করলার উপকারিতা ও অপকারিতা

করলার উপকারিতা ও অপকারিতা: করলা  ভর্তা, ভাজি আর তরকারিতে করলার কদর অনেক। মানবস্বাস্থ্যের জন্য এই সবজির উপকারী গুণও কম নয়। তাই খাদ্যতালিকায় নিয়মিত করলা রাখুন। পুষ্টিবিদদের মতে করলার পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা অনেক।

করলার পুষ্টিগুন:

১০০ গ্রাম করলায় ১.৫-২.০ ভাগ আমিষ, ২০-২৩ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম, ১.৮-২.০ মিলিগ্রাম লৌহ এবং ৮৮.৯৬ মিলিগ্রাম খাদ্যপ্রাণ সি আছে।

করলার উপকারিতা:

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ:

করলা ইনসুলিন রেজিস্টেন্স কমিয়ে রক্ত থেকে শরীরের কোষগুলোর সুগার গ্রহণ করার ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়। ডায়াবেটিসের রোগীরা রক্তে চিনির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত করলা খেতে পারেন।

রক্তকে বিশুদ্ধ:

করলা রক্তের দূষিত উপাদান দূর করে রক্তকে বিশুদ্ধ করে। তাই নিয়মিত করলা খেলে রক্তের দূষিত উপাদান দূর হয়ে যায় এবং এলার্জি জনিত সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

আরো পড়ুন: ফুলকপির উপকারিতা ও অপকারিতা

চোখের সমস্যা:

করলায় আছে প্রচুর পরিমানে বিটা ক্যারোটিন বা ভিটামিন এ। দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে বিটা ক্যারোটিন খুবই উপকারী। তাই যাদের চোখের সমস্যা আছে তাঁরা নিয়মিত করলা খেলে চোখ ভালো থাকবে।

কৃমিনাশক:

করলাতে থাকা এন্হেলমিন্টক কম্পাউন্ডস কৃমিনাশক হিসেবে কাজ করে। এজন্য খালি পেটে করলার জুস পান করা উত্তম।

তারুণ্য ধরে রাখে করলা:

নিয়মিত করলা খেলে ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায়। করলার ভিটামিন সি ত্বক ও চুল ভালো রাখে। এটি শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের করে দেয় এবং রক্ত পরিষ্কার করে।

করলার সবচেয়ে বড় গুণ এটি বার্ধক্য ঠেকিয়ে রাখতে সাহায্য করে। তাই করলা খেয়ে ধরে রাখুন তারুণ্য।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়:

যে কোনো ধরনের সংক্রমণের বিরুদ্ধে শরীরকে লড়তে সাহায্য করে করলা। নিয়মিত করলা খেলে সর্দি,কাশি, মৌসুমী জ্বর ও অন্যান্য ছোটখাটো সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

ক্যানসার প্রতিরোধী:

করলায় রয়েছে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা সৃষ্টিকারী লুটিন এবং ক্যানসার প্রতিরোধকারী লাইকোপিন। গবেষকদের মতে করলা ক্যান্সাররোধী হিসাবে কাজ করে, যেমন করলা লিভার ক্যান্সার, লিউকেমিয়া, মেলানোমা ইত্যাদি প্রতিরোধ করে থাকে।

আরো পড়ুন: বেগুনের উপকারিতা

হার্ট অ্যাটাক রোধ করে:

করলা রক্তের ট্রাইগ্লিসারাইড কমায় এবং ভালো কোলেস্টেরল এইচডিএল বাড়ায় ।

এর ফলে রক্তনালিতে চর্বি জমতে পারেনা এবং হার্ট অ্যাটাকের প্রবণতা কমে যায়।

হজমে সাহায্য করে:

করলার বড় গুণ হচ্ছে এটি হজমের জন্য উপকারী। কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে এর ভূমিকা আছে।

ওজন কমাতে সাহায্য করে:

করলা ফাইটোনিউট্রিয়েন্টস ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এর বড় উৎস, যা দেহের অতিরিক্ত ওজন কমাতে সক্ষম।

করলার অপকারিতা:

একদিনে অতিরিক্ত(২ টার বেশি) পরিমানে করলা না খাওয়াই ভাল। তলপেটে সামান্য ব্যথা হতে পারে।

গর্ভবতী মহিলারা ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে করলার রস খাবেন।

সচরাচর জিজ্ঞাস্য প্রশ্ন উত্তর:


Q. উচ্ছে আর করলা এর মধ্যে প্রধান পার্থক্য কি?

A. প্রধান পার্থক্য size বা আকার।

Q. করলার স্বাদ তিতা কেন?

A. করলা ফল জাতীয় সবজি । পাকলেও তিতা। কারণ এটা Momordician গ্রুপের ফল

আরো পড়ুন: গাজরের উপকারিতা

এই ছিলো করলার উপকারিতা ও অপকারিতা ভালো লাগলে ,অবশ্যই লাইক কমেন্ট শেয়ার করবেন।

Photo Credit: Pixabay

সূত্র : অনলাইন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *