করতে পারে না। তাই জমাকৃত অতিরিক্ত সেচের জল বা বৃষ্টির জল ২-১ ঘণ্টা মধ্যেই নিকাশের ব্যবস্থা করতে হবে।

সূত্র: কলকাতা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *