কাঠে ঘুনপোকা উঁইপোকা বা টারমাইট দূর করার সহজ উপায়

সবারই জানা- ঘুন পোকা, উঁইপোকা বা টারমাইট এরা কাঠ ধ্বংসকারী পোকা।

ভবনের কাঠের কাজ, আসবাবপত্রে ধ্বংসকারী সাদা পিঁপড়াকে উঁই পোকা বা টারমাইন বলে। এই সকল কাঠ ধ্বংস কারী পোকা ড্রাই উড টারমাইট শ্রেণীর অন্তর্গত।

দুই ভাবে এসব কাঠ ধ্বংসকারী পোকা প্রতিরোধ করা যায়। যেমন- নির্মাণকাজের পূর্বের ব্যবস্থা ও নির্মাণকাজের পরের ব্যবস্থা।

নির্মাণ কাজের পূর্বের ব্যবস্থা কাঠ ধবংসকারী পোকা প্রতিরোধক হিসাবে বিভিন্ন প্রকার কীটনাশক পাউডার বাজারে কিনতে পাওয়া যায়। সাধারণত চার লিটার পানিতে নিম্নের যে কোনো একটি রাসায়নিক পদার্থ মিশ্রিত করে দ্রবণ তৈরি করে কাঠে ব্যবহার করা হয়। কাঠে কিটনাশক ব্যবহারের পর কাঠ শুকিয়ে নিয়ে নির্দিষ্ট কাজে ব্যবহার করা হয়।ক্যামিকেল ও পরিমাণ- DDT (৫%), BHC (০.৫%), Aldrin (০.২৫%), Heptachlor (০.২৫%), Chlordane (০.৫%)।

আরো পড়ুনঃ টবে ধনিয়া চাষ পদ্ধতি

নির্মাণ কাজের পরের ব্যবস্থা কাঠের যে স্থানে উঁইপোকা বা টারমাইট আক্রান্ত সে স্থানে কেরোসিন যুক্ত রাসায়নিক ইমালশন (বাজারে কিনতে পাওয়া যায়) এর প্রলেপ দিতে হবে। আর এতে করে টারমাইন বা উঁইপোকার আক্রমণ থেকে কাঠকে রক্ষা সম্ভব। কাঠে কেরোসিন তেলব্যবহার করলে দীর্ঘ দিন ঘুন থেকে মুক্ত থাকা যায়।

তাছাড়া রং অথবা আলকাতরা ব্যবহার করলে পোকা ও ঘুন আক্রমণ করতে পারে না।

আসবাব জাতীয় কাঠে পোকা যেন না লাগে তার জন্য তরল পদার্থ- তারফিন, বিষ, কেরোসিন কাঠের গায়ে লাগানো যেতে পারে। অন্যান্য কাজে ব্যবহৃত কাঠে আলকাতরা বা গাড় রঙ লাগালে অনেক দিন পর্যন্ত পোকা থেকে নিরাপদ থাকা সম্ভব।

আরো পড়ুনঃ চুল পড়া রোধ করে যে খাবার গুলি

কাঠের ভেতরে যদি একবার পোকা ঢুকে যায় তবে সে পোকা তাড়ানো বা মেরে ফেলা খুবই কঠিন। বিশেষ করে এক ধরণের কাঠ পোকা দেখতে সাদা, আর লম্বা ১ ইঞ্চি ।এই পোকাগুলো কাঠের ভেতরেই বাসা বাধে। এরা যখন কাঠ কাটে তখন শব্দ শোনা যায়। এই পোকা তাড়ানো সম্ভব না। এদেরকে মেরে ফেলতে হয়।তাই ইনজেকশনের সিরিঞ্জ দিয়ে বিষ প্রায়োগ করতে হবে যে ছিদ্র দিয়ে পোকা ঢুকে।

নিমপাতা প্রকৃতির এক আশ্চর্য দান। এই পাতায় আছে পোকামাকড় দূর করার অনন্য ক্ষমতা। ঘরের কোণায়, আলমারিতে, তোশকের নিচে শুকনো নিমপাতা দিয়ে রাখুন। ঘরে কোনো পোকামাকড়ই আসবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *