কালমেঘ পাতার উপকারিতা – Jana Joruri

কালমেঘ পাতার উপকারিতা: কালমেঘ একটি ভেষজ উদ্ভিদ। কালমেঘের গড় উচ্চতা ১ মিটার। অল্প পরিমাণে বিক্ষিপ্ত গুচ্ছে ফুল ফোটে। দেড় থেকে দু মিটার লম্বা হয়ে থাকে। শিকড় ব্যতীত কালমেঘ গাছটির সব অংশ ঔষধের কাজে লাগে। কালমেঘের স্বাদ অত্যন্ত  তেতো ও পুষ্টিকর। এটি মানবদেহের  রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা  বৃদ্ধি করে। জ্বর, কৃমি, আমাশয়, সাধারণ শারীরিক দুর্বলতা দূর করে। কালমেঘের বিভিন্ন ধরনের উপকারিতা রয়েছে তা এখন আমরা জানব।

কালমেঘ পাতার উপকারিতা :

জ্বর, সর্দি, কাশি :

কালমেঘ পাতা বিভিন্ন ধরনের রোগ সারাতে সাহায্য করে। তার ভেতর জ্বর, সর্দি, কাশি, গলা ব্যাথা, গলা বসে যাওয়া, ইত্যাদি ক্ষেত্রে এটি ব্যবহার হয়ে থাকে। কালমেঘের পাতার রস যেকোন রকম ঠান্ডা লাগা জনিত রোগ খুব তাড়াতাতিড় সারিয়ে তুলতে সাহায্য করে।

আর্থারাইটিস ও গাউট :

কালমেষ পাতা আর্থা্রাইটিস ও গাউট এর ওষুধ হিসেবে ও ব্যবহৃত হয়। ১৫-২০ টি কালমেঘ পাতা বেটে রস করে প্রতিদিন খেলে আর্থারাইটিস বা গাউট এর সমস্যা থেকে আপনি চিরতরে মুক্তি পাবেন।

লিভার :

কালমেঘের পাতায় লিভারের সমস্ত রকমের রোগ নিরাময় হয়ে থাকে। লিভার কোন কারণে খারাপ হয়ে থাকলে কালমেঘের পাতা এর পরিশোধক হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। আমাদের খাদ্যাভাস বা ফল ও সবজিতে ব্যবহৃত পেস্টিসাইড এর কারণে লিভার খারাপ হয়। এই সমস্যার সমাধান পেতে হলে কালমেষের পাতা নিয়মিত সেবন করতে হবে।

ক্যান্সার নিরাময়ের ক্ষেত্রে অত্যন্ত্য উপকারী হচ্ছে কালমেঘ। কালমেঘের ঔষধি গুণ আমাদের শরীরে ক্যান্সার এর কোষ বৃদ্ধি রোধ করতে সাহায্য করে থাকে। এটি ক্যান্সার এর  ঔষুধ হিসেবে ও ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

ডায়াবেটিস :

কালমেঘ পাতা ডায়াবেটিস এর  গুরুত্বপূন্য ওষুধ। এটি আমাদের শরীরের ব্লাড সুগার এর পরিমাণ কম রাখতে সাহায্য করে থাকে। এটি সেবনে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে।

আরো পড়ুন: পেয়ারার পাতার উপকারিতা

কালমেঘ পাতার ভেষজ গুণ:


ক্রিমি:

  1. কালমেঘের পাতার রস ৩০/৩৫ ফোটার
  2. সঙ্গে ,৩০/৩৫ ফোটা কাঁচা হলুদের রস
  3. একসঙ্গে মিশিয়ে অল্প চিনি দিয়ে সকালে ও বিকেলে খাওয়াতে হয়।
  4. ক্রিমি দূর হবে।

রক্ত আমাশয়:

  1. কালমেঘ পাতার রস ১৫ ফোটা
  2. তার সঙ্গে ১৫০ মিলিগ্রাম মেথিচূর্ণ মিশিয়ে
  3. সকালে ও বিকেলে ২ দিন খেলেই রক্ত আমাশয় সেরে যাই।

দূষিত জ্বরে:

  1. কালমেঘ পাতার রস ১৫/২০ ফোটা
  2. তার সঙ্গে অল্প জল মিশিয়ে
  3. সারাদিনে ২/৩ বার করে ৩ দিন খাওয়াতে হবে।
  4. তাহলে শরীরের দূষিত জ্বর জ্বালা অবশ্যই কমবে
  5. রোগী অবশ্যই সম্পূর্ণভাবে আরোগ্যের পথে যাবে।

পচা ক্ষতে:

শরীরের কোনো জায়গায় ঘা হয়ে পচতে থাকলে কালমেঘ পাতা সিদ্ধ করে সেই জল দিয়ে ক্ষতস্থান পরিষ্কার করতে হয়। সারাদিনে ২/৩ বার করা ভালো। পচা ক্ষত অবশ্যই দূর হবে।

আরো পড়ুন: পান পাতার উপকারিতা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *