কপিরাইট কাকে বলে?

কপিরাইট কাকে বলে?

পৃথিবীর দেশে দেশে সৃজনশীল সৃষ্টিকর্মের কপি বা পুনরুৎপাদনের, অবৈধ ব্যবহার ইত্যাদি বন্ধনের জন্য যে আইনের বিধান রাখা হয় তাকে কপিরাইট (Copyright) আইন বা সংক্ষেপে কপিরাইট বলে।

কপিরাইট আইন কি?

#কপিরাইট (Copyright) একটি ইংরেজী শব্দ। কপিরাইট শব্দের বাংলা প্রতিশব্দ গ্রন্থস্বত্ব বা লেখস্বত্ব। একজন লেখকের রচিত পুস্তক বা গ্রন্থের ওপর তার মুদ্রণ, পুন:মুদ্রণ ও প্রকাশের অধিকারকেই বলা হয় কপিরাইট।

কপিরাইট আইন একটি একচেটিয়া, বৈধ ও নিশ্চিত অধিকার, যা একজনের বুদ্ধিবৃত্তিক বা মস্তিস্কজাত সৃষ্টিকে নকল বা পাইরেসি (Piracy) বা অন্যায় অনুসরণ হতে অন্য কাউকে বিরত রাখে।

আরো পড়ুন: নবম শ্রেণীর সকল অ্যাসাইনমেন্ট 

কপিরাইটের মাধ্যমে সাহিত্য, শিল্পকর্ম ও অন্যান্য শিল্পকলা সৃষ্টিকারীকে তার সৃষ্ট মেধাসম্পদ ব্যবহারের একচ্ছত্র অধিকার প্রদান করা হয়।

গল্প, নাটক, প্রবন্ধ, কবিতা, জাতীয় সাহিত্যকর্ম, চিত্রকর্ম, চলচ্চিত্র, সঙ্গীত, ভাস্কর্য, স্থাপত্যকলা, কপিরাইট দ্বারা সংরক্ষিত হয়। কম্পিউটার সফটওয়্যারও কপিরাইট দ্বারা সংরক্ষিত হয়।

কপিরাইট আইনের কারণেই কোন নির্মাতা, শিল্পী, প্রােগ্রামার কিংবা লেখক তাদের মেধার সঠিক মূল্যায়ন পেয়ে থাকেন। আর কপিরাইট আইনের কার্যকারিতা সৃজনশীল কর্মীদের নিরুৎসাহিত হওয়া থেকে রক্ষা করে।

#কপিরাইট আইন কেন প্রয়ােজন?

কপিরাইট আইন কোন সৃজনশীল কাজের ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত তার সৃষ্টকর্মের ওপর মালিকানা বা স্বত্বাধিকার দেয়।

ফলে, কোনাে সৃষ্টকর্মের বাণিজ্যিক মূল্য থাকলে সেটি যে তৈরি করে সে পান, অন্য কেউ পায় না। যেহেতু প্রত্যেক মানুষের বেঁচে থাকার জন্য টাকার প্রয়ােজন, সেহেতু কবি, সাহিত্যিক, চলচ্চিত্র নির্মাতা, সফটওয়্যার নির্মাতা, ওয়েবসাইট ডিজাইনকারী সবারই অর্থের প্রয়ােজন।

তারা তাদের সৃজনশীল কাজ সৃষ্টির জন্য পরিশ্রম, মেধা এবং কখনাে কখনাে টাকা খরচ করেন। কাজেই, সৃষ্টকর্ম বিক্রি বা বিনিময়ের মাধ্যমে তাঁকে তার বিনিয়ােগের সুফল তুলতে দেওয়া উচিত বলে মনে করেন অনেকেই।

কপিরাইট আইনের আওতায় পাওয়া আইনগত অধিকার তাদের সেই সুবিধাই দেয়। যদি কোনাে শিল্পী বা প্রােগ্রামার দেখতে পান যে, তার দীর্ঘদিনের শ্রম ও মেধার ফসল অন্যরা কোনােরূপ স্বীকৃতি বা বিনিময় মূল্য (প্রযােজ্য ক্ষেত্রে) ছাড়া উপভােগ বা ব্যবহার করছে তাহলে তিনি নিরুৎসাহিত হয়ে পড়েন।

কপিরাইট আইনের কার্যকারিতা সৃজনশীল কর্মীদের এই নিরুৎসাহিত হওয়া থেকে রক্ষা করে।

আরো পড়ুন: 

ঢাকা ও টোকিওর স্থানীয় সময়ের ব্যবধান ৩ ঘন্টা ১৭ মিনিট ১৬ সেকেন্ড। টোকিওর দ্রাঘিমা ১৩৯° ৪৫ পূর্ব হলে ঢাকার দ্রাঘিমা কত?

কৈ মাছের জন্য দ্রবীভূত অক্সিজেন প্রয়োজন কেন ব্যাখা কর?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *