চুল ঘন করার উপায় – Jana Joruri

চুল ঘন করার উপায়: প্রতিদিনের নানা ভুলের কারণে এবং অযত্ন-অবহেলায় আমরা এই সৌন্দর্যের প্রতীকটি নষ্ট করে ফেলি। আগের মতো ঘন কালো লম্বা চুলের অধিকারিণী নজরে পড়ে না। চুল ঘন করার মূল কৌশলগুলো কিন্তু আপনার হাতেই।

চলুন জেনে নিই, চুল ঘন করার ঘরোয়া কয়েকটি  উপায় –

তেল:

চুলের যত্নে সবচেয়ে বেশি উপকারী হচ্ছে তেল। তেল বলতে সাধারণত আমরা নারিকেল তেলকেই বুঝে থাকি। তবে চুল ঘন করার জন্য কিছু তেলের মিশ্রণ ব্যবহার করলে কার্যকরী ফল পাবেন।

১. আমণ্ড অয়েল ও ক্যাস্টর অয়েল

২. তিলের তেল ও সরিষার তেল

৩. অলিভ অয়েল ও ক্যাস্টর অয়েল

* রাতে ঘুমানোর আগে এই তেলের মিশ্রণ হালকা গরম করে মাথার তালুতে ভালোভাবে ম্যাসাজ করুন। চুলের প্রতিটি গোঁড়ায় যেন তেল পৌঁছায় সেজন্য একটু সময় নিয়ে দিবেন। যদি সারারাত রাখা সম্ভব না হয় তাহলে গোসলের ১ ঘণ্টা আগে চুলে তেল দিয়ে তারপর শ্যাম্পু করে নিন। সপ্তাহে ২ বার করুন। দেখবেন ১ মাসের মধ্যেই চুল পড়া বন্ধ হয়ে চুলের পাতলা ভাব কমে আসবে।

জবা ফুলের তেল:

জবা ফুলের তেল মাথায় লাগালে চুল পড়া চিরতরে বন্ধ হবে এবং খুব তাড়াতাড়ি নতুন চুল গজাতে শুরু করবে।

উপকরণঃ

  • লাল জবা ফুল ১২-১৫টি
  • কারি পাতা ১ কাপ
  • নারকেল তেল ৫০০ গ্রাম

পদ্ধতি:

ফুলের পাপড়িগুলি ও কারি পাতা ভালো করে ধুয়ে শুকিয়ে নিন। এবার পাত্রে নারেকেল তেল গরম করে তাতে জবা ফুলের পাপড়ি ও কারি পাতা সাবধানে দিয়ে আঁচ কম করে নাড়তে থাকুন। যাতে পুড়ে না যায়।

১০ মিনিট কম আঁচে নাড়ার পর গ্যাস বন্ধ করুন। তেল ঠান্ডা হয়ে গেলে একটি পাত্রে ছেঁকে রেখে দিন।

প্রতিদিন রাতে শোবার আগে ভালো করে ৫ মিনিট ধরে স্ক্যাল্পে ম্যাসাজ করুন।

পেঁয়াজ এ চুল ঘন করার উপায়

উপকরণঃ

  • ২টি ছোটো পেঁয়াজ
  • ৪টি রসুনের কোয়া
  • ১ কাপ নারকেল তেল

পদ্ধতি:

  • পেঁয়াজ স্লাইস করে কেটে নিন।
  • রসুনের কোয়াগুলি ছুলে নিন।
  • নারকেল তেল একটি পাত্রে গরম করে তাতে রসুন ও পেঁয়াজের স্লাইসগুলো দিন।
  • এবার কম আঁচে নাড়তে থাকুন।
  • যতক্ষণ না পেঁয়াজ বাদামী রঙের হচ্ছে ততক্ষণ ক্রমাগত তেল নাড়তে থাকুন।
  • ১৫ মিনিট পর গ্যাস বন্ধ করুন। ঠান্ডা হয়ে গেলে একটি পাত্রে বা বোতলে ছেঁকে রাখুন।
  • প্রতিদিন রাতে এই তেল আপনার স্ক্যাল্পে ম্যাসাজ করুন। সকালের আগে হালকা গরম জলে মাথা ধুয়ে তারপর শ্যাম্পু করে ফেলুন।

অ্যালোভেরা দিয়ে চুল ঘন করার উপায় :

  • অ্যালোভেরা থেকে জেল বের করে নিন।
  • ৪ চামচ মধুর সাথে মিশিয়ে চুলের প্রতিটি গোঁড়ায় লাগিয়ে নিন।
  • চুল ঘন করার সাথে এটি আপনার চুলের আগা ফেটে যাওয়াও রোধ করবে।

ডিম দিয়ে চুল ঘন করার উপায়:

  • একটি ডিমের সাদা অংশ নিয়ে ভালো ভাবে ফেটিয়ে নিন।
  • তারপর পরিষ্কার চুলে হাত অথবা ব্রাশের সাহায্যে ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত লাগাতে হবে।
  • তারপর একটি মোটা দাঁতের চিরুনির সাহায্যে সাবধানে চুল আঁচড়ে নিন।
  • ২০-৩০ মিনিট রেখে নরমাল পানিতে শ্যাম্পু করে নিন।
  • যেদিন চুলে ডিম দিবেন সেদিন আর কন্ডিশনার দেওয়ার প্রয়োজন নেই। এভাবে সপ্তাহে ১ বার করুন।

মধু  দিয়ে চুল ঘন করার উপায়:

মাথার ত্বকের জন্য খুব ভালো ময়েশ্চারাইজার হিসেবে কাজ করে মধু। তবে চুলে ব্যবহারের ক্ষেত্রে মধু খুবই আঠালো, সেজন্য খুব অল্প পরিমাণে (৪-৫ চামচ এর বেশি না) মধু নিয়ে চুলের গোঁড়ায় ব্যবহার করুন। ১৫ মিনিট রেখে দিন। তারপর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

চুল ঘন করার জন্য যে বিষয়গুলো মেনে চলা উচিত্‍:

প্রতিবার গোসলের সময় শ্যাম্পু ব্যবহার করবেন না

চুল পরিষ্কার রাখা জরুরী, কিন্তু তা বলে প্রতিবার গোসলের সময় চুলে শ্যাম্পুর ব্যবহার চুলের জন্য মোটেও স্বাস্থ্যকর নয়। অতিরিক্ত শ্যাম্পুর ব্যবহারে চুলের প্রাকৃতিক তেল চলে যায়, যার ফলে চুল সহজে বাড়তে চায় না। তাই অন্তত ১ দিন পরপর চুল শ্যাম্পু করুন।

 ভেজা চুল তোয়ালে পেঁচিয়ে রাখবেন না

চুল শুকানোর জন্য অনেকেই গোসল শেষে ভেজা চুল তোয়ালেতেই পেঁচিয়ে রাখেন যা চুলের জন্য খুবই ক্ষতিকর। এতে চুলের গোঁড়া একেবারেই নরম হয়, যার কারণে চুল পড়া বাড়ে। চুল বৃদ্ধি একেবারেই কমে যায়। গোসল সেরে ফ্যানের বাতাসে চুল ছড়িয়ে শুকিয়ে নিন। এবং অবশ্যই চুল ঝাড়ার কাজটিও করবেন না।

খাবারের দিকে নজর দিন

শুধু বাহ্যিকভাবেই নয় চুলের বৃদ্ধি হয় ভেতরের পুষ্টিগুণ থেকে। আপনি যদি খাদ্য তালিকায় পুষ্টিকর এবং চুল বৃদ্ধিতে সহায়ক খাবার রাখেন তাহলে চুলের বৃদ্ধি দ্রুতই হবে। দ্রুত চুল বৃদ্ধির জন্য ভিটামিন ই, এ, ফলিক অ্যাসিড, ওমেগা৩ ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ খাবার রাখুন প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায়।

চুল আঁচড়ানোর সময় মনোযোগ দিন

চুল অনেক জোরে ঘষে আঁচড়ানো, চুলে টান লাগা, চুলের জট এক টানে ছাড়িয়ে ফেলার মতো ভুল করবেন না। এতে করে চুলের গোঁড়া নরম হয়, চুল পড়া বাড়ে এবং চুল ভেঙেও যায়। চুল খুব ভালো করে সময় নিয়ে আঁচড়ান

কেমিক্যাল থেকে দূরে থাকুন

চুল রঙ করা, সটীক করা, কেমিক্যাল দিয়ে স্ট্রেইট করা, চুলে জেল ব্যবহার, গেয়ার স্প্রে ইত্যাদি ধরণের কেমিক্যাল বন্ধ করে দিন মাস দুয়েকের জন্য। চুলকে স্বাভাবিক নিয়মে বাড়তে দিন।

 দুশ্চিন্তা ও মানসিক চাপ মুক্ত থাকুন

মানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তার কারণে আমাদের দেহে হরমোনের ভারসাম্যে তারতম্য ঘটে যার কারণে অতিরিক্ত চুল পড়তে দেখা যায়। তাই অতিরিক্ত মানসিক চাপ নেয়া থেকে বিরত থাকুন।

বাঙালি নারীর সৌন্দর্য প্রকাশের অন্যতম হল তার চুল। তাই চুলের প্রতি যত্নশীল হউন। রাসায়নিক উপাদান এড়িয়ে চলুন। ধুলাবালি থেকে সাবধানে থাকুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *