ইউরিক এসিড বেড়ে গেলে কি খাবেন আর কি খাবেন না – জানা জরুরি

বর্তমানে ইউরিক এসিড বৃদ্ধির সমস্যা অনেকেরই দেখা যায়। একটু সচেতন হয়ে খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনলে ইউরিক এসিড অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব

এবার একটু সংক্ষিপ্ত আকারে দেখে নেই ইউরিক এসিড কি এবং কেন বৃদ্ধি পায়আমাদের শরীরে দুই ধরনের এমাইনো এসিডের প্রয়োজন পড়ে। একটি আবশ্যক (এসেনশিয়াল) এমাইনো এসিড। আরেকটি অনাবশ্যক (নন এসেনসিয়াল) এমাইনো এসিড। এই নন এসেনসিয়াল এমাইনো এসিডের মধ্যে একটি হলো পিউরিন।

দেহের চাহিদার থেকে বেশি পরিমাণে প্রোটিন বা আমিষ খেলে বা বেশি বেশি এলকোহল জাতীয় খাবার খেলে, তা থেকে দেহে পিউরিন নামক নন এসেনসিয়াল এমাইনো এসিড তৈরি হয়। এই পিউরিন থেকেই ইউরিক এসিড তৈরি হয়। এই ইউরিক এসিড প্রথমে রক্তে চলে যায়। সেখান থেকে কিডনির মাধ্যমে প্রস্রাবের সঙ্গে দেহ থেকে বের হয়ে যায়। রক্তে যদি ইউরিক এসিডের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বৃদ্ধি পায় এই অবস্থাকে বলা হয় হাইপারইউরিসেমিয়া।

স্বাভাবিক অবস্থায় নারীদের ক্ষেত্রে রক্তে ইউরিক এসিডের মাত্রা হলো ২.৪ থেকে ৬.০ মিলিগ্রাম পার ডিএল এবং পুরুষের ক্ষেত্রে ৩.৪ থেকে ৭.০ মিলিগ্রাম পার ডিএল।

উচ্চ মাত্রার ইউরিক অ্যাসিডের উপস্থিতির কারণে হতে পারে গেঁটে বাত বা গিরায় গিরায় ব্যথা,  উচ্চ রক্তচাপ, কিডনি অকেজো হওয়ার মতো সমস্যা।  কিছু কিছু খাবার আছে, যেগুলো খেলে শরীরে ইউরিক অ্যাসিডের পরিমাণ বেড়ে যায় আবার কিছু পুষ্টিকর খাবার আছে যেগুলি ইউরিক অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণে ঔষধের মত কাজ করে । সুধি জন আসুন এবার জেনে নেওয়া যাক শরীরে ইউরিক এসিড বৃদ্ধিতে কোন ধরনের খাবার খাবেন এবং কোন গুলি খাবেন না।

ইউরিক এসিড বেড়ে গেলে যেসব খাবার পরিহার করতে হবে :

  • অর্গান মিট অর্থাৎ অঙ্গপ্রত্যঙ্গ জাতীয় মাংস যেমনঃ কলিজা, মগজ, জিহ্বা, ফুসফুস, কিডনি, ইত্যাদি খাওয়া যাবেনা।
  • অধিক চর্বিযুক্ত গরুর মাংস, খাসির মাংস, ভেড়ার মাংস বা মহিষের মাংস খাওয়া যাবে না। এইসব মাংস যদি খেতে চান তাহলে একেবারে চর্বি ছাড়া মাংস অল্প করে খাবেন।
  • সামুদ্রিক মাছ এবং শক্ত খোসাযুক্ত প্রাণী যেমন চিংড়ি, শামুক, কাকড়া ইত্যাদি জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলতে হবে।
  • সব রকমের ডাল, মটরশুটি, সিমের বিচি, কাঁঠালের বিচি ইত্যাদি খাওয়া পরিহার করতে হবে।
  • মধু, চিনির সিরাপ, চিনিযুক্ত পানীয়, বিশেষ করে প্রক্রিয়াজাত ফলের জুস, কোমল পানীয় একেবারেই খাওয়া যাবেনা।
  • কিছু কিছু শাকসবজি যেমন: পালং শাক, পুঁই শাক, ব্রকোলি, ফুলকপি এড়িয়ে চলতে হবে। এছাড়া মাশরুমও খাওয়া যাবে না।
  • চিনিযুক্ত পানীয়, এলকোহোল এবং ক্যাফেন জাতীয় পানীয় খাওয়া যাবে না।

ইউরিক এসিড বেড়ে গেলে যেসব খাবার বেশি বেশি খাবেন:

  • অধিক আঁশযুক্ত খাবার খেতে হবে। সবুজ সবজি-শাক এবং ফলমূলে প্রচুর খাদ্য আঁশ থাকে, এই আঁশ ইউরিক এসিড কে শরীর থেকে মল আকারে বের করে দেয়।
  • চর্বিহীন মাংস খেতে হবে। এ ক্ষেত্রে মুরগির মাংস উত্তম। তবে চামড়া এবং পাখনা খাওয়া যাবেনা কারণ এতে প্রচুর চর্বি থাকে। তাছাড়া পরিমাণ মতো মাছ এবং কুসুম ছাড়া ডিম খাওয়া যাবে। ফ্যাট ছাড়া দুধ বা স্কিম মিল্কও খেতে পারবেন।
  • বেশি বেশি টক ফল বা ভিটামিন সি জাতীয় খাবার খেতে হবে। গ্রিন টি ইউরিক এসিড কমাতে সহায়তা করে। তাই ইউরিক এসিড কমাতে নিয়মিত গ্রিন টি পান করতে পারেন।
  • এই সময় চাহিদার তুলনায় বেশি পরিমাণ পানি পান করতে হবে। প্রতিদিন আড়াই থেকে তিন লিটার পানি পান করবেন।
  • পানি দেহের যেকোনো ধরনের বিষকে দূর করতে সহায়তা করে। এ ক্ষেত্রে ইউরিক এসিড নিয়ন্ত্রণেও কার্যকর পানি।

আরও পড়ুন| পায়ের কালো দাগ দূর করার ঘরোয়া উপায়

ঠোঁট গোলাপি করার উপায়

ওয়াই-ফাই স্পিড বাড়ানোর উপায়

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *