আমের উপকারিতা ও অপকারিতা

আমের উপকারিতা ও অপকারিতা

আসসালামু আলাইকুম, আমরা সবাই জানি আম হচ্ছে ফলের রাজা।এইটি গ্রীষ্মকালীন ফল।আমের রয়েছে অনেক উপকারিতা। তাই আজকে আমরা জানবো, আমের উপকারিতা ও অপকারিতা নিয়ে।

আমের উপকারিতা ও অপকারিতা:

আমের উপকারিতাঃ

কোলেস্টেরল কমাতেঃ

আম রক্তে ক্ষতিকারক কোলেস্টেলের মাত্রা কমায়। ডায়াবেটিসের সঙ্গে লড়াই করে। ক্যানসার কোষকে মেরে ফেলতে সাহায্য করে।

দেহকে সুরক্ষা দেয়ঃ

আমে রয়েছে উচ্চ পরিমাণ প্রোটিন যা জীবাণু থেকে দেহকে সুরক্ষা দেয়।

আরো পড়ুন: ড্রাগন ফলের উপকারিতা

ত্বকের ক্লিনজার হিসেবেঃ

ক্লিনজার হিসেবে ত্বকের উপরিভাগে কাঁচা এবং পাকা আম ব্যবহার করা যায়। আম লোমকূপ পরিষ্কার করে এবং ব্রণ দূর করে। বার্ধক্যের ছাপ রোধে আমের রস বেশ কার্যকরী। কাঁচা আমের রস, রোদে পোড়া দাগ দূর করতে সাহায্য করে।

দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতেঃ

আমে রয়েছে ভিটামিন এ, যা দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখে। চোখের চারপাশের শুষ্কভাবও দূর করে।

ওজন কমাতেঃ

ওজন কমাতে চাইলে কাঁচা আম খেতে পারেন। এটি পাকা আমের থেকে অনেক ভালো। কেননা পাকা আমে শর্করার পরিমাণ বেশি থাকে।

দেহের শক্তি বাড়াতেঃ

কাঁচা আম দেহের শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। বিশেষজ্ঞরা বলেন, দুপুরে খাওয়ার পর কাঁচা আম খেলে বিকেলের তন্দ্রাভাব কাটে।

লিভারের সমস্যা সমাধানেঃ

লিভারের সমস্যায় কাঁচা আম খাওয়া উপকারী। এটি বাইল এসিড নিঃসরণ বাড়ায় এবং অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়াকে পরিষ্কার করে।

রক্ত তৈরিতেঃ

দেহে নতুন রক্ত তৈরি করতে সাহায্য করে আম।

খনিজ পদার্থের উৎস হিসেবেঃ

খনিজ পদার্থ আয়রনের ভালো উৎস আম। অ্যানিমিয়া আক্রান্ত রোগীদের জন্য ভালো ওষুধ হিসেবে কাজ করে আম।

আয়রনের ঘাটতি পূরণেঃ

সন্তানসম্ভবা নারী এবং মেনোপোজ হওয়া নারীর আয়রনের ঘাটতি পূরণে আম বেশি উপকারী।

কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতেঃ

কাঁচা আম কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার জন্য খেতে পারেন। কাঁচা আম মধু দিয়ে খাওয়া পেটের কষাভাব দূর করতে সাহায্য করে।

সোডিয়ামের ঘাটতি পূরণেঃ

আয়রন ও সোডিয়ামের ঘাটতি পূরণে বেশ কার্যকরী আম।

আরো পড়ুন: আপেল এর উপকারিতা

দাঁতের জন্যঃ

কাঁচা আম মাড়ির জন্য ভালো। দাঁতের ক্ষয় এবং রক্তপাত রোধ করে। এটি রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ায়।

পাকা আমের অপকারিতা:

পরিমিত পাকা আম খেলে যেমন উপকার হয় ঠিক তেমনি অতিরিক্ত পরিমাণে পাকা আম খেলে তার অপকারিতাও রয়েছে। আসুন জেনে নেই, বেশি পরিমাণে পাকা আম খেলে কি হয়?

শরীরে গ্লুকোজ মাত্রা বৃদ্ধি করে:

বিশেষজ্ঞ ডাক্তাররা বলে থাকেন পাকা আম খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ভালো কিন্তু বেশি মাত্রায় পাকা আম খেলে রক্তে গ্লুকজের পরিমাণ বৃদ্ধি পেতে পারে ।

তাই বেশি পরিমাণে পাকা আম খাওয়া মোটেও স্বাস্থ্যের পক্ষে ভালো ফল নিয়ে আসবে না।

উচ্চমাত্রায় চিনি থাকার কারণে ডাক্তাররা অনেক সময় ডায়াবেটিস রোগীদের পাকা আম খেতে নিষেধ করে থাকেন।

অ্যাজমা বা হাঁপানি বাড়িয়ে দেয়:

যাদের অ্যাজমা বা হাঁপানি রয়েছে তাদের পাকা আম খেতে নিষেধ করে থাকেন বিশেষজ্ঞ ডাক্তাররা। কারণ কাঁচা আম পাকাতে অসাধু ব্যবসায়ীরা ক্যালসিয়াম কার্বাইড নামক বিষাক্ত এক প্রকার ক্যামিক্যাল ব্যবহার করে থাকেন, যা অ্যালার্জি বৃদ্ধির পাশাপাশি অ্যাজমা বা হাঁপানি বাড়িয়ে দিতে পারে।

 শরীরের ওজোন বৃদ্ধি করে:

পাকা আমে অধিক মাত্রায় শর্করা থাকায় তা শরীরের ওজন বৃদ্ধি করতে পারে।

ডায়রিয়া:

পাকা আমে অধিক মাত্রায় আঁশ বা ফাইবার থাকে তাই বেশি পরিমাণে পাকা আম খেলে ডাইরিয়া বা পাতলা পায়খানা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

তাই প্রতিদিন পরিমাণমত একটি অথবা দুটি আম খাওয়াই যথেষ্ট। এতে ডাইরিয়া হওয়ার ঝুঁকি থাকবে না।

আরো পড়ুন: আলু বোখারার উপকারিতা

কিডনি রোগীদের জন্য ক্ষতিকর:

অনেক সময় চিকিৎসকরা কিডনি রোগীকে পাকা আম খেতে নিষেধ করে থাকেন। কারণ ক্যালসিয়াম কার্বাইড দিয়ে পাকানো আম তাদের জন্য অনেক ক্ষতি ডেকে নিয়ে আসতে পারে।

কথায় আছে অতিরিক্ত কোন কিছুই ঠিক না, তাই অতিরিক্ত পাকা আম খাওয়াও উচিৎ না। পরিমিত পাকা আম খান এবং সুস্থ থাকুন।


আশা করি, আমের উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে জেনে আপনাদের উপকারিতা হবে।

Image by Mohan Nannapaneni from Pixabay

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *