ইসবগুলের ভুষির উপকারিতা ও অপকারিতা – Jana Joruri

ইসবগুলের ভুষির উপকারিতা ও অপকারিতা: ইসবগুল একটি দ্রবণীয় আঁশ যা এক প্রকার ওষুধি গাছের বীজ থেকে তৈরি হয়। ভারতীয় উপমহাদেশসহ বিশ্বের অনেক দেশেই ইসবগুল বেশ পরিচিত একটি খাবার। এটি খাদ্যতালিকায় সম্পূরক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। সাধারণত তুষার, দানা, ক্যাপসুল বা গুঁড়া আকারে ইসবগুল পাওয়া যায়।

জেনে নিন, ইসবগুলের ভুষির উপকারিতা ও অপকারিতা

কোষ্ঠকাঠিন্য দূরীকরণে


কোষ্টকাঠিন্য দূর করতে ইসবগুলের কন জুড়ি নেই। দুইই চামচ ইসবগুলের ভুষি একগ্লাস গরম পানির সাথে মিশিয়ে খেলে পাকস্থলী পরিষ্কার হয়।

ডায়রিয়া প্রতিরোধে


ডায়রিয়া প্রতিরোধ করতে ইসবগুল কার্যকরী ভূমিকা পালন করে থাকে। দুই চামচ ইসবগুলের ভুষি দুই চামচ দইয়ের সাথে খেলে ডায়রিয়া ভাল হয়। ইসবগুলে থাকা ভিটামিন মল শক্ত করতে সাহায্য করে ।

অ্যাসিডিটি প্রতিরোধে


এসিডির সমস্যায় অনেকে ভুগে থাকেন। এসিডিটির কারণে অনেকের রাতের ঘুম হারাম হয়ে গেছে তাদের জন্য ইসবগুল হতে পারে অনন্য সমাধান।

ওজন কমাতে


শরীরের অতিরিক্ত ওজন নানান রোগের কারণ বলে মানা হয়। অতিরিক্ত ওজন ঝরানোর জন্য ইসবগুলের ভূমিকা অনেক। যারা নিয়মিত শরীর চর্চা করেন কিংবা ডায়েট করেন তারা ইসবগুলের ভুষি খেতে পারেন তাতে করে দ্রুত ওজন কমাতে পারবেন।

পেট পরিষ্কার রাখতে


ইসবগুলের ভুষি পাকস্থলীতে জলের সংস্পর্শে আসামাত্র জেল তৈরি করে ও স্টুলের ভলিউম বৃদ্ধি করে কোষ্ঠবদ্ধতা দূর করে।

দুর্বলতা দূর করতে


প্রতি রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে এক গ্লাস হালকা গরম দুধের সঙ্গে মধু ও ইসবগুলের ভুষি মিশিয়ে শরবত তৈরি করে খেলে শরীরের দুর্বলতা দূর হয়। মাথা ঘোরা বা হাত-পা জ্বালাপোড়া হলে এক গ্লাস আখের গুড়ের শরবতের সঙ্গে ইসবগুলের ভুষি মিশিয়ে খেলে ভালো উপকার পাওয়া যায়।

হজমক্রিয়ার উন্নতিতে


হজমের জন্য ইসব গুলের ভুষি খাওয়া  যেতে পারে। এটি হজম প্রক্রিয়ায় দারুণ কাজ করে।

হৃদস্বাস্থ্যের সুস্থতায়


ইসবগুলে থাকা খাদ্যআঁশ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে হৃদপিণ্ডের সুস্থতা বজায় রাখে।

আরো পড়ুন: জাফরানের উপকারিতা

ডায়াবেটিস প্রতিরোধে


ডায়াবেটিস প্রতিরোধে আজকাল ডাক্তাররা ইসবগুলের ভুষি খেতে বলেন কেননা ইসবগুলের ভুষি সম্পূর্ণ সুগারমুক্ত একটি খাবার।

পাইলস প্রতিরোধে


পায়খানা করতে যাদের সমস্যা হয়। এছাড়াও যারা আগে থেকেই পাইলসের সমস্যায় ভুগছেন তারা ইসবগুলের ভুষি খেতে পারেন।

সতর্কতা:


ঘরোয়া সমাধানে এটি দারুণ কার্যকরী তবে এটাই আসল চিকিৎসা ভেবে বাসায় বসে থাকার কোন মানে নেই রোগ বেশী হলে অবশ্যই ডাক্তারকে দেখাতে হবে।

ইসবগুল কেনার সময় দেখে নিন


  • খোলা অবস্থায় অনেক সময় ইসবগুলের ভুষি পাওয়া যায় সেসব না কেনাই ভালো।
  • কেনার আগে অবশ্যই প্যাকেটজাত ইসিবগুল কিনবেন সাথে প্যাকেটের গায়ে মেয়াদ আছে কিনা সেটাও যাচাই  করে নিবেন।
  • ভেজাল কিংবা অনেক দিন আগের ইসবগুল কিনবেন না।

ইসবগুলের ভুষির খাওয়ার নিয়ম:

পানিতে  মেশানো ইসুবগুল ফেঁপে দ্বিগুণ হলে সাধারণত খাওয়া হয়। এর বেশীক্ষন থাকলেও সমস্যা নেই,  আপনি রাতে ভিজিয়ে রেখে সকালে খালিপেট খাবেন।

ইসবগুলের ভুষির অপকারিতা:

ইসবগুলের খুব অল্প পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া রয়েছে। এরমধ্যে সবচেয়ে সাধারণ প্রতিক্রিয়াটি হল অন্ত্রে হালকা এবং অস্থায়ী অস্বস্তি। তবে কিছু গবেষণায় দেখা গেছে অতিরিক্ত ইসবগুল খেলে ব্যক্তিবিশেষের ক্ষেত্রে স্বল্পমাত্রায় এজমা কিংবা এলার্জিজনিত সমস্যা দেখা দিতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *