জিরার উপকারিতা – Jana Joruri

 

জিরার উপকারিতা: জিরা অর্থাত্‍ কুমিন একটি পাতাযুক্ত গাছ। চীন, ভারত, মধ্য পূর্বাঞ্চল এবং ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে মূলত এই জিরা গাছের উত্‍পাদন হয়। এই গাছের ফলকে বলা হয় জিরে বীজ। সারা বিশ্বে মশলা হিসেবে জিরের চাহিদা অনেক। এমনকি এই জিরা চিকিত্‍সা বিজ্ঞানে গবেষনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিছু গবেষণা বলছে জিরাতে সবরকমের স্বাস্থ্যগুণ রয়েছে।

জেনে নিন জিরার উপকারিতা :

অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট:

জিরা প্রাকৃতিকভাবে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ। যা শরীরের রোগ নিরাময় ক্ষমতা বাড়ায়। এবং শারীরিক শক্তি বাড়িয়ে দেয় কয়েকগুন। এছাড়াও জিরা মুখে বয়সের ছাপ পড়া আটকায়।

হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটে : 

বাঙালি মানেই জন্ম খাদ্যরসিক। আর এমনটা হওয়া মানেই বদ-হজম এবং গ্যাস-অম্বল রোজের সঙ্গী। এমন অবস্থা যদি আপনারও হয়ে থাকে, তাহলে আজ থেকেই এক গ্লাস পানিতে পরিমাণ মতো জিরা ভিজিয়ে সেই পানি পান করা শুরু করুন।

অ্যান্টিক্যানসার:

কিছু গবেষণা বলছে জিরা শরীরে ক্যানসারের কক্ষ তৈরী হওয়া নিয়ন্ত্রণ করে। ইঁদুরের ওপর গবেষণা করে দেখা গিয়েছে, যাদেরকে জিরা খাওয়ানো হয়েছিল তাঁরা কোলন ক্যানসার হওয়া থেকে রক্ষা পেয়েছে। মানুষের উপর পরীক্ষা করে দেখা গিয়েছে নয়টি জনপ্রিয় মশলার মধ্যে জিরেতে অ্যান্টিক্যানসার উপাদান রয়েছে বেশি।

চুলকে সুন্দর করে তোলে:

রুক্ষ হয়ে যাওয়া চলের সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনতেও জিরা নানাভাবে সাহায্য করতে পারে। কীভাবে?

  1. ১ গ্লাস জলে ১ চামচ জিরা পাউডার এবং ১টা ডিমের কুসুম মিশিয়ে নিন।
  2. তারপর  মিশ্রনটি চুলে লাগিয়ে দিন।
  3. যখন দেখবেন মিশ্রনটি শুকিয়ে গেছে, তখন ভাল করে চুলটা ধুয়ে নিন।
  4. সপ্তাহে ১ বার এইভাবে চুলের পরিচর্যা করলেই দেখবেন হারিয়ে সৌন্দর্য ফিরে আসবে।

ডায়রিয়া:

সমীক্ষা করে দেখা গিয়েছে, যারা রান্নায় জিরা বেশি খান তাঁরা ডায়েরিয়ার মতো সমস্যায় কম ভোগেন।

অনিদ্রার সমস্যাকে দূর করে:

যাদের রাতের বেলা ভাল করে ঘুম আসে না, তারা প্রতিদিন ঘুমনোর আগে ১ চামচ চটকানো কলার সঙ্গে হাফ চামচ জিরা পাউডার মিশিয়ে খাওয়া শুরু করুন।

ব্লাড সুগার কমাতে:

ডায়েবেটিসের চিকিত্‍সায় জিরা প্রাকৃতিক ঔষধি। যাদের ডায়েবেটিসের সমস্যা তাঁরা রান্নায় এমনকি জিরে ভেজানো জল খেয়ে বহু বছর ধরে উপকৃত হয়ে আসছেন।

ব্যাক্টেরিয়ার সাথে লড়তে:

যে ব্যাক্টেরিয়াগুলি শরীরের ইমিউনিটি ক্ষমতাকে ক্ষতিগ্রস্থ করে জিরে সেই সব ব্যাক্টেরিয়া নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।

কোলেস্টেরল কমাতে:

জিরাতে রয়েছে হাইপোলিপিডেমিক উপাদান, যা শরীরের অতিরিক্ত ফ্যাট এবং কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে। এবং হার্ট সুস্থ রাখে।

ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায় :

রোজ ডায়েটের তালিকায় এই পানীয়টি রাখলে, ত্বকের বয়স তো কমেই, সেই সঙ্গে সৌন্দর্যও বৃদ্ধি পায় চোখে পরার মতো।

লিভারের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটে : 

লিভারের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পেতে সময় লাগে না।

রেসপিরেটরি সিস্টেমের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায় :

জিরায় উপস্থিত বেশ কিছু উপকারি উপাদান শরীরে প্রবেশ করার পর বুকে মিউকাসের মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা কমে, সেই সঙ্গে ফুসফুসের কর্মক্ষমতাও বৃদ্ধি পায়। ফলে নানাবিধ রেসপিরেটরি ডিজিজে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা হ্রাস পায়।

এনার্জির ঘাটতি দূর হয় :

জিরার ভিতরে থাকা একাধিক উপকারি উপাদান শরীরে প্রবেশ করার পর এনার্জি এতটা বাড়িয়ে দেয় যে ক্লান্তি দূরে পালায়।

ডায়াবেটিসের মতো রোগ দূরে পালায় : 

একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত সকাল বেলা খালি পেটে জিরে ভেজানো পানি খেলে ইনসুলিনের কর্মক্ষমতা এতটা বেড়ে যায় । এই কারণেই তো ডায়াবেটিস রোগীদের জিরা ভেজানো পানি পানের পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকেরা।

ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণে চলে আসে : 

প্রতিদিন সকালে খালি পেটে এক গ্লাস করে জিরা পানি খাওয়ার অভ্যাস করলে শরীরে ইলেকট্রোলাইট ব্যালেন্স থাকে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ব্লাড প্রেসার কমতে শুরু করে।

রোগ-প্রতিরাধ ক্ষমতার উন্নতি ঘটে : 

জিরা শরীরের রোগ প্রতিরোধী ব্যবস্থা এতটাই শক্তিশালী হয়ে ওঠে যে ছোট-বড় কোনও রোগই ধারে কাছে ঘেঁষতে পারে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *