Connect with us

অর্জুন

অর্জুন গাছের উপকারিতা ও অপকারিতা – Jana Joruri

Published

on

অর্জুন গাছের উপকারিতা: অর্জুন (Arjuna) একটি মহা মূল্যবান আয়ুর্বেদিক ঔষধ। যার বৈজ্ঞানিক নাম Terminalia arjuna (Roxb, ex, Dc) wight & Arn.যার রয়েছে হাজারো গুন। প্রাচীন যুগ থেকে রোগ নিরাময়ে অর্জুন গাছের ভিবিন্ন অংশ ব্যাবহার হয়ে আসছে।

অর্জুন গাছের উপকারিতা ও অপকারিতা:


হৃদরোগে:

অর্জুন প্রধানত হৃদরোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। অর্জুন ছালের রসের কোএনজাইম কিউ-১০ হৃদরোগে এবং হার্ট এ্যাটাক (Heart Attack) প্রতিরোধ করে। বাকলের রস রক্তচাপ (ব্লাড প্রেসার) এবং কোলেস্টেরল লেভেল কমাতে সাহায্য করে। অর্জুন ছাল বেটে রস খেলে হৃৎপিন্ডের পেশি শক্তিশালী হয় এবং হৃদযন্ত্রের ক্ষমতা বাড়ে। ছালের ঘন রস দুধের সাথে মিশিয়ে প্রতিদিন সকালে খালি পেটে খেতে হবে। বাকলের রস না থাকলে শুকনো ছালের গুড়া ১-২ গ্রাম দুধের সাথে মিশিয়ে সকালে খালি পেটে খেতে হবে। যাদের বুক ধড়ফড় করে অথচ উচ্চ রক্তচাপ নেই, তাদের ক্ষেত্রে অর্জুন ছাল কাঁচা হলে ১০-১২ গ্রাম, শুকনো হলে ৫-৬ গ্রাম একটু ছেঁচে ২৫০ মিলি দুধ ও ৫০০ মিলি পানির সাথে মিশিয়ে জ্বাল দিয়ে আনুমানিক ১২৫ মিলি থাকতে ছেঁচে বিকালে খেলে বুক ধড়ফড়ানি অবশ্যই কমবে।  তবে পেটে যেন বায়ু না থাকে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

হাঁপানিতে:

অর্জুন ছালের পাউডার ১২ গ্রাম দুধের ক্ষীর বা পায়েশের সাথে মিশিয়ে খেলে হাঁপানি আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁপানি রোগের স্থায়ী সমাধান হবে ।

রক্ত আমাশয়ে:

অর্জুনে বিদ্যমান ট্রাইটারপিন যৌগসমূহ রক্ত আমাশয় নিবারনে কার্যকর। ৪-৫ গ্রাম অর্জুন ছালের সাথে ছাগলের দুধ মিশিয়ে খেলে রক্ত আমাশয় ভাল হয়।

রক্তপিত্তে:

মাঝে মাঝে কারণে বা অকারণে শরীরের বিভিন্ন ছিদ্র দিয়ে (নাক, কান, মুখ) রক্ত পড়ে। সে ক্ষেত্রে ৪-৫ গ্রাম ছাল রাতের বেলা পানিতে ভিজিয়ে রেখে সকালে। হেঁকে পানি খেলে উপকার পাওয়া যায় ।

ব্রণের চিকিৎসায় (অর্জুন গাছের উপকারিতা):

  • ত্বকের ব্রণের ক্ষেত্রে অর্জুন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে ।
  • ছালের চূর্ণ মধুর সাথে মিশিয়ে ব্রণের উপর লাগালে খুব দ্রুত উপকার হয়।
  • এছাড়া ছালের মিহি গুড়া ও মধু একসাথে মিশিয়ে লাগালে মেছতার দাগ দূর হয় ।

আরো পড়ুন: পেয়ারার পাতার উপকারিতা

ফোঁড়া:

ফোঁড়া হলে পাতা দিয়ে ঢেকে রাখলে ফোঁড়া ফেটে যায়, তারপর পাতার রস দিলে তাড়াতাড়ি শুকিয়ে যায় ।

যৌন অনীহায়:

  • যাদের মধ্যে যৌন অনীহা (Libido) দেখা দেয় তাদের ক্ষেত্রে অর্জুনের ছাল চূর্ণ উপকারী।
  • এর ছাল দুধের সাথে মিশিয়ে প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে নিয়মিত খেলে এ রোগ দূর হয়।
  • এছাড়া যাদের শুক্রমেহ আছে তারা অর্জুন ছালের গুড়া ৪-৫ গ্রাম ৪-৫ ঘন্টা আধা পোয়া গরম পানিতে ভিজিয়ে রেখে হেঁকে ঐ পানির সাথে এক চামচ শ্বেতচন্দন মিশিয়ে খেলে উপকার হয় ।

হজম ক্ষমতা বাড়াতে:

ডায়রিয়া বা পেটের অন্য কোন সমস্যা দেখা দিলে অর্জুনের ছাল ৩০-৪৫ গ্রাম করে খেলে হজম ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় ও অসুবিধা দূর হয়।

কানের ব্যথায়:

অর্জুন ছালের তাজা পাতার রস কানের ব্যথায় ব্যবহৃত হয়।

কচি পাতার রস কানের ভিতরে ২ ফোটা করে দিলে কানের ব্যথা ভাল হয় ।

আরো পড়ুন: শিউলি পাতার উপকারিতা

উন্নত চুলের জন্য:

  • চুলের বৃদ্ধির জন্য আমরা অর্জুন গাছের ছাল ব্যবহার করতে পারি।
  • মাথার চুলের মধ্যে অর্জুনের গাছের ছাল এবং হেনার মিশ্রণ চুলে লাগানোর ফলে চুল সাদা থেকে কালো হয়।
  • একই সাথে এটা চুল শক্তিশালী করে।

কাশির উপশমে:

শুকনো অর্জুনের গাছের ছালের পাউডার, তাজা সবুজ ছোট পাতার রসের সাথে মিশিয়ে দিয়ে আবার শুকিয়ে নিন। এভাবেই সাত বার মেশানোর পর যা অবশিষ্ট থাকে তা দিয়ে চূর্ণ প্রস্তুত করা হয়। এর সাথে মধু দিয়ে রোগীকে সেবন করালে তিনি আরাম অনুভব করেন।

মেদ দূর করতে:

অতিরিক্ত মেদ নিয়ে সমস্যায় ভোগা মানুষ প্রত্যহ সকাল, সন্ধ্যায় অর্জুনের গাছের ছালের মিশ্রণ পান করলে তাঁদের সমস্যা কমে যেতে পারে অনেকটাই।

ত্বকের জন্য:

অর্জুন গাছের ছালের প্রভাব অনেক ত্বকের সমস্যা দূর করতে কার্যকর।

অর্জুন গাছের ছাল, বাদাম, হলুদ এবং কর্পূর সমান পরিমাণ মিশিয়ে, পিষ্ট করে, ত্বকের উপর প্রয়োগ করলে, মুখের সমস্ত বলিরেখা দূর হয় এবং মুখের ত্বক উজ্জ্বল হয়ে।

মুখের ফোস্কার চিকিৎসায়:

  • মুখের ফোস্কার দ্বারা বিরক্ত ব্যক্তি অর্জুনের ছাল ব্যবহার করতে পারেন।
  • নারকেল তেলের সাথে অর্জুনের ছালের চূর্ণ যোগ করে তা আপনার মুখের ফোস্কার উপর প্রলেপ রূপে লাগালে আপনি কষ্ট থেকে অবশ্যই উপশম পাবেন।
  • শুধু তাই নয়, এই মিশ্রণ অল্প গুড় সহযোগে সেবন করলে জ্বরের থেকেও ত্রাণ পাওয়া যায়।

প্রস্রাবের বাধা দূর করতে:

  • অর্জুন গাছের ছাল দিয়ে তৈরি পানীয়, প্রস্রাবের বাধা দূর করে।
  • এ জন্য, অর্জুনের গাছের ছাল পিষ্ট করুন এবং দুই কাপ জলে ফোটান।
  • যখন পানি অর্ধেক হয়ে আসবে, তখন তা ঠান্ডা করতে দিন।
  • এরপর ঠান্ডা হওয়ার পরে রোগীকে পান করান। দিনে একবার খাওয়ানো হলে, এটি প্রস্রাবের বাধা দূর করে।

বাহ্যিক ব্যবহারে:

অর্জুন ছাল চূর্ণ বাহ্যিকভাবে ব্যবহার করলে মেছতা, ক্ষত, ফোড়া ও হাড় ভাঙা ভাল হয়।

অন্যান্য:

  • ৫-৬ গ্রাম অর্জুন ছাল চূর্ণ ভিজানো পানি উচ্চ রক্তচাপ, ক্ষয় কাশ, শুক্রমেহ, শ্বেতপ্রদর, রক্তপ্রদর প্রতিরোধ করতে সহায়তা করে।
  • অর্জুন ছালের গুড়া মূত্রবৃদ্ধিকারক এবং ক্যান্সারের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।
  • এছাড়া ছালের গুড়া মৌমাছির হুল ফোটানোর ব্যথা নিরাময়ে সাহায্য করে ।

অর্জুন  ছালের সেবনবিধি:

অর্জুন ছাল চূর্ণ:

৩-৪ গ্রাম পরিমাণ ১ গ্লাস দুধসহ সেবন করতে হবে|

অথবা ২০ গ্রাম আধা চূর্ণ ছাল ২ কাপ পানিতে ভিজিয়ে রেখে হেঁকে নিয়ে সেবন করা যায় ।

হোমিওপ্যাথি ৩-৪ ফোটা মাদার টিংচার পানির সাথে মিশিয়ে দিনে ৪ বার সেবন করতে হবে।

আরো পড়ুন: কুলেখাড়া পাতার উপকারিতা

অর্জুন গাছের ছালের অপকারিতাঃ

অর্জুন গাছের ছাল গর্ভবতী মহিলাদের ক্ষতি করে, তাই তাঁদের এই ছাল ব্যবহারে ব্যবহারে সতর্কতা অবলম্বন করা দরকার।

সুগার রোগীদেরও অর্জুন গাছের ছাল যথেষ্ট সাবধানে ব্যবহার করা উচিত।

একমাত্র চিকিৎসকের পরামর্শের পরেই যতটা সম্ভব অর্জুন গাছের ছাল ব্যবহার করুন।

উচ্চ রক্তচাপ থাকলে সকালে খাওয়া ঠিক নয় এবং নির্দিষ্ট মাত্রার অধিক সেবন করা উচিত নয়।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Trending

Copyright © 2017 Zox News Theme. Theme by MVP Themes, powered by WordPress.