জয়তুন তেলের উপকারিতা

আমরা সবাই জানি, অলিভ অয়েলের ব্যবহার সুপ্রাচীন। বাংলায় যার নাম জলপাই তেল এবং আরবিতে একে জয়তুন বলা হয়। জলপাইয়ের তেল এমন একটি উপাদান, যা ত্বক ও চুল সহ অনেক কিছুতেই ব্যবহার করা হয়।জয়তুন তেলের উপকারিতা

ইসলামে বলা হয়েছেঃ

“তোমরা যায়তুনের তেল খাও এবং এর দ্বারা মালিশ কর বা শরীরে মাখ। কেননা, তা বরকতময় গাছ থেকে আসে।” (তিরমিযী, আহমদ)

চলুন জেনে নেওয়া যাক, জয়তুন তেলের উপকারিতা:

ত্বকের অ্যান্টিএইজিং হিসেবেঃ

জলপাই তেল ত্বকের যত্নে দারুণ কার্যকরী। জলপাইয়ের তেল ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখে ও ত্বকে ময়লা জমতে দেয় না। ত্বক ফেটে গেলে তা সারিয়ে তুলতে জলপাই তেল বেশ কার্যকরী। জলপাই তেল ব্যবহারে ত্বকের বলিরেখা কমায়। এর অ্যান্টিএইজিং উপাদান ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখতে কাজ করে।

এলার্জি অথনা চুলকানি কমাতেঃ

এ ছাড়া যাদের ত্বকে চুলকানির সমস্যা রয়েছে তারা নির্দ্বিধায় এই তেল ব্যবহার করতে পারেন।

ত্বকের যত্নেঃ

জলপাই তেল ত্বকের অতিরিক্ত শুষ্কতা কমায় ও ত্বকের ছোপ ছোপ দাগ দূর করে। ফলে ত্বক হয় কোমল এবং মসৃণ।

কোলেস্টেরল সমস্যা দূর করতেঃ

তেল রক্তের কোলেস্টোরেল দূর করে রক্তে উচ্চারক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে। তাই রক্তের কোলেস্টেরল দূর করতে চাইলে জয়তুন তেল খাওয়া আবশ্যক।গবেষকরা ২.৫ কোটি (25 million) লোকজনের উপর গবেষণা করে দেখিয়েছেন, প্রতিদিন ২ চামচ Extra Virgin Olive Oil যাইতুন তেল ১ সপ্তাহ ধরে খেলে, ক্ষতিকর এলডিএল (LDL) কোলেস্টেরল কমায় এবং উপকারী এইচডিএল (HDL) কোলেস্টেরল বাড়ায়।

ভিটামিন অভাব রোধ করতেঃ

জয়তুনে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ই।ভিটামিন এর অভাব পূরণ করতে চাইলে জয়তুন খাওয়া আবশ্যক।
জয়তুনে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে আশ বা ফাইবার। তাই যদি বাতের ব্যাথা কমাতে চান নিয়মিত জয়তুন খাওয়া আবশ্যক।

আরো পড়ুন: মাশরুম এর উপকারিতা

বিভিন্ন রোগের জন্যঃ

বিভিন্ন ধরণের টিউমার,দৃষ্টিভ্রম,রগ ফুলে যাওয়া,কোষ্ঠকাঠিন্য এবং দাতের ক্যাভিটি নিয়ন্ত্রণে জয়তুনের তেল অনেক উপকার করে থাকে।
ক্যান্সার দমনে খুব কার্যকরী ভূমিকা পালন করে থাকে জয়তুন।

রক্তশূন্যতা কমাতে এবং হার্টের সুরক্ষায়ঃ

রক্তশূন্যতা প্রতিরোধে খুব কার্যকরী ভুমিকা পালন করে থাকে জয়তুন।
জয়তুনে রয়েছে অলেইক এসিড যা আমাদের হার্টের সুরক্ষায় কার্যকর ভূমিকা পালন করে থাকে।

চুলের যত্নে(জয়তুন তেলের উপকারিতা):

শুধু ত্বক নয়, জলপাই তেল মাথার ত্বকের খুশকি দূর করার জন্যও উপকারী। মাথার শুষ্ক তালু প্রাণ ফিরে পায় জলপাই তেলের গুণে। জলপাইয়ের তেল চুল পড়া কমাতে সাহায্য করে। এটি চুলের গোড়া মজবুত করে। এটা শিশুর ত্বকের জন্যও নিরাপদ।

ব্যথানাশক হিসেবেঃ

স্প্যানিশ (Spanish) গবেষকরা দেখিয়েছেন, খাবারে যাইতুন তেল ব্যবহার করলে ক্লোন ক্যান্সার (Colon cancer ) প্রতিরোধ হয়। আরও কিছু গবেষক দেখিয়েছ, এটা ব্যাথা নাশক (Pain Killer) হিসাবে কাজ করে।

সান প্রটেক্টর হিসেবেঃ

একটি ডিমের কুসুমের সঙ্গে ১ টেবিল চামচ জলপাই তেল আর ৩ ফোঁটা লেবুর রস মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে মুখে লাগিয়ে ১০ মিনিট পর কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এই মাস্ক শুষ্ক ত্বককে নরম ও কোমল করে তুলবে। সূর্যের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করবে। বাইরে যাওয়ার আগে জলপাই তেল দিয়ে বের হন। সান প্রটেক্টর হিসেবে এটি দারুণ কার্যকরী।

ব্রণ দূর করতেঃ

৪ টেবিল চামচ লবণের সঙ্গে ৩ টেবিল চামচ জলপাই তেল মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। এই পেস্ট ২ মিনিট ধরে মুখে ম্যাসাজ করুন। এভাবে এক সপ্তাহ করলে ত্বকে ব্রণের সমস্যা দূর হবে।

আরো পড়ুন: ত্বকের যত্নে  মুলতানি মাটি

অন্যান্য ব্যবহারবিধি হিসেবেঃ

এ ছাড়া ১/২ কাপ জলপাই তেল, ১/৪ কাপ ভিনেগার আর ১/৪ কাপ পানি মিশিয়ে রাতে ঘুমানোর আগে নাইট ক্রিম হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। এই প্যাক আপনার ত্বককে নরম করবে এবং ভিনেগার ত্বকে থাকা ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করবে।

কন্ডিশনার হিসেবেঃ

ত্বকের পাশাপাশি চুলের যত্নে ও সমান কার্যকরী জলপাই তেল। শ্যাম্পু করার পর হাতের তালুতে কয়েক ফোঁটা জলপাই তেল নিয়ে ভালোভাবে দুই হাতে ঘষে ফেলুন। তারপর চুলে কন্ডিশনারের বদলে লাগিয়ে ফেলুন।

আশা করি এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জেনে আপনাদের উপকার হবে।এবং বাস্তব জীবনে জয়তুন তেলের উপকারিতা এর প্রয়োগ ঘটাতে পারবেন।

Photo Credit: pixabay.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *