জলপাই এর উপকারিতা – জানা জরুরি

জলপাই এর উপকারিতা: জলপাই একটি শীতকালীন ফল ।  জলপাই-এ নানা পুষ্টিকর উপাদান, যেমন- ভিটামিন, মিনারেল এবং ভেষজ উপাদান, আয়রন, খাদ্যআঁশ, কপার, ভিটামিন-ই, ফেনোলিক উপাদান, অলিক অ্যাসিড এবং বিভিন্ন প্রকারের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান বিদ্যমান।

এবার চলুন জেনে নেওয়া যাক জলপাই এর উপকারিতা:

 হৃদযন্ত্রের উপকারিতা:

যখন মানুষের হৃদপিণ্ডের রক্তনালীতে চর্বি জমে, তখন হার্ট  অ্যাটাক করার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি থাকে। জলপাইয়ের অ্যান্টি অক্সিডেন্ট হার্ট ব্লক হতে বাধা দেয়। জলপাইয়ে রয়েছে মোনো-স্যাচুরেটেড ফ্যাট, যা আমাদের হার্টের জন্য খুবই উপকারী।

ক্যান্সার প্রতিরোধে:

জলপাইতে আছে মনোস্যাটুরেটেড ফ্যাট। জলপাইয়ের ভিটামিন ই কোষের অস্বাভাবিক গঠনে বাধা দেয়। ফলে ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি কমে।

ত্বক ও চুলের যত্নে:

ফ্যাটি এসিড ও এ্যান্টি অক্সিডেন্ট ত্বক চুলের যত্নে কাজ করে। আর এই ফ্যাটি এসিড ও এ্যান্টি অক্সিডেন্ট পাওয়া যাবে কালো জলপাইয়ের তেলে। জলপাইয়ের ভিটামিন ই ত্বকে মসৃনতা আনে। চুলের গঠনকে আরও মজবুত করে। ত্বকের ক্যানসারের হাত থেকেও বাঁচায় জলপাই। সূযের অতিবেগুনি রশ্নির কারণে ত্বকের যে ক্ষতি হয় তা রোধ করে জলপাই

হাড়ের ক্ষয়রোধ করে:

জলপাই অ্যাজমা ও বাত-ব্যাথা জনির রোগের হাত থেকে বাঁচায়। বয়স জনিত কারণে অনেকেরই হাড়ের ক্ষয় হয়। হাড়ের ক্ষয়রোধ করে জলপাইয়ের তেল

পরিপাকক্রিয়ায় সাহায্য করে:

গ্যাস্ট্রিক ও আলসারে হাত থেকেও বাঁচায় জলপাই। জলপাইয়ের তেলে প্রচুর পরিমানে ফাইবার থাকে। যা বিপাক ক্রিয়ায় সাহায্য করে।

চোখের যত্নে:

জলপাইয়ে ভিটামিন এ পাওয়া যায়। ভিটামিন এ চোখের জন্য ভালো। যাদের চোখ আলো ও অন্ধকারে সংবেদনশীল তাদের জন্য ঔষধের কাজ করে জলপাই।

রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়:

জলপাইয়ে প্রাকৃতিক অ্যান্টি-অক্সিডেন্টও রয়েছে প্রচুর পরিমাণে, যা দেহের ক্যান্সারের জীবাণুকে ধ্বংস করে এবং রোগ প্রতিরোধ শক্তিকে বাড়ায় দ্বিগুণ পরিমাণে।

ওজন কমাতে:

যখন জলপাইয়ের মোনো-স্যাচুরেটেড ফ্যাট অন্য খাবারে বিদ্যমান স্যাচুরেটেড ফ্যাটের বদলে গ্রহণ করা হয় তখন তা দেহের ভেতরের ফ্যাট সেলকে ভাঙতে সাহায্য করে। জলপাইয়ের তেলেও রয়েছে লো কোলেস্টেরল যা ওজন এবং ব্লাডপ্রেশার কমাতে সহায়ক।

আয়রনের উৎস:

জলপাই বিশেষ করে কালো জলপাই আয়রনের উৎস, আয়রন আমাদের দেহে রক্ত চলাচল করাতে সহায়তা করে, আর প্রাকৃতিক আয়রনের উৎসের জন্য জলপাই-ই সেরা।

অ্যালার্জি প্রতিরোধে:

গবেষণায় দেখা গেছে, জলপাই অ্যালার্জি প্রতিরোধে সহায়তা করে। জলপাইয়ে আছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি যা ত্বকের ইনফেকশন ও অন্যান্য ক্ষত সারাতে কার্যকরী ভূমিকা রাখে।

কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে:

জলপাইয়ে যে খাদ্যআঁশ আছে তা মানুষের দেহের পরিপাক ক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে এবং হজমে সহায়তা করে।

 আরো কিছু জলপাইয়ের উপকারিতা:

১. শীতকালে সকলেরই প্রায়ই ঠান্ডা-জ্বর,কাশি লেগেই থাকে সেক্ষেত্রে জলপাই খুব উপকারী। খেলে শরীরে অ্যান্টিবডির সৃষ্টি করে, জলপাই ফলে শরীরে রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতার সৃষ্টি হয়।

২. জলপাই প্রতিদিন ১টি করে খেলে ভিটামিন সি এর অভাব দূর হয়।

৪. ভিটামিন সি এর পাশাপাশি জলপাইয়ে আছে ভিটামিন এ। যা কিনা চোখের জন্য খুবই উপকারী।

৫. জলপাইয়ে ভিটামিন ই শরীরের নানা রোগ-প্রতিরোধে বাধা দেয়। ফলে ক্যান্সার রোগ হয় না। তাই জলপাই খাওয়া প্রয়োজন আমাদের সকলেরই।

৫.  এলঝাইমার বা স্মৃতি ভুলে যাওয়া রোগীদের জন্য উপকারী। শরীরের যে কোন টিউমারের বৃদ্ধি, রক্তনালীর ক্ষত ও স্ফীত হওয়া ঠেকায় জলপাই।

৬.  রান্নায়ও অলিভ অয়েল ব্যবহার করা যায়। জলপাইয়ের তেল সয়াবিনের থেকে ভালো। এতে কোনো সাইড ইফেক্ট নেই।

৭. জলপাইয়ে আছে আয়রন,যা শরীরকে তরতাজা করে। তাই আয়রনের অভাব দুর করতে প্রয়োজন রোজ জলপাই খাওয়া।

৮. জলপাই চুলকে রাখে প্রাণবন্ত এবং ত্বকে করে মসৃণ। জলপাই খাবার হজমে খুব ভালো কাজ করে।

৯. কোনো কারণে কোথাও কেটে গেলে বা ঘাঁ হলে জলপাই এই ইনফেকশন সারাতে এন্টিবায়োটিক হিসেবে কাজ করে।

১০. জলপাই রক্তস্বল্পতা দূর করতে সাহায্য করে। নারীদের প্রজনন ক্ষমতা বাড়ায়। এছাড়া সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম পেতে জলপাই খাওয়া উচিত।

সতর্কতা

১। যদিও এর তেমন কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্বন্ধে সচারচর শোনা যায় না তবুও জলপাই গাছের পরাগরেণু ঋতুকালীন অ্যালার্জির সৃষ্টি করতে পারে।

২। গর্ভাবস্থায় জলপাই এর তেল ব্যবহার না করাই উত্তম।

৩।  হৃদরোগ বা উচ্চ রক্তচাপের সমস্যায় ভুগছেন তাদের জলপাই না খাওয়াই ভাল।

টক স্বাদের এই ফলটি কাঁচা খাওয়া কঠিন। তাই সিদ্ধ করে বা আচার বানিয়ে খাওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *