কলার উপকারিতা ও অপকারিতা – পাকা কলার উপকারিতা

আমরা অনেক সময়ই কলা (কলার উপকারিতা ও অপকারিতা) দেখলে নাক কুঁচকে ফেলি, কিন্তু প্রতিদিন অন্তত একটি করে কলা খাওয়ার কী কী উপকারিতা আছে তা জানা থাকলে নাক কুঁচকে হলেও অনেক স্বাস্থ্য-সচেতন মানুষ কলা খাবেন, তা হলপ করে বলা যায়। আসুন জেনে নেয়া যাক কলার এমন দশটা উপকারিতার কথা।

কলার উপকারিতা ও অপকারিতা – পাকা কলার উপকারিতা:

কলার উপকারিতা:

হৃদযন্ত্র ভালো রাখে:

প্রতিদিন একটি বা দুটি কলা খেলে আপনার হৃদযন্ত্র অনেক বেশি সচল থাকবে এবং হার্ট এ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমবে।

কিডনি সুস্থ রাখে:

কলার পটাশিয়াম এমনকি কিডনিও ভালো রাখে। ইউরিনে ক্যালসিয়াম জমা হতে বাধা দেয় বলে কিডনিতে পাথর হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়। এর ফলে হাঁড় মজবুত হওয়ার জন্যও আরও বেশি ক্যালসিয়াম বরাদ্দ থাকে।

শরীরে শক্তি যোগায়:

কলাতে আছে প্রচুর পরিমাণে প্রাকৃতিক শর্করা এবং সল্যুবল ফাইবার, যা ধীরে হলেও দৃঢ় শক্তির যোগান দেয় শরীরে। এ কারণে খেলোয়াড়দের  প্রায়ই খেলার আগে বা খেলা চলাকালীন সময়ে কলা খেতে দেখা যায়।

 

খাদ্য হজমে সহায়তা করে:

আরো পড়ুন: বেগুনের উপকারিতা

কলার ফাইবার এবং প্রোবায়োটিক অলিগোস্যাকারাইজড হজমে দারুণ সহায়ক। এর ফলে আপনার শরীর আরও বেশি পরিমাণে পুষ্টি সঞ্চয় করতে পারে। কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়। কোষ্ঠকাঠিন্যের জন্য ল্যাক্সেটিভ না নিয়ে অতিরিক্ত পাকা কলা খেয়েই দেখুন না!

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়:

কলায় আছে প্রচুর পরিমাণে বিটামিন বি৬, যা শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় অ্যামিনো এ্যাসিড সৃষ্টি করে, রক্তে শর্করার পরিমাণ ঠিক রাখে এবং হিমোগ্লোবিন বৃদ্ধি করে। অর্থাৎ, শরীরে উৎকৃষ্ট রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সৃষ্টির জন্য কলার জুড়ি মেলা ভার।

পাকস্থলির আলসার এবং বুক-জ্বালা রোধ করে:

পাকস্থলির আলসারে ভুগছেন? কিংবা বুক-জ্বালা থেকে রেহাই পাচ্ছেন না? নিয়মিত কলা খান। কলা প্রোটেক্টিভ মিউকাস লেয়ার বৃদ্ধির মাধ্যমে পাকস্থলিতে পিএইচ লেভেল ঠিক রাখে, যা আপনাকে বুক-জ্বালা এবং পাকস্থলির আলসার থেকে রক্ষা করবে।

ক্যন্সারের ঝুঁকি কমায় (কলার উপকারিতা ও অপকারিতা):

সাম্প্রতিক কিছু গবেষনায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত পাকা কলা শরীরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ TNF-A  নামক এক ধরণের যৌগ সরবরাহ করে, যা শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি শ্বেত রক্ত কণিকার পরিমাণ বাড়ায়। এতে করে ব্লাড ক্যান্সারের ঝুঁকি অনেক কমে যায়।

মানসিক চাপ কমায় ও সুনিদ্রায় সহায়তা করে:

কলায় আছে ট্রিপটোফ্যান নামক অ্যামিনো এসিড, যা সেরোটোনিনে পরিবর্তিত হয়। সেরোটোনিনের সঠিক মাত্রা আপনার মুড ঠিক রাখবে এবং মানসিক চাপ কমাবে। এতে করে আপনার ভালো ঘুম হবে।

ত্বক সজীব করে:

কলার খোসার কিছু পরিমাণে ফ্যাটি উপাদান আছে, যা ত্বকে ঘষলে ময়েশ্চারাইজারের মতো উপকার পেতে পারেন। ব্রণ দূর করার জন্যও কলার খোসা ব্যবহার করা হয়।

শরীরে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট বৃদ্ধি করে:

কলা ডোপামিন, ক্যাটেচিন্স এর মতো কিছু গুরুত্বপূর্ণ অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এর দারুণ উৎস। এগুলো শরীরকে সার্বিক ক্ষতির হাত থেকে রক্ষার কাজ করে।

কলার অপকারিতা:

ওজন বৃদ্ধি:

মাঝারি মাপের একটি পাকা কলায় ১০৫ ক্যালোরি শক্তি থাকে। তাই বেশি কলা খেলে ওজন বৃদ্ধির সম্ভাবনা প্রবল।

মাইগ্রেন:

কলায় টাইরামাইন নামে এক ধরনের উপাদান থাকে কলায় যা মাইগ্রেনের কারণ।

হাইপারক্যালেমিয়া: 

রক্তে পটাশিয়ামের মাত্রা বেড়ে গেলে এই রোগ হয়। কলায় পটাশিয়াম থাকায় বেশি খেলে এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

দাঁতের ক্ষয়:

প্রচুর পরিমাণে শর্করা থাকায় বেশি কলা খেলে দাঁতের ক্ষতি হয়। এমনকী দাঁতের স্বাস্থ্যের জন্য কলা নাকি চকোলেটের থেকেও বেশি ক্ষতিকর।

ক্লান্তি: 

পাকা কলাতে ট্রিপটোফ্যান আমাইনো অ্যাসিড থাকে। অ্যামাইনো অ্যাসিডের প্রভাবে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা হ্রাস পায়।

নার্ভ:

ভিটামিন বি৬ বেশি খাওয়ার প্রভাবে স্নায়ুতন্ত্রের ক্ষতি হয়ে থাকে। তাই খুব বেশি কলা খাওয়া উচিত নয়।

অ্যালার্জি:

কলা অনেক সময়ই অ্যালার্জির কারণ হয়ে থাকে। ঠোঁট ফুলে যায়, গলা জ্বালা করে।

শ্বাস নিতে সমস্যা:

যাঁদের শ্বাসযন্ত্রের সমস্যা আছে বেশি মাত্রায় কলা খেলে তা বেড়ে যেতে পারে।

পেট ব্যথা:

বেশির ভাগই রাসায়নিকের সাহায্যে পাকানো হয়ে থাকে। কলায় শর্করার পরিমাণ খুব বেশি। এসবের জন্য পেট ব্যথা হতে পারে।

কোষ্ঠকাঠিন্য:

কলা বৃহদন্ত্রের চলনে সাহায্য করে থাকে। কিন্তু বেশি পরিমাণ কলা খেলে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দেখা যেতে পারে।

গ্যাস:

কলাতে থাকা ফ্রুক্টোজ এবং ফাইবার এক সঙ্গে গ্যাস সৃষ্টি করতে পারে।

ডায়াবেটিস:

সুগারের পরিমাণ বেশি থাকায় অত্যধিক মাত্রায় কলা খেলে ডায়াবেটিসের সম্ভাবনা থাকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *