ঘি এর উপকারিতা – জানা জরুরি

ঘি এর উপকারিতা: দুধের চেয়েও ঘি হজমের শক্তি বেশি বাড়িয়ে দেয় বলে চিকিৎসকরা দাবি করেছেন। জ্বর থেকে সেরে ওঠার পর এনার্জি ফিরে পেতে ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে ঘি। ঘিয়ের যে কত উপকারিতা, সেটা অনেকেই জানেন না। ঘি যতটা খাবারের স্বাদ বাড়ায়, ততটাই উপকারী ত্বক এবং চুলের জন্যও। শীতকালে সকলেরই অল্পবিস্তর ঠোঁট ফাটে। অল্প একটু ঘি নিয়ে ঠোঁটে লাগিয়ে হালকা হাতে ঘষুন। ঠোঁটকে আরো নরম এবং গোলাপি রাখতে ঘিয়ের জুড়ি মেলা ভার। ঠোঁটের মতো চুলের সৌন্দর্য বাড়াতেও ঘি দারুণ উপকারী। চুলকে আরো চকচকে এবং নরম রাখে ঘি। এক চামচ নারিকেল তেলের সঙ্গে ২ চামচ ঘি নিয়ে চুল এবং স্কাল্পে ভালো করে লাগান। ৩০ মিনিট রেখে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। তা ছাড়া চোখের নিচের কালি দূর করতেও সাহায্য করে ঘি। ত্বকের জন্যও দারুণ উপযোগী ঘি।

চলুন জেনে নেই ঘি এর উপকারিতা:


মানসিক মাথাব্যথা মুছে ফেলে:

এক গবেষণায় দেখা যায়, নেতিবাচক আবেগের একটি রাসায়নিক মিল রয়েছে এবং তা হল এইসব রাসায়নিক পদার্থের মধ্যে অস্বাস্থ্যকর চর্বি রয়েছে। ঘি একটি সুস্থ চর্বি যা এই আবেগ পোষণ করে না। ঘি সহজে নষ্ট হয় না। প্রায় ১০০ বছর পর্যন্ত ঠিক থাকে ঘি।

আরো পড়ুন: তালমাখনার উপকারিতা

ক্ষতিকারক সেল ধ্বংস করে

Butyric অ্যাসিড শরীরের ইমিউন সিস্টেমের দক্ষতা বৃদ্ধি করে। এটি শরীরের ক্ষতিকারক সেল ধ্বংস করতে পারে। ঘি-এর স্ফুটনাঙ্ক খুব বেশি। ২৫০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড পর্যন্ত ঘি গরম করা যায়। অধিকাংশ তেলই এই তাপমাত্রায় গরম করলে ক্ষতিকারক হয়ে যায়।

 ওজন হ্রাস করে:

জলপাইয়ের তেল ও নারিকেলের তেলের মত ঘি’তেও সে সমস্ত স্বাস্থ্যকর পুষ্টি বিদ্যামান, যা আপনার শরীরের চর্বি পোড়াতে সাহায্য করে এবং ওজন হ্রাস করে।

মারাত্মক রোগের ঝুঁকি কমায়:

ঘি’তে লিনলিয়েক এসিড সমৃদ্ধ, এটি এক প্রকার ফ্যাটি এসিড যা প্লাককে প্রতিরোধ করে ক্যান্সার, ডায়াবেটিস এবং হার্টের বিভিন্ন রোগ দূর করে। বহু প্রাচীন কাল থেকেই ঘি পজিটিভ ফুড হিসেবে পরিচিত। আধুনিক গবেষণাও বলছে ঘি খেলে পজিটিভিটি বাড়ে। মনোবল উন্নত হয়।

আরো পড়ুন: আমড়ার উপকারিতা

 হজম শক্তি বৃদ্ধি করে:

ঘিয়ের মধ্যে রয়েছে Butyric  অ্যাসিড। একটি সংক্ষিপ্ত চেইন ফ্যাটি অ্যাসিড যার বেশ কিছু সুবিধা আছে। অনেক সুবিধার মধ্যে, সবচেয়ে কার্যকরী সুবিধা হল, এটি হজম শক্তি বৃদ্ধি করে। আমাদের শরীর ফাইবারকে butyric অ্যাসিডে রূপান্তর করে। তাই, ঘি খাবার ফলে Butyric অ্যাসিড পরিপাক নালীর কাজে সাহায্য করে এবং এটি সুস্থ রাখে। Butyric অ্যাসিড শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

শক্তি বৃদ্ধি করে:

ঘি’তে মধ্যম চেইন ফ্যাটি এসিড বিদ্যামান। যা, লিভার সরাসরি শোষণ করতে পারে এবং দ্রুত বার্ন করতে পারে। আমরা যে সকল কার্বযুক্ত খাবার গ্রহণ করি, তার মধ্যে এটি শক্তির একটি স্বাস্থ্যসম্মত উৎস।

ক্ষত সারাতে সাহায্য করে:

প্রদাহ দূর করার এটি একটি প্রাকৃতিক উপায়। নিয়মিত ঘি খাদ্য তালিকায় রাখলে, তা শরীরের প্রদাহ দূর করে। ঘি’তে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টের অ্যান্টি-ভাইরাল গুণ। যা ক্ষত সারাতে সাহায্য করে। এই কারণেই ডেলিভারির পর নতুন মায়েদের ঘি খাওয়ানো হয়।

 কোলেস্টেরল কমায়:

ঘি’তে ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড বিদ্যামান। যা আমাদের কোলেস্টেরল কমিয়ে ফেলে এবং হার্টের সুরক্ষা প্রদান করে। ঘিয়ের মধ্যে থাকা মিডিয়াম চেন ফ্যাটি অ্যাসিড খুব এনার্জি বাড়ায়। অধিকাংশ অ্যাথলিট দৌড়নোর আগে ঘি খান। এর ফলে ওজনও কমে।

চোখের স্বাস্থ্য ভাল করে:

ঘি ভিটামিন ‘এ’ তে সমৃদ্ধ। যা আমাদের চোখের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।

ক্ষুধা মন্দা দূর করে:

হজম শক্তি বৃদ্ধির সাথে সাথে এটি ক্ষুধা কমানোর ক্ষেত্রেও ব্যাপক ভূমিকা পালন করে। ভিটামিন এ ও ই থাকায় ঘি পুষ্টিগুণে ভরপুর। সুন্দর গন্ধ ও স্বাদ অথচ অধিকাংশ দুগ্ধজাত দ্রব্যের মতো ঘি থেকে অ্যালার্জি হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

আরো পড়ুন: মৌরির উপকারিতা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *