আনারসের উপকারিতা ও অপকারিতা

আনারসের উপকারিতা ও অপকারিতা: আনারস একটি মৌসুমি ফল। যা অসংখ্য পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ। শরীরে পানির ঘাটতি পুরণের সঙ্গে সঙ্গে আনারস আরো নানা রোগ থেকে আমাদের রক্ষা করে। । ঠাণ্ডাজনিত রোগ থেকেও আনারস শরীরকে সুস্থ রাখে। তাই এই সময় অবশ্যই খাদ্য তালিকায় আনারস রাখা খুব জরুরি।

জেনে নিন, আনারসের উপকারিতা ও অপকারিতা এবং গুনাগুন:-

আনারসের পুষ্টিগুণ:

পুষ্টি বিজ্ঞানীদের মতে, প্রতি ১০০ গ্রাম ভক্ষণযোগ্য আনারসে পাওয়া যায় ৫০ কিলোক্যালরি শক্তি। এতে ভিটামিন-এ, বি, সি, ক্যালসিয়াম ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান রয়েছে। ১০০ গ্রাম আনারসে ০.৬ ভাগ প্রোটিন, ০.১২ গ্রাম সহজপাচ্য ফ্যাট, ০.৫ গ্রাম খনিজ পদার্থ, ১৩.১২ গ্রাম শর্করা, ০.১১ গ্রাম ভিটামিন বি-১, ০.০৪ মি. গ্রাম ভিটামিন-২, ভিটামিন-সি ৪৭.৮ মিলিগ্রাম, ক্যালসিয়াম ১৮ মিলিগ্রাম, ফসফরাস ০.০২ গ্রাম, আঁশ ১.৪ গ্রাম এবং ১.২ মিলি গ্রাম লৌহ।

আনারসের স্বাস্থ্য উপকারিতা:

pineapple,
pineapple

হাড় গঠনে সহায়ক:

ক্যালসিয়াম ও ম্যাঙ্গানিজে ভরপুর আনারস। ক্যালসিয়াম হাড়ের গঠনে এবং ম্যাঙ্গানিজ হাড়কে মজবুত করতে বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

দাঁত ও মাড়ি সুরক্ষায়:

আনারসে ক্যালসিয়াম ভরপুর। যা দাঁত ও মাড়ির যে কোনো সমস্যা সমাধানে বেশ কার্যকর ভূমিকা পালন করে। প্রতিদিন আনারস খেলে দাঁতে জীবাণুর আক্রমণ কম হয় এবং দাঁত ভালো থাকে।

রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা:

আনারসের আছে ভিটামিন-সি, যা বহু রোগ প্রতিরোধে দেহকে প্রস্তুত করে। এছাড়া আরও কিছু ভিটামিন ও মিনারেল থাকার কারণে আনারস সার্বিকভাবে দেহের রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।

পুষ্টির অভাব দূর করে:

আনারস পুষ্টির বেশ বড় একটি উৎস। আনারসে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ এবং সি, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম ও ফসফরাস। এসব উপাদান আমাদের দেহের পুষ্টির অভাব পূরণে কার্যকর ভূমিকা পালন করে।

ওজন নিয়ন্ত্রণ:

আনারসে প্রচুর ফাইবার এবং অনেক কম ফ্যাট রয়েছে। যা আমাদের ওজন কমাতে সাহায্য করে। সকালে আনারস বা সালাদ হিসেবে এর ব্যবহার অথবা আনারসের জুস অনেক বেশি স্বাস্থ্যকর।

হজমশক্তি বাড়ায়:

হজমশক্তি বৃদ্ধিতে আনারস বেশ কার্যকরী। এতে থাকা ব্রোমেলিন আমাদের হজমশক্তিকে উন্নত করতে সাহায্য করে। বদহজম বা হজমজনিত যে কোনো সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে প্রতিদিন আনারস খাওয়া অত্যন্ত জরুরি।

রক্ত জমাটে বাধা দেয়:

আনারস দেহে রক্ত জমাট বাঁধতে বাধা দেয়। ফলে শিরা-ধমনির (রক্তবাহী নালি) দেয়ালে রক্ত না জমার জন্য সারা শরীরে সঠিকভাবে রক্ত যেতে পারে। হৃদপিণ্ড আমাদের শরীরে অক্সিজেনযুক্ত রক্ত সরবরাহ করে। আর আনারস রক্ত পরিষ্কার করে হৃদপিণ্ডকে কাজ করতে সাহায্য করে।

চোখের স্বাস্থ্য রক্ষায়:

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা যায়, আনারস ম্যাক্যুলার ডিগ্রেডেশন হওয়া থেকে আমাদের রক্ষা করে। এ রোগটি আমাদের চোখের রেটিনা নষ্ট করে দেয় এবং আমরা ধীরে ধীরে অন্ধ হয়ে যাই। আনারসে রয়েছে বেটা ক্যারোটিন। প্রতিদিন আনারস খেলে এ রোগ হওয়ার সম্ভাবনা ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়। এতে আমাদের চোখ সুস্থ থাকে।

ক্রিমিনাশক হিসেবে:

ক্রিমিনাশক হিসেবে আনারসের রস ভালো কাজ করে। নিয়মিত আনারসের রস খেলে কয়েকদিনের মধ্যেই কৃমির উৎপাত বন্ধ হয়ে যায়। কৃমি দূর করতে সকালবেলায় ঘুম থেকে জেগে খালি পেটে আনারস খাওয়া উচিত।

ক্যান্সার প্রতিরোধী:

ফ্রি-রেডিকেল বা মুক্ত মুলক মানবদেহের কোষের উপর বিরূপ ক্রিয়ার সৃষ্টি করে ফলে ক্যান্সার এবং হৃদরোগের মত মারাত্মক রোগ দেখা দিতে পারে। দেশী আনারসে আছে উচ্চ মাত্রায় পানিতে দ্রবনীয় অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন-সি এবং পানিতে দ্রবনীয় অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা দেহকে ফ্রি-রেডিকেল বা (মুক্ত মুলক) থেকে সুরক্ষা প্রদান করে। ফলে ক্যান্সার এবং হৃদরোগের মত মারাত্মক রোগ দেহে বাসা বাঁধতে বাধাগ্রস্থ হয়।

আনারসের সালাদ রেসিপি: (আনারস খাওয়ার উপকারিতা)

জ্বর-ঠাণ্ডায় চলে যাওয়া রুচি ফেরাতেও এর জুড়ি মেলা ভার। আর এটা দিয়ে যদি সালাদ বানানো হয়, তাহলে তো কথাই নেই।

চলুন দেখে নেয়া যাক, মুখরোচক আনারসের সালাদ বানানোর রেসিপি-

উপকরণ:

  • ৩ কাপ আনারসের টুকরা
  • রস ১ কাপ
  • বিট লবণ আধা চা-চামচ
  • চিনি ২ টেবিল চামচ
  • কাঁচা মরিচ বা শুকনা মরিচ ২/৩টা
  • ধনেপাতা বা পুদিনা পাতা পরিমাণ মতো।

প্রস্তুত প্রণালি:

উপকরণ একসঙ্গে মিশিয়ে নিন। ফ্রিজে রেখে ঠান্ডা করে পরিবেশন করুন।

ইচ্ছে করলে এই সালাদের সঙ্গে আপনি কিছু শশাও যোগ করতে পারেন।

পুষ্টি-বিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে আনারসের জুস বানানোর রেসিপি কিছু পদ্ধতি এখানে দেওয়া হল।

পদ্ধতি ১:

আনারস ও মধু:

আধা কাপ গরম আনারসের রসে এক টেবিল-চামচ মধু ভালোমতো মিশিয়ে নিতে হবে।

তারপর কুসুম গরম অবস্থায় পান করতে হবে।

কাশি দূর করতে আনারস ও মধু দুটোই কার্যকর।

পদ্ধতি ২:

আনারসের রস, মধু, লবণ ও মরিচ:

এক কাপ আনারসের রস, আধা টেবিল-চামচ মধু, এক চিমটি লবণ এবং অল্প মরিচ মিশিয়ে পান করতে হবে। দিনে তিন বার এই শরবত পান করা উপকারী।

পদ্ধতি ৩:

আনারস, মধু, আদা, লালমরিচ এবং লবণ:

এক কাপ আনারসের রসে ১ টেবিল-চামচ মধু, ১ টেবিল-চামচ আদাকুচি, এক চিমটি লবণ এবং অল্প লালমরিচের গুঁড়া ভালো মতো মিশিয়ে নিন।

গলাব্যথা কমাতে মিশ্রণের ১/৪ অংশ প্রতিদিন পান করুন।

সতর্কতা: মনে রাখতে হবে কাশি থাকলে দুধের তৈরি খাবার, ক্যাফেইন, প্রক্রিয়াজাত ও ভাজা খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। কারণ এসব খাবার কাশির পক্ষে ক্ষতিকর।

আনারসের অপকারিতা:

  1. অনেকেরই আনারস এলার্জির সমস্যা যেমন বিভিন্ন ধরনের চুলকানি, ফুস্কুরি ইত্যাদি হতে পারে।
  2. আনারসে রয়েছে প্রচুর পরিমানে প্রাকৃতিক চিনি যা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ক্ষতিকর।
  3. আনারসে বিদ্যমান ব্রোমালিন ঋতুস্রাবকে প্রভাবিত করে, এতে গর্ভপাত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
  4. দাঁতে যাদের ক্যাভেটিস আছে তাদের আনারস না খাওয়া ভালো।

Image by Anastasia Gepp from Pixabay 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *