আমলকির উপকারিতা ও অপকারিতা

আসসালামু আলাইকুম,আজকে আমরা জানবো আমলকির উপকারিতা ও অপকারিতা নিয়ে।

ভেষজ গুণে অনন্য একটি ফল।এর ফল ও পাতা দুটিই ওষুধরূপে ব্যবহার করা হয়। বিভিন্ন অসুখ সারানো ছাড়াও আমলকি রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলতে দারুণ সাহায্য করে। আমলকির গুণাগুণের জন্য আয়ুর্বেদিক ওষুধেও এখন আমলকির নির্যাস ব্যবহার করা হয়।

আমলকির উপকারিতা:

চোখের জন্য:

মধুর সঙ্গে আমলকীর রস মিশিয়ে পান করলে দৃষ্টিশক্তি উন্নত হয়। গবেষণায় দেখা গেছে যে এটি চোখের ভিতরের চাপকে হ্রাস করে, দূরের জিনিস দেখতে পায় এবং ছানি পড়তে দেয় না।

ডায়াবেটিসের জন্য:

আমলা বিচ্ছিন্ন গ্রুপের কোষকে উদ্দীপিত করে, যা হরমোনটি ইনসুলিনকে বেরতে দেয় না এবং ডায়াবেটিসে রক্তের গ্লুকোজ হ্রাস করে এবং শরীরকে সুষম ও সুস্থ রাখে। এতে উপস্থিত ক্রোমিয়াম শরীরের এলডিএল কোলেস্টেরলকে কমায় যা হৃদগত স্বাস্থ্যের জন্য ব্যবহৃত হয়, যা বিটা-ইনহিবিটারের প্রভাবকে বাড়ায়।

আরো পড়ুন: কমলার উপকারিতা

বিপাকের জন্য:

আমলকিতে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার রয়েছে যা অন্ত্রের মাধ্যমে খাদ্য বহন করতে সহায়তা করে এবং আপনার অন্ত্রের গতিবেগ নিয়মিত রাখে। ফাইবার এছাড়াও আলগা পায়খানা বৃদ্ধি এবং ডায়রিয়া কমাতে পারে।

হৃৎপিণ্ডের জন্য:

এটি হৃদয়ের পেশীকে শক্তিশালী করে। অতিরিক্ত কোলেস্টেরল জমতে দেয় না।

চুলের জন্য:

আমলকি চুলের বৃদ্ধি এবং ঘন কালো করতে সাহায্য করে। চুলের শিকড়গুলিতে তাজা আমলা বা তার পেস্ট প্রয়োগ করলে চুলের বৃদ্ধি এবং রঙ উন্নত হয়।

মেটাবলিক ক্রিয়াকলাপ:

আমলকি তে প্রোটিন রয়েছে। প্রোটিন সেলুলার ডেভেলপমেন্ট, পেশীবহুল উন্নয়ন, অঙ্গ স্বাস্থ্য এবং অন্যান্য বিপাকীয় ক্রিয়াকলাপের বিস্তৃত জন্য অপরিহার্য।

মূত্র বৃদ্ধিতে:

আমলা প্রস্রাবের পরিমাণ বৃদ্ধি করে। আমাদের কিডনি সুস্থ, মূত্রাশয় সংক্রমণ এবং গর্ভাবস্থায় সংক্রমণ রাখতে আমলকী অপরিহার্য।

আরো পড়ুন: কলার উপকারিতা

মাসিক ঋতুচক্রের জন্য:

আমলাতে উপস্থিত কিছু খনিজ পদার্থ এবং ভিটামিন মাসিক ঋতুচক্রের চিকিৎসার ক্ষেত্রে যৌথভাবে উপকারী।

বয়সের ছাপ:

আমলা শরীরের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমে শরীরে স্বাস্থ্য সম্পর্কিত হাইপারলিপিডেমিয়া বন্ধ করে। মুক্ত কোষগুলো যেমন বলিরেখা এবং বয়সের ছো্প পড়ে না।

আমলকির অপকারিতা:

আমলকি খেলেও শরীরে দেখা দিতে পারে বেশ কিছু সমস্যা।

হজমে গ-গোল:

অনেক সময় হজমে সমস্যা সৃষ্টি করে আমলকি। যদি শরীরে পানিশূন্যতা সৃষ্টি হয়, সেক্ষেত্রে আমলকি খেলে এটি হজমের সমস্যা কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেয়।

অ্যাসিডিটি বাড়িয়ে দেয়:

আমলকি হচ্ছে অ্যাসিডিক প্রকৃতির ভিটামিন সি-র গুরুত্বপূর্ণ উৎস। সাধারনত বেশি উপকার পেতে খালিপেটে আমলকি খাওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। তবে এটি অনেক ক্ষেত্রে হিতে বিপরীত হতে পারে।

অর্থাৎ খালিপেটে আমলকি অ্যাসিটিডি বাড়িয়ে দিয়ে শরীরে সমস্যা সৃষ্টি করে। যদি অতিরিক্ত অ্যাসিডিটির সমস্যা থাকে, তাহলে এটি এড়িয়ে চলাই ভালো।

ডায়াবেটিস রোগীর সতর্কতা:

আমলকিকে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ঔষধ হিসেবে ধরা হয়। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে এটি ডায়াবেটিসের ঔষধের কার্যকারিতায় বাধা সৃষ্টি করে।

এটি রক্তে শর্করার পরিমাণ কমিয়ে দেয়, যা অনেক সময় রোগীর জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

সেজন্য যারা ডায়াবেটিসের ঔষধ সেবন করেন তাদের চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়েই আমলকি গ্রহণ করা উচিত।

জ্বর-ঠান্ডায় আমলকি:

জ্বর এবং ঠান্ডা সারাতে আমলকির জুড়ি নেই। এটি খুব দ্রুত শরীরের তাপমাত্রায় কমাতে সাহায্য করে। অনেক ক্ষেত্রে এটি উপকারের চেয়ে অপকারের কারণ বেশি হয়

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *