কাঁচা মরিচের উপকারিতা ও অপকারিতা

কাঁচা মরিচ, নাম শুনলেই আমরা খেতে চাইনা ঝালের ভয়ে।অথচ এই কাঁচা মরিচের রয়েছে অনেক পুষ্টিগুণ।আমাদের উচিত কাঁচা মরিচের উপকারিতা সম্পর্কে জানা।

চলুন জেনে নিই, কাঁচা মরিচের উপকারিতা ও অপকারিতা।

কাঁচা মরিচের উপকারিতা,কাঁচা লঙ্কা
কাঁচা মরিচ Photo by JD Sartain on Unsplash

কাঁচা মরিচের পুষ্টিগুণঃ

#কাঁচা মরিচে রয়েছে
১। ডায়াটারি ফাইবার
২।থিয়ামিন
৩। রাইবোফ্লবিন
৪।নিয়াসিন
৫।ফলেট
৬। আয়রন
৭।ম্যাঙ্গানিজ
৮।ফসফরাস

কাঁচা মরিচের উপকারিতাঃ

১।হজমের সমস্যায় খেতে পারেন কাঁচা মরিচ। খুব তেল-মসলার রান্নায় ঝালের পরিমাণ কমিয়ে দিন। হালকা ঝাল হজমে সাহায্য করে।

২।কাঁচা মরিচে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন এ থাকায় হাড়, দাঁত ও মিউকাস মেমব্রেনকে ভালো রাখতে সাহায্য করে।

৩।ভিটামিন সি’র পরিমাণও মরিচে বেশি থাকে। তাই ত্বক ও মুখে বলিরেখা পড়তে দেয় না।

৪।কাঁচা মরিচ অ্যান্টি-অক্সিড্যান্টসমৃদ্ধ, যা শরীরকে জ্বর, সর্দি-কাশি ইত্যাদি থেকে বাঁচায়।

৫।রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়ে কাঁচামরিচের হাত ধরে।

আরো পড়ুন: পেঁয়াজের উপকারিতা ও অপকারিতা

৬।কাঁচা মরিচ শরীরে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। মরিচের বীজ একাজে খুবই কার্যকর। তাই উচ্চরক্তচাপ ও কোলেস্টেরলে ভুগতে থাকা রোগীদের পাতে মরিচ রাখুন।

৭।কাঁচা মরিচে রয়েছে প্রচুর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, যা শরীরে জমে থাকা ক্ষতিকর টক্সিক উপাদানের সব বেরিয়ে যায়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ক্যান্সার সেল জন্ম নেয়ার আশঙ্কা প্রায় থাকে না বললেই চলে।

৮।নিয়মিত দু’টি করে কাঁচা মরিচ খেলে হার্টের কোনো ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে না।

৯।এতে থাকা বেশকিছু উপকারী উপাদান একদিকে যেমন রক্তে উপস্থিত খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রাকে কমিয়ে ফেলে, তেমনি ট্রাইগ্লিসারাইড যাতে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে না যায়, সেদিকেও খেয়াল রাখে।

১০।কোনোভাবেই যাতে ব্লাড ক্লট না হয়, তাও সুনিশ্চিত করে এই প্রাকৃতিক উপাদানটি। ফলে অ্যাথেরোস্ক্লেরোসিস ও হার্ট অ্যাটাকের আশঙ্কা যায় কমে।

১১।কাঁচা মরিচে রয়েছে ক্যাপসিসিন নামক একটি উপাদান, যা ঝাল স্বাদের জন্য দায়ী। এই ক্যাপসিসিন কিন্তু শরীরের নানাবিধ উপকারেও লাগে। যেমন- এই উপাদানটি শরীরে প্রবেশ করা মাত্র মিউকাস মেমব্রেনের মধ্যে রক্তের প্রবাহ বেড়ে যায়। ফলে সাইনাস ইনফেকশনের প্রকোপ কমতে সময় লাগে না।

আরো পড়ুন: গোল মরিচের উপকারিতা

১২।প্রতিদিন অন্তত দু’টি কাঁচা মরিচ খেলে কোনো রোগই কাছে ঘেঁষতে সাহস পাবে না। কারণ এতে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন সি, বিটা ক্যারোটিন ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। যা দেহের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে এতটাই শক্তিশালী করে তোলে যে কোনো রোগ-জীবাণুই শরীরের ক্ষতি করে উঠতে পারে না।

১৩।ভিটামিন সি ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট শুধু ইমিউনিটি বাড়ায় না, সেইসঙ্গে দৃষ্টিশক্তির উন্নতি ঘটাতে এবং ত্বককে সুন্দর করে তুলতেও সাহায্য করে।

১৪।মন খারাপ হলে দ্রুত একটি কাঁচা মরিচ খেয়ে ফেলুন। দেখবেন মন-মেজাজ একেবারে চাঙ্গা হয়ে উঠবে। এই প্রাকৃতিক উপাদানটি খাওয়া মাত্র এন্ডোরফিন হরমোনের ক্ষরণ বেড়ে যায়। ফলে স্ট্রেস লেভেল তো কমেই, সেই সঙ্গে মন আনন্দে ভরে ওঠে।

১৫।কাঁচা মরিচের বিভিন্ন উপকারী উপাদান রক্তে শর্করার মাত্রাকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ডায়াবেটিসের মতো রোগ ধারে কাছে ঘেঁষার সুযোগই পায় না।

কাচা মরিচের অপকারিতা:

কাঁচা মরিচে ক্ষতিকারক তেমন কোনো উপাদান নেই বললেই চলে.

কাঁচা মরিছে আছে ভিটামিন এ,সি ,পটাসিয়াম এবং কিছুটা আয়রন। একটা প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের জন্য দৈনিক ৪,৭০০ মিলিগ্রামস পটাসিয়াম দরকার হয় যার ২৫৫ মিলিগ্রাম যোগান দেয় হাফ কাপ কাঁচা মরিচ থেকে।

আরো পড়ুন: দারুচিনির উপকারিতা ও অপকারিতা

এছাড়াও রয়েছে-১৮১.৯ মিলিগ্রামস ভিটামিন সি(১//২ কাপ)। আরো ১/২ কাপ কাঁচা মরিচ থেকে আমাদের দেহে যোগান দিচ্ছে ১.৫ গ্রামস প্রোটিন,০.১৫ গ্রামস ফ্যাট,৭.১ গ্রামস কার্বহাইদ্রেট এবং ১.১ গ্রামস ফাইবার।

তারপর যেমন ভিটামিন এ-যা আমাদের চুল ,শরীরের চামড়া এবং চোখে জন্য অনেক বেশী উপকার। এছাড়াও আরো অনেক উপকারিতা আছে। সুতরাং কাঁচা মরিচ খেলে আশা করি ক্ষতি হবে না।

তবে যদি পেট ব্যথা এবং গ্যাস্ট্রিক থাকলে কম খাওয়া ভালো। কারণ অতিরিক্ত ঝাল কিন্তূ surface এ কিছুটা আলসার এর প্রবণতা দেখা দিতে পারে।

আশা করি,কাঁচা মরিচের উপকারিতা সম্পর্কে জেনে উপকৃত হবেন।এবং খাওয়ার চেষ্টা করবেন।

Photo by roy zeigerman on Unsplash

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *