আদা খাওয়ার উপকারিতা – Jana Joruri

আদা খাওয়ার উপকারিতা: রান্নার স্বাদ বাড়াতে আদার ব্যবহারের কথা সকলের জানা। কিন্তু জানেন কি, আদা শরীরের নানা জটিল ও ভয়ানক রোগের মোকাবিলায় কেমন অব্যর্থ।

আদায় উপস্থিত অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল উপাদান শরীরের রোগ-জীবাণুকে ধ্বংস করতে সহায়তা করে। রান্নার চেয়ে কাঁচা আদার পুষ্টিগুণ বেশি। চলুন জেনে নিই আদার নানা গুণ সম্পর্কে :

১০০ গ্রাম আদায় রয়েছে –

এনার্জি: ৮০ ক্যালরি
কার্বোহাইড্রেট: ১৭ গ্রাম
ফ্যাট: ০.৭৫ গ্রাম
পটাশিয়াম: ৪১৫ মিলিগ্রাম
ফসফরাস: ৩৪ মিলিগ্রাম

জ্বর, ঠাণ্ডায় উপকার :

জ্বর, ঠাণ্ডা, শরীর ব্যথায় আদা বেশ উপকারী। বডি টেম্পারেচারের ভারসাম্য ধরে রাখতে সহায়তা করে আদা। ঋতু পরিবর্তনের সময় শ্বাসকষ্ট বা অ্যাজমা, মাইগ্রেনের সমস্যা কমাতে আদা কুচি করে নিয়মিত খেলে উপকার মেলে।

আর্থ্রাইটিসের ব্যথা দূর :

আদা শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে হাড়ের জোড়ায় সৃষ্ট ব্যথা এবং আর্থ্রাইটিসে আক্রান্তদের প্রদাহ দূর করে। আদাতে উপস্থিত জিঞ্জারোল নামের প্রদাহরোধী উপাদানটি প্রদাহজনক সাইটোকিন গঠন প্রক্রিয়াকে দমন করে। মাংসপেশির ব্যথা লাঘব : জিমে ব্যায়াম করতে যাওয়ার আগে আদা খেলে ব্যথা কম হয়। কারণ আদা একটি প্রাকৃতিক ব্যথা উপশমকারী এবং প্রদাহরোধী উপাদান হিসেবে কাজ করে।

পেট ফাঁপা দূর :

বমিভাব দূর করা ছাড়াও হজম শক্তি বাড়াতে এবং অস্বস্তিদায়ক পেট ফাঁপা থেকে রক্ষা করে আদা।

স্মৃতিশক্তির সংরক্ষণ :

মস্তিষ্কের আলঝেইমারস রোগের সমস্যায় উপকারী আদা। মস্তিষ্কে অপ্রয়োজনীয় অ্যামিলয়েড প্রোটিন জমা হওয়ার মাধ্যমে এই রোগের সৃষ্টি হয়। আদা এই স্নায়ুক্ষয়ী প্রোটিন থেকে মস্তিষ্কের কোষগুলোকে প্রতিরক্ষা দিতে সক্ষম।

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে :

আদা রক্তে শর্করার পরিমাণ কমায় বলে ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে রক্তচাপ সহজে নিয়ন্ত্রণে আসে। নিয়মিত আদা খেলে ইনসুলিনের ব্যবহারও কমে যায়।

রক্ত জমাট রোধে :

রক্তের জীবাণু দূর করতে আদা বেশ সহায়ক। শরীরের জমাট রক্ত দূর করতে সাহায্য করে আদা। আদার নানা উপকারিতা থাকলেও গর্ভবতী নারী ও দাঁতে সমস্যা আছে এমন ব্যক্তির ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

আরো কয়েকটি আদা খাওয়ার উপকারিতা

  • ১। মাথা ব্যথা ও উচ্চ রক্তচাপ থাকলে খেটে পারেন আদার চা। রক্তচাপ স্বাভাবিক হয়ে আসবে, মাথাব্যথারও উপশম হবে।
  • ২। মাতৃত্বকালীন বমি বমি ভাব কিছুটা হলেও কমায় আদা।
  • ৩। শরীরের জয়েন্টে ব্যথা হলে আদা কুচি কুচি করে খেলে আরাম পাওয়া যায়।
  • ৪। শ্বেতী রোগ ? আদা বেঁটে দিনে তিন থেকে চার বার লাগান। চার থেকে বারো সপ্তাহ নিয়মিত ব্যবহারে উপকার পাবেন।
  • ৫। নিয়মিত আদা খেলে অফুরান প্রাণশক্তি পাওয়া যায়। কমে যায় রোগব্যাধি।
  • ৬। খাবার হজম হচ্ছে না ? পেটে গুড় গুড়, আদাজল খেয়ে নিন। আরাম পাবেন।
  • ৭। অপারেশনের পর কাঁচা আদা খান, দ্রুত সেরে উঠবেন।
  • ৮। সর্দি লাগলে আদা কুচি করে রুমালে নিয়ে নাকে ঝাঁজ নিন। বন্ধ নাক খুলে যাবে।
  • ৯। ভ্রমণের সময় বমি ভাব এলে যদি মুখে এক টুকরো আদা দেন দেখবেন বমি ভাব উধাও।
  • ১০। হজমে গোলযোগ হলে আদা কিংবা আদা চা খেতে পারেন। দ্রুত সমস্যা কাটিয়ে উঠতে পারবেন।
  • ১১। শীতকালে অনেকেরই শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। এই শ্বাসকষ্টের বিরুদ্ধে লড়াই করার অসাধারণ এক ক্ষমতা আছে আদায়। এ ছাড়া বুকে কফ জমে কিংবা ঠান্ডা লেগে যাদের শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যা দেখা দেয়, তাদের জন্য প্রাকৃতিক ওষুধ হলো আদা।
  • ১২। এতে থাকা ভিটামিন, মিনারেল ও অ্যামাইনো অ্যাসিড শরীরে রক্ত চলাচল বাড়ায় এবং হৃৎপিণ্ডকে কর্মক্ষম রাখে। এটি ধমনি থেকে অতিরিক্ত চর্বি সরিয়ে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকিও কমিয়ে দিতে পারে।
  • ১৩। রক্ত সঞ্চালনের গতিকে স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। এ ছাড়া রোগ প্রতিরোধ করার ক্ষমতাকেও বাড়িয়ে দিতে পারে এই মসলা। এর উপাদানগুলো পেশির কর্মদক্ষতাÿবাড়ায়। আবার ব্যথা প্রশমনেও কার্যকর।
  • ১৪। অনেক কারণে আমরা মানসিক চাপ ও অস্থিরতায় ভুগে থাকি। এক গবেষণায় দেখা গেছে, আদায় থাকা কিছু উপাদান মানসিক চাপ দূর করতে সাহায্য করে।
  • ১৫। মাসিকের সময় অনেকেরই তল পেট ব্যথা ও শারীরিক অস্বস্তি দেখা দিতে পারে, এ ধরনের সমস্যা এড়াতেও আদা খেয়ে দেখতে পারেন।

কাঁচা আদার উপকারিতা

মাংসে আদা না দিলে কী যেন একটা কম কম মনে হয়। কিন্তু জানেন কি, কাঁচা আদার গুণ? খেলেই ম্যাজিকের মতো হাজার একটা সমস্যা হয়ে যাবে গায়েব। জেনে নিন কাঁচা আদা খাওয়ার গুণাগুণ…

1. মুখে অরুচি? খেতে একেবারেই ইচ্ছে করছে না? এক কাজ করুন, 1 চা চামচ তাজা আদা কুচি খেয়ে নিন। মুখের রুচি ফিরে আসবে।

2. শীত মানেই হাত-পায়ের জয়েন্টে ব্যথা। উপকার দিতে পারে আদার তেল। খানিকটা অলিভ অয়েলে আদা দিয়ে ফুটিয়ে নিন 5 মিনিট। ঠান্ডা হলে ছেঁকে এই তেল দিয়ে ম্যাসাজ করুন হাত-পায়ের জয়েন্ট। দেখবেন আরাম পাবেন।

3. সাইনাসের যন্ত্রনায় কষ্ট পেলে প্রতিদিন ১ ইঞ্চি পরিমাণ আদা কুচি খাওয়ার অভ্যেস করুন। কষ্ট দূর হবে।

4. মাথা ঘোরা বা বমি বমি ভাব হলে একটুখানি আদা স্লাইস করে লবণ দিয়ে চিবিয়ে খেয়ে নিন। বমি বমি ভাব একেবারে কেটে যাবে।

5. হজমের গোলমালের কারণে পেট ব্যথা বা পেটে গ্যাস হলেও আদা কুচি খেতে পারেন। বেশ কার্যকরী।

6. খাবারের পুষ্টি দেহে সঠিকভাবে শোষণ করার ক্ষমতা বাড়ায় আদা। তাই প্রতিদিন খুব সামান্য পরিমাণেই আদা খাওয়ার অভ্যেস করতে পারেন।

কিভাবে আদা খাবেন –

১. আদায় সামান্য পানি দিয়ে থেতলে নিন। আদার রস ও আদা গরম পানিতে কিছুক্ষণ ফুটিয়ে নিন। চা বানানোর জন্যে এই পানি ব্যবহার করুন।

২. আদা ছিলে , সামান্য লেবুর রস মেশান। হজমে এই মিশ্রণ খুব ভালো কাজ করে।

৩. সারা দিনে ৫০ গ্রাম আদা খেতে পারেন।

পাউডারড জিঞ্জার আধা  চামচ করে দিনে ৩ বার খেতে পারেন।

আদা সরু লম্বা করে চিকন করে কেটে নিন। সামান্য লবণ, গোলমরিচ মেশান।

৪. পানি ফুটিয়ে নিন। এবারে দুধ, মসলা, আদার রস, চা পাতা দিয়ে আরো এ

কবার ফুটিয়ে নিন। কাপে চিনি দিয়ে পরিবেশন করুন। ওপরে সামান্য এলাচগুঁড়ো ছড়িয়ে দিতে পারেন।

৫. ভিনিগারে আদার টুকরো, লবণ, মরিচ দিয়ে কিছু দিন রাখুন। খাওয়ার সময় আচার হিসেবে খেতে পারেন

আদা খাওয়ার উপকারিতা জেনে নেওয়া যাক-

পরিপাক নালির প্রদাহ কমাতে আদার জুড়ি মেলা ভার। পাচক রস নিঃসরণে সহায়তা করে আদা। অন্তঃসত্ত্বা নারীদের জন্য আদা খুবই উপকারী। গর্ভাবস্থায় বমির ভাব কমাতে সাহায্য করে। পাশাপাশি মর্নিং সিকনেস প্রতিরোধও করে আদা। পেশির ব্যথায় আদা উপকারী। ২৫ শতাংশ পেশির ব্যথা কমাতে সক্ষম আদা।

গবেষণায় জানা গিয়েছে, আদা খুব তাড়াতাড়ি গাঁটের ব্যথা কমাতে এবং গাঁটের ক্ষয় রোধ করতে সাহায্য করে। তিন দিন মাত্র তিন গ্রাম আদার গুঁড়ো খেলে কোলেস্টেরলের মাত্রা দ্রুত হ্রাস পায়। এতে হৃদরোগের ঝুঁকি অনেক কমে। ১২ সপ্তাহ ধরে দৈনিক ২ গ্রাম আদা খেলে খেলে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি ১০ ভাগ কমে যায়।

ক্যানসার প্রতিরোধেও উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নিতে পারে আদা। আদার মধ্যে রয়েছে ক্যানসার প্রতিরোধক উপাদান।

আরো পড়ুনঃ

দেখে নিন, সকালে উঠে খালি পেটে কোন খাবার বেশি স্বাস্থ্যকর?

সতর্কতা –
১. গলস্টোনের সমস্যা থাকলে কত পরিমাণ আদা খাবেন, ডাক্তারের থেকে জেনে নিন।
২.গর্ভাবস্থায় সারা দিনে ২৫০ গ্রামের বেশি আদা খাবেন না। ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া বাঞ্ছনীয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *