গ্যাস্ট্রিক থেকে মুক্তির উপায় – গ্যাস্ট্রিক কমানোর উপায়

গ্যাস্ট্রিক থেকে মুক্তির উপায়:গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা এখন ঘরে ঘরে। খাবারে অনিয়ম, সচেতনতার অভাবে গ্যাস্ট্রিকের মতো সমস্যা শরীরে বাসা বাঁধতে পারে। আর একবার গ্যাস্ট্রিক হলে মুশকিল।

গ্যাস্ট্রিক থেকে মুক্তির উপায়:

আদা:

প্রতিদিন অল্প করে আদা খান । দেখবেন অল্প সময়ে হজম ক্ষমতার উন্নতি তো ঘটবেই, সেই সঙ্গে গ্যাস-অম্বলের সমস্যা কমবে।

লবঙ্গ:

একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে লবঙ্গে গ্যাস-অম্বলের বিরুদ্ধে কাজ করে ।  বেশি মাত্রায় খাবার খাওয়ার পর যদি বুক জ্বালা এবং ঢেঁকুর ওঠার সমস্যা, তাহলে ১-২ টি লবঙ্গ খেয়ে ফেলুন !

খাবার সোডা:

এক গ্লাসজলে ১ চামচ খাবার সোডা মিশিয়ে পান করুন। প্রতিদিন এই মিশ্রণটি পান করলে দেখবেন আর কোনোদিন অ্যাসিডিটি হবে না।

আরো পড়ুন: শরীরচর্চা করার উপকারিতা

দারুচিনি:

দারুচিনি একদিকে যেমন হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটায়, তেমনি পেটের সংক্রমণের প্রকোপ কমাতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।  অল্প করে দারুচিনি দিয়ে  চা খেলে দারুণ উপকার মিলবে।

মৌরি:

মৌরিতে থাকা বিশেষ এক ধরনের তেল পাকস্থলির কর্মক্ষমতাকে বাড়িয়ে তোলে। সেই সঙ্গে হজমে সহায়ক পাচক রসের ক্ষরণ এতটা বাড়িয়ে দেয় যে বদ-হজম এবং অ্যাসিড রিফ্লাক্সের মতো সমস্যা কমতে সময় লাগে না।

অ্যালোভেরা:

অ্যালোভেরায় উপস্থিত নানাবিধ খনিজ একদিকে যেমন ত্বকের সৌন্দর্য বাড়ায়, তেমনি হজম ক্ষমতার উন্নতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।

শুধু তাই নয়, অ্যালোভেরায় উপস্থিত অ্যাসিড, স্টমাকে তৈরি হওয়া অ্যাসিডের কর্যকারিতা কমিয়ে দেয়। ফলে অ্যাসিডিটির সমস্যা একেবারে নিয়ন্ত্রণে চলে আসে।

তুলসী পাতা:

গ্যাস-অম্বলের সমস্যা কমাতে তুলসী পাতা দারুণ কাজে আসে। ৩-৫ টি তুলসি পাতা পানিতে ভিজিয়ে, সেই পানি ফুটিয়ে খেয়ে ফেলুন। দেখবেন চোখের পলকে অ্যাসিডিটি কমে যাবে।

ডাবের জল:

স্টমাক অ্যাসিডের ক্ষরণ স্বাভাবিক করতেও ডাবের জল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।

শুধু তাই নয়, শরীরে উপস্থিত অতিরিক্ত অ্যাসিডকে বের করে দিতেও এই প্রাকৃতিক উপাদানটি বিশেষভাবে সাহায্য করে থাকে।

তাই তো অ্যাসিডিটির সমস্যা থেকে দূরে থাকতে প্রতিদিন ডাবেরজল খাওয়ার পরামর্শ দেন চিকিত্‍সকেরা।

বাদাম:

আপনি কি প্রায়শই অ্যাসিডের সমস্যায় ভুগেন? তাহলে খাবার পরপরই ২-৩ টি বাদাম খান।

বাদামে রয়েছে ক্যালসিয়াম এবং অ্যালকেলাইন কমপাউন্ড, যা স্টামক অ্যাসিডিটির জন্য দায়ি অ্যাসিডদের ক্ষতি করার ক্ষমতা একেবারে কমিয়ে দেয়।

রসুন:

অ্যাসিডিটির সমস্যা কমাতে রসুনের কোনো বিকল্প হয় না । এক্ষেত্রে এক কোয়া রসুন খেয়ে ফেললেই স্টমাক অ্যাসিডের ক্ষরণ ঠিক হতে শুরু করে। ফলে গ্যাস-অম্বল সংক্রান্ত নানা লক্ষণ ধীরে ধীরে কমে যেতে শুরু করে।

আরো পড়ুন: সকালে হাঁটার উপকারিতা

দই:

দই আমাদের হজম শক্তি বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। এতে করে দ্রুত খাবার হজম হয়। ফলে পেটে গ্যাস হওয়ার ঝামেলা দূর হয়।

  1. প্রতিদিন ২/৩ চামচ দই খেয়ে নিন।
  2. দই আমাদের পাকস্থলীকে `এইচ পাইলোরি ব্যাকটেরিয়া` থেকে রক্ষা করে যা গ্যাস্ট্রিক হওয়ার অনতম কারণ। তাছাড়া দই আমাদের দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
  3. আপনি চাইলে কলা, দই ও মধু একসাথে পেস্ট করে খেতে পারেন দ্রুত গ্যাস্ট্রিক সমস্যা রোধ করার জন্য।

শসা:

শসা পেট ঠাণ্ডা রাখতে অনেক বেশি কার্যকরী খাদ্য। এতে রয়েছে ফ্লেভানয়েড ও অ্যান্টি ইনফ্লেমেটরি উপাদান, যা পেটে গ্যাসের উদ্রেক কমায়।

পেঁপে:

পেঁপেতে রয়েছে পাপায়া নামক এনজাইম, যা হজমশক্তি বাড়ায়। নিয়মিত পেঁপে খাওয়ার অভ্যাস করলেও গ্যাসের সমস্যা কমে।

কলা:

দীর্ঘ বিরতি দিয়ে খাবার খাওয়ার অভ্যাস থাকে, তবে এর মাঝে কলা খেয়ে নিন। এটি আপনাকে গ্যাস্ট্রিকের হাত থেকে রক্ষা করবে।

ক্ষুধা অনুভব করছেন কিন্তু খাবার খাওয়ার সময় নেই, এমন অবস্থায় ঝটপট একটি কলা খেয়ে নিন।

কমলা:

কমলা পাকস্থলির অতিরিক্ত সোডিয়াম দূর করতে সহায়তা করে। এতে করে গ্যাসের সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

কলার সল্যুবল ফাইবারের কারণে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার ক্ষমতা রাখে। সারাদিনে অন্তত দুটি কলা পেট পরিষ্কার রাখতে কাজ করে।

পুদিনা পাতা:

এক কাপ পানিতে পাঁচটা পুদিনা পাতা দিয়ে ফুটিয়ে খান। পেট ফাঁপা, বমিভাব দূরে রাখতে এর বিকল্প নেই।

আরো পড়ুন: মেয়েদের ওজন কমানোর ডায়েট চার্ট

এসিডিটি প্রতিরোধ এর উপায়:

সঠিক সময়ে খাবার গ্রহণের কোন বিকল্প নেই, এসিডিটির সমস্যা থেকে দূরে থাকতে সঠিক সময়ে খাবার গ্রহণ করতে হবে।

1.একবারে পেট ভর্তি করে খাওয়া যাবে না। বিশুদ্ধ পানি পান করতে হবে পর্যাপ্ত পরিমাণ।

2.অতিমাত্রায় চিনিজাতীয় খাবার এড়িয়ে চলতে হবে।

3.খেতে হবে টাটকা খাবার।

4.ফ্রোজেন ফুড যথাসম্ভব না খাওয়াই ভালো।

5.নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে যা শরীরকে টক্সিন মুক্ত রাখে।

6.ঘুমাতে হবে ঠিকঠাক, মানুসিক চাপমুক্ত থাকতে হবে।

7.রাতের খাবার ঘুমানোর অন্তত ২ঘন্টা আগে সেরে ফেলুন। খেয়েই শুয়ে পড়া অনুচিত, সামান্য হাঁটাহাঁটি করার অভ্যাস গড়ে তুলুন।

8.অতিরিক্ত ওজনকে না বলুন।

9.অবশ্যই ধূমপান ও মাদকদ্রব্য থেকে নিজেকে বিরত রাখতে হবে।

10.অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে তৈরি খাদ্য ও বাইরের খাদ্যকে নিজ খাদ্য তালিকা থেকে বিদায় দিতে হবে।

আরো পড়ুন: চুল ঘন করার উপায়

11.অতিরিক্ত তেল ও মসলা জাতীয় খাবার খাওয়া যাবেনা।

12.তৈলাক্ত খাবার খাওয়ার পরপরই পানি পান না করে, অন্তত ৩০মিনিট পর পানি পান করতে হবে।

13.ভারী খাবার যেমন, মাংস, বিরিয়ানি, চাইনিজ রাতে না খেয়ে সকালে বা দুপুরের মেন্যুতে অন্তর্ভূক্ত করতে হবে।

14.বাসি, পঁচা খাবার খাওয়া যাবেনা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *