কিসমিস খাওয়ার উপকারিতা

আসসালামু আলাইকুম, আজকে আমরা জানবো কিসমিস খাওয়ার উপকারিতা

কিসমিসের পুষ্টিগুণ অপরিসীম। কিসমিস আমাদের সকলের নিকট একটি পরিচিত নাম। কিসমিস স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী। কিসমিস মূলত আঙুর ফলের শুকনো রূপ। তাই কিসমিসকে শুকনো ফলের রাজাও বলা হয়। সোনালী-বাদামী রংয়ের চুপসানো ভাঁজ হওয়া ফলটি খুবই শক্তিদায়ক।

কিসমিসে থাকা কার্বোহাইড্রেট শরীরে অতিরিক্ত শক্তির জোগান দেয়। এমনকী, কিসমিস ভেজানো পানিও শরীরের জন্য বিশেষ উপকারী!

প্রতি ১০০ গ্রাম কিসমিসে কিসমিসের গুনাগুন:

এনার্জি ৩০৪ কিলোক্যালরি

কার্বোহাইড্রেট ৭৪.৬ গ্রাম

ডায়েটরি ফাইবার ১.১ গ্রাম

ফ্যাট ০.৩ গ্রাম, প্রোটিন ১.৮ গ্রাম

ক্যালসিয়াম ৮৭ মিলিগ্রাম

আয়রন ৭.৭ মিলিগ্রাম

পটাসিয়াম ৭৮ মিলিগ্রাম

সোডিয়াম ২০.৪ মিলিগ্রাম।

জেনে নিন কিসমিস খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা:

দাঁত এবং মাড়ির সুরক্ষায়:

বাচ্চারা ক্যান্ডি ও চকলেট খেয়ে দাঁত ও মাড়ির ক্ষতি করে থাকে। কিন্তু এগুলির পরিবর্তে বাচ্চাদের কিসমিস খাওয়ার অভ্যাস করালে দাঁতের সুরক্ষা হবে। আবার একই স্বাদ পাওয়ার সাথে সাথে বিপুল পরিমাণ উপকারও পাবে। চিনি থাকার পাশাপাশি কিসমিসে রয়েছে ওলিনোলিক অ্যাসিড, যা মুখের ভেতরের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে বাঁধা দেয়।

দেহে শক্তি সরবরাহ করতে: 

দুর্বলতা দূরীকরণে কিসমিসের জুড়ি নেয়। দেহে শক্তি সরবরাহ করতে কিসমিসের অবদান অনেক বেশি। কিসমিসে রয়েছে চিনি, গ্লুকোজ এবং ফ্রুক্টোজ, যা তাৎক্ষণিকভাবে দেহে এনার্জি সরবরাহ করে থাকে। তাই দুর্বলতার ক্ষেত্রে কিসমিস খুবই উপকারী

কোষ্ঠকাঠিন্য দূরীকরণে: 

কিসমিসে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার, যা আমাদের পরিপাকক্রিয়া দ্রুত হতে সাহায্য করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর করে।

জ্বর নিরাময় করতে:

কিসমিস ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে জ্বর নিরাময় করতে সাহায্য কারে।

দৃষ্টি শক্তি বৃদ্ধিকরন: 

রক্তে ভিটামিন এ, এ-বিটা ক্যারোটিন এবং এ-ক্যারোটিনয়েড থাকে। কিসমিস এন্টি-অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করতে পারে। যা চোখের ফ্রি-রেডিকল দূর করতে সক্ষম। কিসমিস খেলে সহজে শরীরে বয়সের ছাপ পড়ে না। দৃষ্টি শক্তি হ্রাস ও চোখে ছানি পড়ে না। পাশাপাশি পেশী শক্তি হ্রাস পায় না। কিসমিস চোখের জন্য খুব উপকারি।

ওজন বাড়াতে:

কিসমিসে প্রচুর ফ্রুক্টোজ ও গ্লুকোজ থাকে। তাই এটি ওজন বাড়াতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। যদি সঠিক নিয়মে ওজন বাড়াতে চান তবে আজই কিসমিস খেতে পারেন।

দৃষ্টি শক্তি বৃদ্ধিকরন: 

রক্তে ভিটামিন এ, এ-বিটা ক্যারোটিন এবং এ-ক্যারোটিনয়েড থাকে। কিসমিস এন্টি-অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করতে পারে। যা চোখের ফ্রি-রেডিকল দূর করতে সক্ষম। কিসমিস খেলে সহজে শরীরে বয়সের ছাপ পড়ে না। দৃষ্টি শক্তি হ্রাস ও চোখে ছানি পড়ে না। পাশাপাশি পেশী শক্তি হ্রাস পায় না। কিসমিস চোখের জন্য খুব উপকারি।

অ্যানিমিয়া প্রতিরোধ:

কিসমিস-এ প্রচুর পরিমাণে আয়রন আছে যা রক্তাল্পতা বা অ্যানিমিয়া কমাতে সরাসরি সাহায্য করে। এছাড়াও, ভিটামিন বি কমপ্লেক্সের অন্তর্গত বেশ কিছু ভিটামিন এতে পাওয়া যায়, যা নতুন রক্ত তৈরিতে সাহায্য করে। কিসমিস-এ কপারও থাকে যা রেড ব্লাড সেল তৈরিতে সাহায্য করে।

রক্তশূন্যতা দূর করতে:

রক্তশূন্যতার কারণে অবসাদ, শারীরিক দুর্বলতা, বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যেতে পারে। এমনকি, বিষণ্ণতাও দেখা দিতে পারে। কিসমিসে আছে, প্রচুর পরিমাণে লৌহ উপাদান, যা রক্তশূন্যতা দূর করতে সাহায্য করে।

এসিডিটি কমাতে: 

রক্তে অধিক মাত্রায় এসিডিটি (অম্লতা) বা টক্সিসিটি (বিষ উপাদান) থাকলে, তাকে বলা হয়, এসিডোসিস। এসিডোসিসের (রক্তে অম্লাধিক্য) কারণে বাত, চর্মরোগ, হৃদরোগ ও ক্যান্সার হতে পারে। কিসমিস রক্তের এসিডিটি কমাতে সাহায্য করে।

হাড়ের সুরক্ষা: 

প্রতিদিন কিসমিস খাওয়ার অভ্যাস হাড়ের ক্ষয় এবং বাতের ব্যথা থেকে দূরে রাখবে। বর্তমানে সময়ে অনেক রুগী অস্টিওপরোসিস (হাড়ের একধরনের রোগ) আক্রান্ত হচ্ছেন। বোরন নামক খনিজ পদার্থের অভাবে এই রোগ হয়। কিশমিশে আছে প্রচুর পরিমাণ বোরন, যা অস্টিওপরোসিস রোগের প্রতিরোধক। সুতরাং পরিবারের সবাইকে কিসমিস খাওয়ার অভ্যাস করানো উচিত।

ইনফেকশনের সম্ভাবনা দূরীকরণ:

কিসমিসের মধ্যে রয়েছে পলিফেনলস এবং অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টিইনফেমেটরী উপাদান। যা কাঁটা-ছেড়া বা ক্ষত হতে ইনফেকশন হওয়ার হাত থেকে দূরে রাখে।

ক্যান্সার প্রতিরোধে:

কিসমিসের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট দেহের কোষগুলোকে ফ্রি র‌্যাডিক্যাল ড্যামেজের হাত থেকে রক্ষা করে এবং ক্যান্সারের কোষ উৎপন্ন হওয়ায় বাধা প্রদান করে।

মুখের স্বাস্থ্য রক্ষাকরন:

কিসমিসে অলিনিলীক এসিড থাকে। এটি মুখের ভিতর ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার জন্ম ব্যহত করে।

পরিপাক তন্ত্রের উপকারিতায়:

কিসমিস কোষ্ঠ্যকাঠিন্য থেকে রক্ষা করে। নিয়মিত কিসমিস খেলে হজমশক্তি ভাল থাকে। এটি গ্যাস্ট্রোইনটেস্টিনাল (মুখ থেকে পায়ু) পথ থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের করে দেয়।

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে:

কিসমিস শুধুমাত্র রক্তের মধ্যে থাকা বিষো উপাদান কমায় তাই না, বরং রক্তচাপও কমায়। কিসমিসে প্রধান উপাদান, পটাশিয়াম, রক্তের চাপ কমাতে সাহায্য করে। শরীরে থাকা উচ্চমাত্রার সোডিয়াম, রক্তচাপ বাড়ার প্রধান কারণ। কিসমিস শরীরের সোডিয়াম মাত্রাকে নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য করে।

মস্তিষ্কের জন্য উপকারি:

কিসমিসে থাকা বোরন মস্তিষ্কের জন্য খুবই উপকারি। বোরন ধ্যান বাড়াতে সহায়ক। ফলে কাজে মনোযোগ বাড়ে। এটি বাচ্চাদের পড়াশোনাতেও মনোযোগী করে তুলতে পারে।

অনিদ্রা:

অনেকের ঠিকমত ঘুম আসে না। তাদের জন্য কিসমিস অনেক উপকারি। কারন কিসমিসের মধ্যে রয়েছে প্রচুর আয়রন যা মানুষের অনিদ্রার চিকিৎসায় বিশেষভাবে উপকারী। তাই আজ থেকে কিসমিস খাওয়া শুরু করুন, দেখবেন অনেক উপকার পাবেন।

সেক্সুয়াল সমস্যা প্রতিরোধ:

আর্জিনিন যা পাওয়া যায় কিসমিসে, তা স্পার্মের চলাচলে সাহায্য করে, যেটি গর্ভধারণে সাহায্য করে।  যাদের যৌন সহনশীলতা কম, তাদেরকেও রেগুলার কিসমিস খেতে পরামর্শ দেওয়া হয়।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়:

আপনি যদি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বড়াতে চান, তবে ভেজা কিসমিস এবং তার পানি নিয়মিত খান। এর মধ্যে রয়েছে
অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা রোগের সঙ্গে লড়াই করার ক্ষমতা বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

শরীর রাখে বিষমুক্ত:

চারিদিকের দূষণে আপনি যখন জেরবার তখন সকালে খালি পেটে ভেজানো কিসমিস খেলে শরীর বিষমুক্ত হবে।

কোষ্ঠকাঠিন্য কমায়:

নিয়মিত কিসমিস খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য কমে। আপনি যদি পেটের সমস্যায় নিয়মিত ভোগেন, তাহলে প্রতিদিন সকালে খালিপেটে ভেজানো কিসমিস খান।

বশে রাখে ব্লাড প্রেসার:

উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের প্রাকৃতিক পদ্ধতিগুলোর মধ্যে একটি কিসমিস। এর মধ্যে থাকা পটাসিয়াম হাই ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণে রাখে। (কিসমিস খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা)

রক্ত স্বল্পতা কমায়:

রক্ত স্বল্পতা কমাতে কিসমিস যথেষ্ট উপকারি। নিয়মিত খেলে এর মধ্যে থাকা আয়রন হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বাড়ায়। এছাড়াও, এর মধ্যে আছে তামা যা রক্তে লাল রক্তকণিকা তৈরিতে সাহায্য করে।

হজমশক্তি বাড়ায়:

সুস্থ থাকার জন্য ভালো হজমশক্তি জরুরি। এক্ষেত্রে কিসমিস হজমশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। রোজ রাতে এক গ্লাস পানিতে কিসমিস ভিজিয়ে রাখুন। পরের দিন ভোরে সেই কিসমিস খান। তারপর নিজেই খেয়াল করুন ফলাফল পনেরো দিন পরেই।

জেনে নেওয়া যাক, কিসমিস ভেজানো পানি খাওয়ার নিয়ম উপকারিতা

১) গর্ভাবস্থায় কিসমিস খাওয়ার উপকারিতা: কিসমিস ভেজানো পানি তাই মহিলাদের পক্ষে উপকারী। মহিলারা রক্তাল্পতায় ভোগেন। তাই চিকিৎসকরা তাঁদের কিসমিস খাওয়ার পরামর্শ দেন।

২) কিসমিস ভেজানো পানি খেলে কিডনির নানা সমস্যা থেকে দূরে থাকা যায়। লিভারও সুস্থ থাকে।

৩) কিসমিসে পটাশিয়াম থাকে, যা হার্টকে ভাল রাখে। শরীরে খারাপ কোলেস্টেরলকেও দূরে রাখে কিসমিস।

৪) যাঁরা নিয়মিত পেটের ও হজমের সমস্যায় ভোগেন, তাঁদের জন্য এই টোটকা খুবই উপকারী। এতে পেট পরিষ্কার থাকে।

কিসমিস ছোট হলেও উপকারিতা অনেক। অল্প পরিমাণে নিজের রোজকার খাবারে রাখুন এবং দেখুন আপনার শরীরের ওপর এর প্রভাব।

যেভাবে কিসমিসের পানি তৈরি করবেন:

১) ২ কাপ পানি (৪০০ এমএল) ও ১৫০ গ্রাম কিসমিস লাগবে।

কিসমিসগুলোকে ভালো করে কয়েক বার ধুয়ে নিন।

এরপর একটি পাত্রে দু-কাপ পানি দিয়ে রাতভর কিসমিস ভিজিয়ে রাখুন।

সকালে ছেকে নিয়ে, সেই পানিটা হালকা গরম করে সকালে খালি পেটে খেয়ে নিন।

৩০ থেকে ৩৫ মিনিট অন্য কিছু খাবেন না।

কিসমিস যেমন উপকারি একইভাবে বেশি পরিমাণে কিসমিস খাওয়া স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর। কিসমিস ফ্রুকটোজের পাশাপাশি গ্লুকোজ সমৃদ্ধ। যা ওজন বাড়িয়ে দেয়। অতিরিক্ত খেলে শ্বাসকষ্ট, বমি, ডায়রিয়ার মতো সমস্যা হতে পারে। তাই কম করে কিসমিস খান প্রতিদিন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *