কাঁচা পেঁপের যত উপকারিতা – জানা জরুরি

কাঁচা পেঁপের যত উপকারিতা: বাংলাদেশের সর্বত্র পাওয়া যায় পেঁপে। কাঁচা পেঁপে একটি বারোমাসি ফল। পেঁপে এমন একটি ফল যা কাঁচা-পাকা দুই ভাবেই খাওয়া যায়। এর রয়েছে অনেক স্বাস্থ্য উপকারিতা। নানা রোগের মহৌষুধ হিসেবে কাজ করে এই ফল।

আসুন জেনে নেওয়া যাক কাঁচা পেঁপের যত উপকারিতা ও গুণাগুণ সম্পর্কে:-

কাঁচা পেঁপের গুণাগুণ:

১০০ গ্রাম কাঁচা পেঁপেতে রযেছে

শর্করা  ৭.২ গ্রাম

ক্যালোরি  ৩২ কিলো

ভিটামিন সি ৫৭ মিলিগ্রাম

সোডিয়াম ৬.০ মিলিগ্রাম

পটাশিয়াম ৬৯ মিলিগ্রাম

খনিজ ০.৫ মিলিগ্রাম

ফ্যাট বা চর্বি  ০.১ মিলিগ্রাম

কাঁচা পেঁপের যত উপকারিতা:

 রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়:

পেঁপেতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ, সি ও ই আছে। এই ভিটামিন গুলো রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং শরীরের বিভিন্ন সমস্যা দূর করে।
 

হজম ক্ষমতা বাড়ায়:

পেঁপেতে প্রচুর পরিমাণে এনজাইম আছে যা খাবার হজমে সহায়তা করে থাকে।  যারা হজমের সমস্যায় ভুগে থাকেন তাঁরা নিয়মিত পথ্য হিসেবে পাকা বা কাঁচা পেঁপে খেতে পারেন।

দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধিতে পেঁপে:

পেঁপেতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ আছে যা চোখের দৃষ্টিশক্তি বাড়ায় এবং চোখের নানা সমস্যা দূর করে ।

ডায়াবেটিসের জন্য পেঁপে:

রক্তে অনিয়মিত শর্করার মাত্রা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য মারাত্মক হতে পারে ।তবে পেঁপের মিস্টতায় রয়েছে লো-সুগার কন্টেন্ট যা ডায়াবেটিস রোগীরা নির্দিধায় খেতে পারেন ।

 কোলেস্টেরল কমায়:

অন্যান্য ফলের মতই পেঁপেতে কোনো কোলেস্টেরল নেই। আর পেঁপেতে আছে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার। তাই কোলেস্টেরলের সমস্যায় যারা দুশ্চিন্তায় আছেন তাঁরা প্রতিদিনের খাবার তালিকায় পেঁপে রাখুন। অন্যান্য কোলেস্টেরল যুক্ত খাবারের বদলে পেঁপে খান। তাহলে আপনার কোলেস্টেরলের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ক্যারোটিনের উৎস:

পেঁপেতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, বিটা ক্যারোটিন, ফ্লেভানয়েড, লুটেইন, ক্রিপ্টোক্সান্থিন আছে। এছাড়াও আরো অনেক পুষ্টি উপাদান আছে যেগুলো শরীরের জন্য খুবই উপকারী। ক্যারোটিন ফুসফুস ও অন্যান্য ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরকে বয়সের ক্ষতির থেকে রক্ষা করে।

আরো পড়ুনঃ মটরশুঁটির উপকারিতা ও পুষ্টিগুণ
 

ভিটামিন বি এর অভাব পূরন করে:

পেঁপেতে আছে ভিটামিন বি-১ ও ভিটামিন বি-৬, এছাড়াও প্রচুর পরিমাণে ফলেট নামের একটি জরুরী ভিটামিন আছে। তাই ভিটামিন বি এর অভাব পূরণ করার জন্য নিয়মিত পেঁপে খাওয়া উচিত।

ত্বকের সমস্যা দূর করে:

বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এটি ফেসপ্যাক হিসেবে ব্যবহার করা যায়। কাঁচা পেঁপে ত্বকের মরা কোষগুলোকে পুনজ্জ্বীবিত করে তুলতে সাহায্য করে।

অতিরিক্ত ক্যালরি ও চর্বি কমিয়ে দেয়:

পেঁপেতে আছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি, ই ও এ। এগুলো ১০০ গ্রামে মাত্র ৩৯ ক্যালোরি দেয়। এছাড়া এতে বিদ্যমান এন্টি-অক্সিডেন্ট অতিরিক্ত ক্যালরি ও চর্বির পরিমাণ কমিয়ে দেয়।

ব্যথা সারিয়ে দেয়:

পেঁপের পুষ্টিগুণ মেয়েদের জন্য সবচেয়ে বেশি দরকারী। কারণ এটি মহিলাদের যে কোনো ধরনের ব্যথা কমাতে কার্যকারী ভূমিকা রাখে। পেঁপের পাতা, তেঁতুল ও লবণ একসাথে মিশিয়ে পানি দিয়ে খেলে ব্যথা একেবারে ভালো হয়ে যায়।

হৃদরোগের সমস্যা থেকে মুক্তি দেয়:

এটি ব্লাড প্রেসার ঠিক রাখার পাশাপাশি রক্তের প্রবাহকে নিয়ন্ত্রণ করে। এমনকি শরীরের ভেতরের ক্ষতিকর সোডিয়াম নিরাময়ে সহায্য করে। ফলে হৃদরোগের সমস্যা থেকে সহজেই মুক্তি পাওয়া যায়। একারণেই হৃদরোগীদের সবসময় পেঁপে খেতে বলা হয়।

আরও পড়ুন! জেনে নিন বাদাম খাওয়ার সঠিক নিয়ম!

পেঁপে খাওয়া নিয়ে কিছু ভুল ধারণা

আমরা কি পেঁপে বীজ খেতে পারি?

হ্যাঁ, অবশ্যই । পেঁপের বীজ লিভার সিরাসোসিস নিরাময় করতে সাহায্য করে ।এটি আয়ুরবের্দিক ঔষধি হিসেবে খাদ্যে বিষাক্ততা নিরাময় ও জন্ম নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্যবহৃত হয় ।

পেঁপে কি রাতে খাওয়া উচিত?

হ্যাঁ, পাঁকা পেঁপে রাতেও খাওয়া যাবে ।

দুধ খাওয়ার পর কি পেঁপে খাওয়া যাবে?

হ্যাঁ, খাওয়া যাবে । তাছাড়া পাঁকা পেঁপে ও দুধের মিশ্রনে মিল্কশেক বানিয়েও খাওয়া যাবে ।এটি স্বাস্থের জন্য ভালো ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *