এলোভেরা জেল এর উপকারিতা – Jana Joruri

এলোভেরা জেল এর উপকারিতা: অ্যালোভেরা বা ঘৃতকুমারী অতি পরিচিত একটি উদ্ভিদ। হাজার হাজার বছর ধরে বিভিন্ন কাজে অ্যালোভেরা গাছের ব্যবহার হয়ে আসছে। বহু রোগের সমাধান করে থাকে ছোট এই একটি পাতা। অ্যালোভেরার পাতার ভিতরে থাকা জেলটি ব্রণ দূর করা থেকে শুরু করে আগুণে পুড়ে যাওয়া ত্বক সারাতে সাহায্য করে থাকে। এমনকি অনেক ঔষুধ তৈরি করতেও ব্যবহৃত হয়ে থাকে অ্যালোভেরা জেল।

সুস্বাস্থ্যের জন্য এলোভেরা ( ঘৃতকুমারী) জেল এর উপকারিতা 

হজম প্রক্রিয়া

হজম শক্তি বৃদ্ধিতে অ্যালোভেরার তুলনা হয় না। এর অ্যান্টি-ইনফ্লামেটরি উপাদান পাকস্থলী ঠাণ্ডা রাখে এবং গ্যাসের সমস্যা দূর করে। প্রতিদিন সকালে খালি পেটে এক গ্লাস জল বা গুড়ের শরবতের সঙ্গে অ্যালোভেরা জেল মিশিয়ে খেলে উপকার পাওয়া যাবে।

ডায়াবেটিস

যারা ডায়াবেটিসের সমস্যায় ভুগছেন তারা নিয়মিত অ্যালোভেরা রস খেলে রক্তের গ্লুকোজের পরিমাণ কমিয়ে আনতে এবং ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবেন।

চুলের যত্নে

চুলের শুষ্ক ভাব এবং ত্বকে চুলকানি দূর করার জন্য অ্যালোভেরা জেল ব্যবহার করতে পারবেন। এর অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যান্টিফাঙ্গাল উপাদান চুল পড়া ও খুশকির সমস্যা দূর করতে সাহায্য করবে। তাই অ্যালোভেরা রসের সঙ্গে আমলকীর রস মিশিয়ে চুলে লাগালে এতে চুলের উজ্জ্বলতাও বেড়ে যাবে।

ত্বকের যত্নে

বহু বছর ধরে ত্বকের যত্নে অ্যালোভেরা জেল ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ত্বকে র‌্যাশ,  চুলকানি, রোদে পড়া দাগ দূর করতে অ্যালোভেরার তুলনা হয় না। যেকোনো উপটান বা প্যাক অথবা সরাসরি এই জেল লাগালে ত্বক উজ্জ্বল ও মসৃণ থাকে এবং বয়সের ছাপ মুছে যায়। 

ওজন কমাতে

ওজন কমাতে অ্যালোভেরার জুস অনেক বেশ কার্যকরী। অ্যালোভেরা জুসের অ্যান্টি-ইনফ্লামেটরি উপাদান শরীরের জমে থাকা মেদ দূর করে এবং কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই ওজন কমাতে সাহায্য করে। 

হার্ট ও দাঁতের যত্নে

অ্যালোভেরার জুস কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে রাখে। এটি দূষিত রক্ত দেহ থেকে বের করে দেয় এবং হৃদযন্ত্রকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে থাকে। এছাড়াও অ্যালোভেরা জুস দাঁত এবং মাড়ির ব্যথা ও ইনফেকশন নিবারণে সহায়তা করে।

মুখের ঘা প্রতিরোধে

মুখের ঘা এবং দাঁতের পোকা রোধ করতেও অ্যালোভেরা জেল কার্যকরী। মুখের ঘায়ের স্থানে অ্যালোভেরা জেল লাগিয়ে নিতে পারেন, এটি ঘা ভাল করতে সাহায্য করে।

 ক্যান্সার প্রতিরোধে

নতুন গবেষণা অনুসারে অ্যালো- ইমোডিন নামক উপাদান অ্যালোভেরা জেলে রয়েছে যা স্তন ক্যান্সার ছড়ানো রোধ করে থাকে। অন্যান্য ক্যান্সার প্রতিরোধেও অ্যালোভেরা জেল বেশ কার্যকরী।

 ক্ষতিকারক পদার্থ অপসারণ করতে

দেহে ক্ষতিকর পদার্থ প্রবেশ করলে তা অপসারণ করতে সাহায্য করে অ্যালোভেরা।

 চর্মরোগ ও ক্ষত সারায় 

অ্যালোভেরা প্রাকৃতিক ঔষধির কাজ করে। বিভিন্ন চর্মরোগ ও ক্ষত সারায় এটি। অনেক সময় প্রাথমিক চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয় এটি।

ক্লান্তি দূর করতে

অ্যালোভেরার জুস ক্লান্তি দূর করে দেহকে সতেজ করে।

কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা দূর করতে

সুষম খাদ্যের পাশাপাশি নিয়মিত অ্যালোভেরার রস পান করলে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়।

এছাড়া অ্যালোভেরা জেলে প্রায় ২০ রকম অ্যামিনো অ্যাসিড আছে যা ইনফ্লামেশন এবং ব্যাকটেরিয়া রোধ করে হজম, বুক জ্বালাপোড়া রোধ করে থাকে।

ত্বকের যত্নে এলোভেরা জেল এর উপকারিতা

ঠোঁট নরম রাখে

এলোভেরার পাতায় ভরপুর পরিমানে ভিটামিন এ থাকে যা শুস্ক ফাটা ঠোঁটের জন্য কোনো আশীর্বাদের চেয়ে কম নয়. নরম ঠোঁট পেতে গেলে একটা ছোট্ট কাজ করতে হবে – ঠোঁটে এলোভেরা জেল লাগিয়ে ভুলে যান. আর যদি আপনার হাতে কিছুটা সময় থাকে, তাহলে একটা কাঁচের ছোট শিশিতে এলোভেরা জেলের  সাথে অলিভ অয়েল মিশিয়ে রাখতে পারেন, আর মাঝেমাঝেই লিপবাম হিসিবে সেটা ব্যবহার করতে পারেন.

 সুন্দর চোখের জন্য 

সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর যদি আপনার চোখ ক্লান্ত আর ফোলাফোলা থাকে, চোখের চারপাশে এলোভেরা জেল লাগানো আরম্ভ করুন, দেখবেন কিছুদিনের মধ্যেই তফাৎটা চোখে পড়বে. অনেক আন্ডার-আই ক্রিমেও এলোভেরা জেল  ব্যবহার করা হয়.

ওয়াক্সিং-এর ব্যাথা আর নয়

অনেক সময় ওয়াক্সিং, প্লাকিং বা থ্রেডিং করার পর ব্যাথা থাকে র ত্বকের নানা জায়গায় লাল লাল ছোপ পরে. কিছুক্ষন এলোভেরা জেল লাগান, দেখবেন আরাম পাবেন.

এন্টি-এজিং

এলোভেরা  ত্বকের ইলাস্টিসিটি ঠিক রাখতে সাহায্য করে যার ফলে ফাইনলাইন, বলিরেখা, দাগ ইত্যাদির সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়. এলোভেরা জেলে সামান্য অলিভ অয়েল আর ওটমিল মিশিয়ে একটা পেস্ট তৈরী করুন, এবার ওই পেস্ট মুখে লাগিয়ে আধঘন্টা পর ঠান্ডা জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন.

ময়েশ্চারাইজার 

এলোভেরাতে জলের আধিক্য থাকায় এটি ত্বকের আদ্রতা বজায় রাখতে খুবই লাভদায়ক, এবং সেটাও ত্বককে চিটচিটে না করে – আশ্চর্য ব্যাপার না? যাদের ত্বক তেলতেলে আর ব্রোনোর সমস্যা আছে, তাদের জন্য এলোভেরা জেল অত্যন্ত কার্যকরী. শীতকালে শুস্ক ত্বকের সমস্যা মোটামুটি সবার হয়, এই সময় এলোভেরার ব্যবহার এই সমস্যা দূর করার জন্য অব্যর্থ ওষুধ. এলভ্যেরা জেল নিয়ে ত্বকে ময়েশ্চারাইজারের মতো ম্যাসাজ করুন, দেখবেন ত্বকের আদ্রতা হারিয়ে যাবে না. নখ মজবুত আর চকচকে করার জন্য আপনি নিজের নখেও এলোভেরা জেল  লাগাতে পারেন.

দাগ-ছোপ আর ব্রণ দূর করুন

রোজ রাতে শোবার আগে ব্রোনোর ওপরে এলোভেরা জেল লাগিয়ে ঘুমোন, আপনি চাইলে এলোভেরা জেলের সাথে কয়েক ফোটা লেবুর রসও মিশিয়ে লাগাতে পারেন. কিছুদিনের মধ্যেই তফাৎ চোখে পড়বে.

 আঁচিল দূর করুন 

ছোট তুলোর বল বানিয়ে তা কিছুক্ষন এলোভেরা জেলে ডুবিয়ে রাখুন যাতে ভালো ভাবে তুলো এলোভেরা (Aloe Vera) গেল শুষে নেয়. এরপর ওই তুলোর বল কোনো টেপের সাহায্যে আঁচিলের ওপর লাগিয়ে নিন. নিয়মিতভাবে এটা কয়েক সপ্তাহ করলে আঁচিল আপনিই পড়ে যাবে.

স্ক্রাব হিসেবেও ব্যবহার করতে পারেন 

এলোভেরা জেলে একটু চিনি আর লেবুর রস মিশিয়ে স্ক্র্যাব তৈরী করুন. এই স্ক্র্যাব ব্যবহারে ডেডসেল দূর হয় আর তার সাথে সাথে ত্বকের জলীয় উপাদানও বজায় থাকে, ফলে আপনি পান নরম, কমনীয় আর পরিষ্কার ত্বক.

এ ছাড়া এলোভেরার (Aloe Vera Gel) রসে অল্প নারকোল তেল মিশিয়ে কনুই, হাঁটু বা গোড়ালিতে লাগালে কালোভাব দূর হয়.

অ্যালোভেরা জেল  এর ফেসপ্যাক

অ্যালোভেরা ও নিমপাতা

ত্বকের প্রদাহ ও  স্কিনের শুষ্কতা দূর করতে এই ফেইস মাস্কটি ব্যবহার করতে পারেন ।

অ্যালোভেরা ও নিম পাতা– এই ২টি উপাদান মিলিয়ে বানিয়ে ফেলুন একটি পেস্ট।

তরপর সেটি মুখে লাগিয়ে নিন।

প্রসঙ্গত, ভালো করে মুখটা ধুয়ে নিয়ে ফেইস মাস্কটি লাগাবেন। নচেৎ ভাল ফল পাবেন না।

শসা ও অ্যালোভেরার উপকারিতা

যাদের ত্বক খুব স্পর্শকাতর, তারা এই ফেইস মাস্কটি ব্যবহার করতে পারেন।

অ্যালোভেরা  জেলের সঙ্গে কয়েক ফোঁটা শসার রস মিশান।

তারপর মুখে লাগিয়ে ১৫ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন।

প্রসঙ্গত, তৈলাক্ত ত্বক, ময়লা এবং ত্বকে জমতে থাকা নানা ক্ষতিকর উপাদানকে পরিষ্কার করে ফেলতে এই ফেইস মাস্কটি দারুণ কাজে দেয়।

লেবু ও অ্যালোভেরার উপকারিতা

আপনার কি ড্রাই স্কিন? তাহেল এই ফেইস মাস্কটি আপনার জন্য একেবারে পারফেক্ট!

কিভাবে বানাতে হবে এই ফেইস মাস্কটি?

পরিমাণমতো অ্যালোভেরা জেল নিয়ে তাতে এক ড্রপ লেবুর রস দিয়ে ভালো করে দুটি উপাদান মেশান।

তারপর তা মুখে লাগিয়ে কম করে হলেও ২০ মিনিট রেখে দিন।

সময় হয়ে গেলে ঠান্ডা জল দিয়ে মুখটা ধুয়ে ফেলুন।

অ্যালোভেরা জেল রাতে লাগান মুখে

রাতে নাইট ক্রিমের বদলে অ্যালোভেরা জেল লাগান।

রাতে ঘুমোতে যাবার আগে ভালো করে মুখ ধুয়ে তা লাগান।

সকালে ঠাণ্ডা জলে মুখ ধুয়ে নিন। এটি সপ্তাহে সাত দিন ব্যবহার করুন।

অ্যালোভেরার অপকারিতা

  1. অ্যালো ট্যালেক্স নিয়মিত গ্রহণ করলে আন্ত্রিকের (গ্যাস্ট্রোইন্টেস্টিনাল) সমস্যা দেখা দেওয়ার উদাহরণ আছে
  2. কিছু মানুষের অ্যালো ভেরা সহ্য হয় না, কাজেই যে কোনও রূপে অ্যালোভেরা ব্যবহারের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া খুব জরুরি।
  3. 12 বছরের কোনও শিশুর মুখে অ্যালো জেল দেওয়া উচিত নয়, তার ফলে পেটের সমস্যা এবং ডায়রিয়া দেখা দিতে পারে।
  4. প্রসূতিদের পক্ষে নিরাপদ বলে ধরে নেওয়া হয় না, কারণ কয়েকটি ক্ষেত্রে অসময়ে গর্ভপাতের ঘটনা জানা গিয়েছে।
  5. সূর্যের তাপে বেরনোর ঠিক আগে অ্যালোভেরা না লাগানোই শ্রেয়, তাতে রোদে পুড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটতে পারে।

আপনি যদি ইতিমধ্যে কোনও কারণে চিকিৎসাধীন থাকেন তাহলে আপনার খাদ্যাভ্যাসে অ্যালোভেরা যুক্ত করার আগে রেজিস্ট্রিকৃত চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করুন, কারণ এটি আপনার ওষুধের বিক্রিয়া ব্যাহত করতে পারে ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *